মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে যে নতুন কোষ তৈরি হয় তাই অপত্য কোষ।
জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA-এর অংশকে জিন বলে। ডিএনএ অণু জিনের রাসায়নিক রূপ। যেসব জীবে ডিএনএ থাকে না, কেবল আরএনএ থাকে, সেক্ষেত্রে আরএনএ জিন হিসেবে কাজ করে। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসেবে কাজ করে বংশগতির ধারা, অক্ষুণ্ণ রাখে।
উদ্দীপক অনুযায়ী, সুমনের বর্ণিত বিশেষ ধাপটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের চতুর্থ ধাপ। এ ধাপটি অ্যানাফেজ ধাপ নামে পরিচিত। যেখানে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়। নিচে অ্যানাফেজ ধাপের সচিত্র বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
২. ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে।

৩. এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালার V, L, J অথবা। আকৃতি বিশিষ্ট হয়।
উদ্দীপকে আলোচিত কোষ বিভাজন পদ্ধতিটি মাইটোসিস কোষ বিভাজন। যা একটি সমীকরণিক বিভাজন। নিচে যুক্তিসহকারে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষের এক ধরনের বিভাজন পদ্ধতি।
সাধারণত উন্নত শ্রেণির প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। এ প্রক্রিয়া মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির সমগুণসম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং অপত্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। এছাড়াও মাইটোসিস বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুইভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। এ কারণে মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
সুতরাং উদ্দীপকের কোষ বিভাজন পদ্ধতি অর্থাৎ মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা যাবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!