সুমন যে বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিল সেখানে সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা ছিল, যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র, ক্ষমতা, সামাজিক রীতিনীতি, সামাজিক সমস্যা ইত্যাদি। তাই সুমন তার অর্জিত জ্ঞান গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য গ্রামে গেলো। কিন্তু কাজের শুরুতেই সমাজের মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা এবং ক্ষমতার দম্ভ তাকে বাধাগ্রস্ত করল। তবু দমে না গিয়ে সে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে যুবকদের সচেতন করে তুলল। কারণ সে ভেবেছে, ঐ জ্ঞানই মানুষকে সচেতন করে তুলবে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তা কার্যকর হবে। 

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

সমাজস্থ মানুষের ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করায় সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়। 

সমাজবিজ্ঞান সমাজ কাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভূমিকা, কার্যাবলি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে। এছাড়াও সমাজের শ্রেণিবিন্যাস, শ্রেণিগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক, উৎপাদন যন্ত্রের সাথে তাদের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়েও আলোচনা করে। অর্থাৎ, সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও সমাজ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় ও তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে থাকে। এজন্যই সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনের পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। উক্ত বিষয়টির গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনেস্কোর ভূমিকা অপরিসীম।

১৮৩৯ সালে ফ্রান্সে সমাজবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে উত্ত বিষয়টির যাত্রা শুরু হয় মূলত বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। শিল্প বিপ্লবোত্তর যুগে সমাজে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে সুদূর ইউরোপে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ লাভ হয়। এ পটভূমিতে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী লেভি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন এবং সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন-পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান এবং সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ভূমিকা অপরিসীম।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সুমনের ভাবনা বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকেই তুলে ধরে- উক্তিটি যথার্থ। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা যেমন- অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা প্রভৃতিতে জর্জরিত। সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান আমাদেরকে আত্মসচেতন, শ্রেণি সচেতন, সমাজ সচেতন এবং সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। অর্থাৎ, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের পরিচয় কী, সমাজে আমাদের অবস্থান, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান জ্ঞান দান করে। এছাড়াও সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যাবলির গভীরতা অনুধাবন করা এবং উক্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও সমাজবিজ্ঞান জ্ঞান দান করে থাকে। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা আছে। 

উদ্দীপকে সুমন গ্রামের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার পঠিত বিষয়ের জ্ঞান প্রয়োগ করতে গিয়ে প্রথমে বাধাপ্রাপ্ত হলেও, সে দমে না গিয়ে উক্ত বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই গ্রামের যুবকদের সচেতন করে তোলে এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে আত্মপ্রত্যয়ী হয়। কারণ সুমন জানত যে, একমাত্র উক্ত বিষয়টি মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারবে যা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
491

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজের মানুষের অবদান ও অধিকার সম্পর্কে জানা যায়। শুধু সামাজিক অধিকারই নয়, সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান আমাদের জ্ঞান দান করে। আর সে কারণেই বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন জনসংখ্যা সমস্যা, নিরক্ষরতা, অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। বস্তুত সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের দিক নির্দেশনা দেওয়া আমাদের সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসব কর্তব্য পালনের জন্য অর্থাৎ সমাজ সংস্কারের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান একান্ত প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারার পরিচয় ফুটে উঠেছে। কেননা ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞান নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উক্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক এ কে নাজমুল করিম ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
356
উত্তরঃ

উত্ত দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না। এর সপক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে এখানে সম্মান কোর্স চালু হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে সমাজতত্ত্ব নামক আলাদা একটি বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর পরবর্তী দশকে ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হচ্ছে।

সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ বিষয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও অবদান রয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
771
উত্তরঃ

পঠন পরিসর ও উদ্দেশ্যের কারণে সমাজবিজ্ঞানকে মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান বলা হয়। 

সামাজিক প্রয়োজন ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকেই সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা প্রবাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ পরিবারের কথা বলা যায়, পরিবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- একক পরিবার, যৌথ পরিবার, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার, মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ইত্যাদি। সমাজবিজ্ঞান সবধরনের পরিবারকেই স্বীকৃতি দেয়। আর এ কারণেই সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 years ago
1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews