বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলায় পাহাড় রয়েছে।
বান্দরবান ও সিলেট জেলায় পাহাড়-পর্বত রয়েছে। তবে বান্দরবান জেলায় পাহাড়ের উচ্চতা বেশি কিন্তু সিলেট জেলায় এর উচ্চতা বান্দরবান জেলার তুলনায় অনেক কম। সিলেট জেলায় পর্বত নেই তবে বান্দরবান জেলায় পর্বত রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত দুটিই বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। সিলেট জেলায় পাহাড় ও টিলা রয়েছে। এ অঞ্চলে কোনো পর্বত নেই।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলার এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষ পাহাড়িয়া এলাকার অধিবাসীরা জুম চাষ করে থাকে। এ চাষ সাধারণত পাহাড় অঞ্চলে করা হয়ে থাকে।
বন কেটে কৃষিকাজের উপযোগী করে জমির উর্বরতাশক্তি খর্ব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে জমিতে চাষাবাদ করা হয়, তাকে জুম চাষ বলা হয়। এ পদ্ধতিতে একই জমিতে দীর্ঘসময় ধরে চাষাবাদ করা হয় না।
সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসিগণ 'জুম' পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকে। তারা বন কেটে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে কৃষিকাজের জন্য জমি তৈরি করে নেয়। কিছুদিন চাষ করার পরে মাটির উর্বরতাশক্তি যখন কমে যায় তখন তারা অন্যত্র চলে যায় এবং পূর্বের ন্যায় বন পরিষ্কার করে কৃষিকাজ শুরু করে। এভাবে স্থান পরিবর্তন করে কৃষিকাজ করার পদ্ধতিকে 'জুম চাষ' বলে।
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে নদীবিধৌত উর্বর পলিমাটি দ্বারা। নদীবিধৌত উর্বর পলিমাটি এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা সহজ-সরল এবং কৃষিকাজের উপযোগী।
বাংলাদেশের প্রায় ৯০ ভাগ ভূমি সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির আওতাভুক্ত। পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি নদী এবং এদের উপনদী ও শাখানদীবাহিত পলি দ্বারা এ অঞ্চল গঠিত। এ পলিমাটি উর্বরতাশক্তি বৃদ্ধি করে। এজন্য এ অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর। উর্বর মৃত্তিকার কারণে এ অঞ্চল কৃষিকাজে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। ধান ও পাট এ অঞ্চলের প্রধান ফসল। এখানকার বিল ও হাওরগুলোতে প্রচুর মাছের চাষ করা হয়। দেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর উপকূলে খুলনা ও পটুয়াখালীর নিম্ন সমতল ভূমি এলাকায় প্রায় ১৬১ কিমি. জুড়ে গড়ে উঠেছে সুন্দরবন অঞ্চল। এখানে প্রচুর নরম কাঠ, পশুপাখি, মাছ ইত্যাদি পাওয়া যায়।
সর্বোপরি কৃষিকাজের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। অর্থাৎ সমতল ও উর্বর সমভূমি, কৃষিকাজের উপযোগী পরিবেশ, মৎস্য ও বনজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ-সরল করেছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে মানব বসবাস উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করার কারণে বসতির আধিক্য পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূপ্রকৃতিটি হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের পাহাড়ী এলাকাগুলো নিয়ে টারশিয়ারি অঞ্চল গঠিত। সম্ভবত টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় মিয়ানমারের দিক হতে আগত গিরিজনি আলোড়নের ধাক্কায় ভাঁজগ্রস্ত হয়ে এসব পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এদের টারশিয়ারি পাহাড় বলা হয়। এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মায়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ী অঞ্চলের আয়তন ১০,৩২৪ বর্গ কি.মি.। এ পাহাড়গুলো বেলে পাথর, স্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত। পাহাড়গুলোর গায়ে
ক্ষুদ্র-বৃহৎ বৃক্ষরাজির বন এবং অসংখ্য ঝোপজঙ্গল রয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় পাহাড় নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অবস্থিত। যা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এ অঞ্চলটি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক', 'খ' ও 'গ' ভূপ্রকৃতি হলো যথাক্রমে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চল। এদের মধ্যে সাম্পতিক কালের প্লাবন সমভূমির ভূপ্রকৃতি সর্বাধিক।টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে বাকি অঞ্চলগুলো যেমন- দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার এবং নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার। এই অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি ছড়িয়ে আছে। এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওর বলে। এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে হ্রদের আকার ধারণ করে। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভুমি খুবই উর্বর।
ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সুউচ্চ শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের স্থানচ্যুতি ঘটে। ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কখনো নিম্নগামী হয়।
চ্যুতি বরাবর ঊর্ধ্বগামী শিলাস্তূপকে স্তূপ পর্বত বলে। এ ধরনের পর্বতের অন্তত একপাশে উঁচু কোণবিশিষ্ট স্বাভাবিক চ্যুতি থাকে। ব্ল্যাক ফরেস্ট, ভোজ, নীলগিরি ও আন্ন্যামালি এ পর্বতের অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!