সাম্য
সুফিয়া কামাল
শতেকের সাথে শতেক হস্ত
মিলায়ে একত্রিত
সব দেশে সব কালে কালে সবে
হয়েছে সমুন্নত।
বিপুলা পৃথিবী, প্রসারিত পথ,
যাত্রীরা সেই পথে,
চলে কর্মের আহ্বানে কোন
অনন্ত কাল হতে
মানব জীবন! শ্রেষ্ঠ, কঠোর
কর্মে সে মহীয়ান,
সংগ্রামে আর সাহসে প্রজ্ঞা
আলোকে দীপ্তিমান।
পায়ের তলার মাটিতে, আকাশে,
সমুখে, সিন্ধু জলে
বিজয় কেতন উড়ায়ে মানুষ
চলিয়াছে দলে দলে।
(অংশবিশেষ)

Related Question
View All'সাম্য' কবিতা অনুসারে কঠোর কর্মের মাধ্যমে জীবন মহীয়ান হয়।
আলোচ্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, সাহস সঞ্চয় করে সংগ্রামী জীবনযাপন করতে পারলেই প্রজ্ঞা অর্জন করা যায়।
মানবজীবন যেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। নানা ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে মানুষকে সংসারে টিকে থাকতে হয়। আর এ লড়াইয়ের জন্য মনে থাকা চাই অসীম সাহস। শত প্রতিকূলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয় প্রজ্ঞা। আলোচ্য পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে এ বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অমিত সাহেব একতার শক্তিতে বিশ্বাসী নন, যা 'সাম্য' কবিতার আহ্বানের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
সুফিয়া কামাল রচিত 'সাম্য' কবিতায় মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির কথা বলা হয়েছে। মানুষের এই শক্তিকে একত্রিত করতে পারলে সৃষ্টি হয় অফুরন্ত সম্ভাবনা। এই শক্তির জোরেই মানুষ পৃথিবীতে তার বিজয়গাথা রচনা করেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অমিত সাহেব পাঠাগার স্থাপনের মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ ধরনের কাজের জন্য চাই সমষ্টিগত প্রচেষ্টা। কিন্তু অমিত সাহেব কারো সহযোগিতা গ্রহণ করতে রাজি হন না। 'সাম্য' কবিতায় প্রকাশিত ঐক্যবদ্ধতার আহ্বানের সাথে তাঁর মনোভাব সম্পূর্ণ বিপরীত।
উদ্দীপকে মানুষের সম্মিলিত শক্তিতে বিজয় সূচিত করার কথা বলা হয়েছে, যা 'সাম্য' কবিতার মূলকথা।
'সাম্য' কবিতায় সুফিয়া কামাল পৃথিবীতে মানুষের অগ্রযাত্রায় সম্মিলিত কর্মপ্রয়াসের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একতার শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষ পৃথিবীতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এই শক্তিতেই শক্তিমান হয়ে সমাজে মানুষের অবস্থান সমৃদ্ধ ও সমুন্নত হয়েছে।
উদ্দীপকে একটি মহৎ কাজ সম্পাদনে মানুষের ঐক্যবদ্ধতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। অমিত সাহেব একক প্রচেষ্টায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গ্রামের সব শ্রেণির মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
প্রকৃতপক্ষে যেকোনো বড়ো কাজ সম্পাদনের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। যেকোনো উদ্যোগে যদি সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করা যায় তবে তা খুব সহজে ফলপ্রসূ হয়। উদ্দীপকের গ্রামবাসীর ভূমিকা এ দিকটিকেই তুলে ধরে। 'সাম্য' কবিতায় মূলত সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের পরিবেশ সৃষ্টির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব 'সাম্য' কবিতারই প্রতিরূপ।
সম্মিলিত সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ বিজয় কেতন উড়িয়ে চলছে।
বড়ো কোনো কাজ কেউ একা করতে পারে না। তার জন্য দরকার মানুষের মিলিত অংশগ্রহণ। সকলকে নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ উন্নত হয়েছে। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পৃথিবীর অনেক মহৎ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্মিলিত সাধনা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ এই পৃথিবীতে তার বিজয় ঘোষণা করেছে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দের মধ্য দিয়ে মানুষ বিজয় কেতন উড়িয়ে চলছে।
উদ্দীপকে 'সাম্য' কবিতার একতার শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
'সাম্য' কবিতায় মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে একতার শক্তিতে রূপান্তর করার কথা বলা হয়েছে। কোনো বড়ো কাজ কেউ একা করতে পারে না। সেজন্য প্রয়োজন মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, অসীম সাহস, সম্মিলিত সাধনা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ এই পৃথিবীতে তার বিজয় অর্জন করেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তিনজনকে একজন ধরা হয়েছে। তিনজন মিলে মিশে এক হয়ে গেছে। তাদের মতে তিনজন একজন হলে শক্তি বাড়ে। শক্তি বৃদ্ধি পায়। তখন লড়াইয়ে শত্রুরা হারে। অর্থাৎ তিনজনের একতার মধ্য দিয়ে যে সম্মিলিত শক্তি তৈরি হয় তা দিয়ে শত্রুর সাথে মোকাবিলা করে জয় লাভ করা যায়। 'সাম্য' কবিতায়ও কবি এই কথাটিই বলতে চেয়েছেন। শত শত হাত এক সাথে মিলে গেলে সফলতা আসবেই। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে 'সাম্য' কবিতার একতার শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!