অন্যায় বা অবৈধ কাজ না করার নামই সততা।
মানব চরিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সততা। আমাদের সকলের মঙ্গলের জন্য সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যে সততা থাকা একান্ত প্রয়োজন। কেননা সৎ জীবনযাপনের মাধ্যমে সকলের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাজ - গঠন করা যায়।
উদ্দীপকের সুবীরের সততা ধর্মেরই অঙ্গ- কথাটি যথার্থ ও সঠিক।
সততা হচ্ছে কতকগুলো গুণের সমস্টি। এসব গুণের মধ্যে আছে - সত্যনিষ্ঠা, আন্তরিকতা, স্পষ্টবাদিতা, সদাচার, লোভহীনতা প্রভৃতি। কোনো অন্যায় বা অবৈধ কাজ না করাই হলো সততা। যিনি - সত্যের পূজারি, সত্য কথা বলেন, সৎ পথে চলেন, কখনো সত্যকে গোপন করেন না, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি সততার গুণে গুণান্বিত। সততা ধর্মের অঙ্গ। সততাই মানুষকে অন্য মানুষের নিকট বিশ্বস্ত করে তোলে। সততার গুণেই মানুষ সমাজে মহান বলে আখ্যায়িত হয়ে থাকে। যেসব গুণ মানুষকে মহৎ, পুণ্যবান ও - আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তাদের মধ্যে সততার গুরুত্ব সর্বাধিক। উদ্দীপকের সুবীর টাকা ভর্তি যে ব্যাগ পেয়েছিল সেই ব্যাগ তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার সততার প্রকাশ ঘটেছে। তাই সুবীরের সততা ধর্মেরই অঙ্গ।
সুবীরের সততার পুরষ্কারটি আমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের সততার পুরস্কার উপাখ্যানের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
আমার পঠিত পাঠ্যবইয়ে সততার পুরস্কার নামক উপাখ্যান থেকে সততার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। জীবনকে সার্থক করে গড়ে তোলার জন্য সততা একটি উৎকৃষ্ট পথ। সততা না থাকলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। সততা মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সৎ মানুষকে সকলেই শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। এ বিশ্বে যত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁরা সকলেই সততার ধারক ও বাহক। সততার জন্য তাঁরা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। সত্য প্রকাশ করাই তাঁদের জীবনের ব্রত। সততার পুরস্কার উপাখ্যান থেকে এ শিক্ষাগুলো পাওয়া যায়। একইভাবে উদ্দীপকের ঘটনা থেকেও এ শিক্ষাগুলো পাওয়া যায়। উদ্দীপকের সুবীর যে টাকার ব্যাগটি পেয়েছিল সেটি তার প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে সততার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।
Related Question
View Allরামায়ণের প্রধান চরিত্র শ্রীরামচন্দ্র।
তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। সকলে মিলে, পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করে। তাই তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিজীবনে উন্নতি করা যায় না। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হয়। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বলা হয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিতিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
দীননাথের চরিত্রের সাথে রামচন্দ্রের ত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ত্যাগ বলতে কেনোকিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
রামচন্দ্র ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। তিনি ত্রেতাযুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃসত্য রক্ষা করার জন্য বনে গমন করেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে। রাজপোশাক পরিত্যাগ করে কম্বল পরিধান করে বনে গমন করেন। এটা ছিল ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের দীননাথের চরিত্রে রামচন্দ্রের ত্যাগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ দীননাথ তার নিজের সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে সেরূপ এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
যদীননাথ তার সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে ত্যাগের এক মহা নজির স্থাপন করে।
ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ হচ্ছে মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক দিক। ত্যাগ মানুষকে করে মহান, সমাজ সংসারে এনে দেয় শান্তির পরশ। সেরূপ এক শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছিল মনোরমার। নীলরতন ও মনোরমার সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শান্তি ছিল না। কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিল না। এজন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করত। বাড়ির কর্মচারী দীননাথ এ বিষয়টি লক্ষ করে। তার দুটি সন্তান। দীননাথ তার স্ত্রীকে রাজি করিয়ে তার একটি সন্তানকে মনোরমার কোনে তুলে দেয়। তাদের সংসারে শান্তির আবহ বিরাজ করে। কিন্তু তাদের এ শান্তির মূলে ছিল দীননাথের ভূমিকা। কারণ সে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মনোরমার কোলে দিয়ে যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সত্যিই বিরল।
শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
