যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম Mycobacterium tuberculosis ।
কোনো রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর জীবদেহে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। তা থেকে পরিত্রাণের জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে বলা হয় প্রতিকার ব্যবস্থা। এ সময় চিকিৎসার পাশাপাশি ঔষধ সেবন ও ডাক্তারের বিভিন্ন পরামর্শ পালন করতে হয়। অন্যদিকে যে কোনো রোগের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করলে রোগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না; ফলে রোগ পরবর্তী জটিলতা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাই রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস। নিম্নে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে সুমন ও রাহাত-এর রোগ লক্ষণ দেখে বোঝা যায় তারা যথাক্রমে অ্যাজমা ও যক্ষ্মা রোগে ভুগছে। এ রোগ দুটির মধ্যে যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য।
বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন- চিংড়ি, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ ইত্যাদি খেলে, দূষিত বায়ু, ফুলের রেণু ইত্যাদির কারণে যেমন এ্যাজমা সৃষ্টি হয় তেমনি ভাইরাস জনিত বা বায়ুদূষণ ও ধূমপানের কারণে স্থায়ী এ্যাজমা সৃষ্টি হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের সাবধানতা, সতর্কতা বা নিয়মিত ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যক্ষ্মা রোগটি Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ঘটে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঔষধ সেবন করলে এ রোগটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা হলেও এটি নিরাময়যোগ্য। এ রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দেওয়া উচিত। সুতরাং আলোচনা থেকে বোঝা যায় এ্যাজমা ও যক্ষ্মার মধ্যে যক্ষ্মা রোগ নিরাময়যোগ্য।
Related Question
View Allরক্তের লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন বহন করে।
ট্রাকিয়া হলো মানব শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ। এটি খাদ্যনালির সম্মুখে অবস্থিত একটি ফাপা নালি। এই নালিটি স্বরযন্ত্রের নিম্নাংশ থেকে শুরু করে কিছুদূর নিচে গিয়ে দুভাগে বিভক্ত হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে।
P চিত্রের মাধ্যমে শ্বাসক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এখানে নাসারন্দ্রের মাধ্যমে পরিবেশ হতে ফুসফুসে প্রশ্বাসের ফলে ০₂ গৃহীত হয় ও নিঃশ্বাসের ফলে CO2 ফুসফুস হতে পরিবেশে নির্গত হয়। পরিবেশের বায়ু নাসাপথের ভিতর দিয়ে ফুসফুসের বায়ুথলি পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। স্নায়ুবিক উত্তেজনার ফলে মানুষের পিঞ্জরাস্থির মাংসপেশি ও মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়। ফলে মধ্যচ্ছদা নিচের দিকে নেমে যায় এবং বক্ষগহ্বর প্রসারিত হয়।
বক্ষগহ্বরের আয়তন বেড়ে গেলে বায়ুর চাপ কমে যায়, ফলে ফুসফুসের ভিতরের বায়ুর চাপ বাইরের বায়ুর চাপের চেয়ে কমে যায়। বক্ষগহ্বরের ভিতর ও বাইরের চাপের সমতা রক্ষার জন্য প্রশ্বাস বায়ু O2 ফুসফুসের ভিতর সহজে প্রবেশ করতে পারে। এরপর পেশির বিপরীত ক্রিয়ার ফলে মধ্যচ্ছদা' পুনরায় প্রসারিত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায় এবং বক্ষগহ্বরের আয়তন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এতে ফুসফুসের ভিতরের বায়ুর চাপ বেড়ে যায়, ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস নিঃশ্বাস রূপে পরিবেশে নির্গত হয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত শ্বাসকার্য চলতে থাকে।
ফলে শ্বাস ক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ হয় না। ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুর থলি বা বায়ু প্রকোষ্ঠ, সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও ধমনি থাকে। সব সময় বাতাসে পূর্ণ থাকা বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা প্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ুথলির শাখা নালি দিয়ে সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করে। বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিক নালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। বায়ুথলির গঠন এরূপ যে এতে বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠে ও পরে আপনা আপনি সংকুচিত হয়। আবার বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এতই পাতলা যে, এর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে।
উদ্দীপকের A চিহ্নিত অঙ্গটি হলো মানব ফুসফুস। কোষে গ্যাসীয় বিনিময়ে ফুসফুসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুসের মাধ্যমে মানবদেহের শ্বসন প্রক্রিয়া ঘটে থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলি ও রক্তের চাপের পার্থক্যের জন্য অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে। ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দু'ভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়। বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনীর মাধ্যমে অস্থায়ী যৌগ গঠন করে, যা অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে পরিচিত। অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে অক্সিজেন সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন মুক্ত অক্সিজেন হিমোগ্লোবিন
রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ, কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। খাদ্যের জারণ বিক্রিয়ায় কোষে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রথমে কোষ-আবরণ ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে এবং লসিকা থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রধানত বাইকার্বনেট রূপে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়। এভাবে ফুসফুসের মাধ্যমে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে।
মানবদেহের বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বর পৃথককারী পেশিবহুল পর্দাই হলো মধ্যচ্ছদা।
মানবদেহের শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু নাসারন্ধ্র দিয়ে প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুস হতে নাসারন্দ্রের মাধ্যমে পরিবেশে নির্গত হয়। এভাবে মানবদেহে প্রতিনিয়ত শ্বাসকার্য চলতে থাকে যা বহিঃশ্বসন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
