সুজন সাহেবের পরামর্শের মধ্যে নকশা প্রণয়নের সবগুলো বিবেচ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত প্রদান করা হলো-
i. দুই রুমের মধ্যবর্তী অংশে দেয়াল আলমারি সংস্থাপন করে রুম পৃথক করা যায় ও উভয় রুমেই দেয়াল আলমারি ব্যবহার করা যায়। মধ্যবর্তী দেয়ালে আলমারি সংস্থাপন প্রথম রুমের ডানদিকে ও পরের রুমের বামদিকে দেয়াল আলমারির সম্মুখ ভাগ হবে।
ii. দেয়াল আলমারির দরজায় আয়না লাগিয়ে ও ড্রয়ার স্থাপন করে আলমারির উপযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়।
iii. ড্রয়িং রুমে বড় দেয়ালজুড়ে শোকেস ও বুকসেলফ তৈরি করা যায়।
iv. রান্নাঘর ও খাবার ঘরে ওয়াল কেবিনেট সংস্থাপন করে মেঝেতে প্রশস্ত জায়গা পাওয়া যায়। কেবিনের মধ্যে তৈজসপত্র, নানা ধরনের কৌটা, বক্স ইত্যাদি রাখা হলে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ে এবং জিনিসপত্র প্রয়োজনে সহজে পাওয়া যায়।
V. আসবাবপত্র যথার্থভাবে সংস্থাপনের ওপরই কক্ষের সৌন্দর্য নির্ভর করে। অতিরক্ত আসবাব ব্যবহার করে কক্ষের মেঝের আয়তন সংকোচন না করাই শ্রেয়।
vi. আসবাবের সংখ্যা প্রয়োজনমাফিক রেখে বা দেয়ালে আসবাব সংস্থাপন করে মেঝের আয়তন বৃদ্ধি করলে কক্ষের অভ্যন্তরে চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
vii. কক্ষের ব্যবহার অনুযায়ী কি কি আসবাবপত্র প্রয়োজন, তার একটি তালিকা করে আসবাবের সংখ্যা ও প্রকারভেদ নির্ধারণ করতে হবে।
viii. দরজা, জানালার অবস্থান এমন হওয়া উচিত যাতে আসবাবপত্র স্থাপনে বিঘ্ন না ঘটে।
ix. কক্ষের কোনার দিকে যতদূর সম্ভব অন্য কক্ষে যাতায়াত সুবিধাজনক স্থানে দরজা নির্মাণ করা উচিত।
এছাড়া প্রয়োজনে কক্ষের আকার পরিবর্তনের সুব্যবস্থা থাকা ভালো। বড় কক্ষ স্লাইড, ফোল্ডিং দরজা, পর্দা বা বোর্ডের পার্টিশন ব্যবহার করে - পৃথক করে ব্যবহার করা যায়। ফলে প্রয়োজন হলে পার্টিশন সরিয়ে বড় কক্ষ ব্যবহার করা যায়।
Related Question
View Allগৃহ আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেয়।
গ্রাম ও শহরের বাড়ির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
শহরাঞ্চলের বাড়িগুলো ইট, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয়। আর গ্রামাঞ্চলের বাড়িগুলো টিন, বাঁশ, ছন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হয়। বর্তমানে গ্রামে পাকা বাড়ি দেখা গেলেও কাঁচা বাড়ির সংখ্যাই বেশি। আর শহরে কাঁচা বাড়ি দেখাই যায় না।
চৈতালি বাড়ি নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে তার পরিবার বসবাসের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে।
বাসগৃহ আমাদের নানা চাহিদা পূরণ করে। যেমন- সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ইত্যাদি। এ সকল চাহিদা যাতে সঠিকভাবে পূরণ হয় সেজন্য বাড়ি নির্বাচন করতে হয় বিচক্ষণতার সাথে। চৈতালি একজন বিচক্ষণ মহিলা। তিনি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় পরিবারের প্রয়োজনীয়তা, আয়, সদস্য সংখ্যা, তাদের কর্মতৎপরতা ও বয়স, প্রতিবেশি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেছেন। পাশাপাশি বাড়িটি শক্ত ভূমির উপর অবস্থিত কি না এবং জমির আয়তন, আকার ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখেছেন।তিনি বাড়িটির চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সার্ভিসিং সুবিধা (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) ঠিক আছে কি না তা বিবেচনা করেছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাতায়াত সুবিধা, হাসপাতাল, ব্যাংক, মসজিদ, পার্ক ও অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পাওয়া যাবে কি না এ সকল বিষয়ের প্রতিও তিনি দৃষ্টি রেখেছেন। তাই তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িটিতে বসবাস করে আরাম পাচ্ছে ও সহজেই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে।
শাবাব তার মায়ের কাছে গৃহের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে চৈতালি তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।
গৃহ বা আবাসস্থল মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে মানুষ যেখানে বিশ্রাম ও নিরাপত্তা পায় তাই গৃহ হিসেবে পরিচিত।
চৈতালি বলেন, গৃহ আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেয়। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিরূপ পরিস্থিতি হতে রক্ষা করে গৃহ। আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আবু রক্ষা করে গৃহ। তাছাড়া গৃহ আমাদের সকলের স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজকর্ম, যেমন- খাদ্য তৈরি, পড়াশোনা, আরাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গল্পগুজব, মেহমানদারি ইত্যাদি সকল কাজ আমরা গৃহেই সম্পাদন করি। এছাড়া সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর গৃহেই আমরা আরাম অনুভব করি। সামাজিকতা ও পারিবারিক বন্ধন রক্ষার ক্ষেত্রে গৃহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গৃহ পরিবেশ থেকেই আমাদের মূল্যবোধ, লক্ষ্য ও মান নির্ধারিত হয়। গৃহ মানুষকে সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে এবং পরস্পরের বন্ধনে আবদ্ধ রেখে শক্তিশালী সমাজ ও দেশ গঠনে সহায়তা করে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি ও পরিবারের সদস্যদের সাথে মমতার বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে গৃহ। ফলে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং আত্মতৃপ্তি লাভ হয়। এ সকল প্রয়োজনীয়তার কথাই চৈতালি তার ছেলে শাবাবকে বলেন
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো তার বাসগৃহ।
পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বাসগৃহ। বাসগৃহের স্থান নির্বাচনের লক্ষণীয় বিষয়সমূহ হলো-
১. এলাকাটি এমন হবে যাতে পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. স্থানটি আবাসিক হতে হবে।
৩. স্থানটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকবে
। ৪. বাসস্থানের কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!