কাজী নজরুল ইসলাম নর-নারী উভয়কেই মানুষ হিসেবে দেখেন।
পীড়ন করলে পরবর্তীকালে পীড়নকারীকে পীড়া বা শাস্তি ভোগ করতে হয়, যা আলোচ্য অংশে প্রকাশিত হয়েছে।
কবি এখানে কালের ধর্মকে নির্দেশ করেছেন। যদি কোনো এক কালে কাউকে শাস্তির জন্য কারাগার তৈরি করে, তাকে পীড়ন করে, তাহলে পরবর্তীকালে সেই ব্যক্তিকেই ওই কারাগারে শাস্তি ভোগ করতে হয়। কবি নারী-পুরুষের সাম্যের দিকটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলোচ্য চরণের অবতারণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন যে, পুরুষ যদি নারীকে পীড়ন করে তবে সে পীড়ন একদিন পুরুষকেও ভোগ করতে হবে।
উদ্দীপকের সুমন সাহেবের মধ্যে 'নারী' কবিতার নারীর প্রতি বৈষম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
নারীরা পুরুষের সমান কাজ করলেও সঠিক মূল্যায়ন পায় না। আমাদের সমাজব্যবস্থা এবং দৃষ্টিভঙ্গিই আগে এমন ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অন্যরকম। নারীরা এখন স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের অধিকার এবং প্রাপ্য সম্মান আদায় করে নিতে শিখেছে।
উদ্দীপকের সুমন সাহেবের দুই ছেলে-মেয়ে একই স্কুলে পড়ে। তিনি ছেলের জন্য গৃহশিক্ষক রেখে দিলেও মেয়ের ব্যাপারে উদাসীন। তার এই বৈষম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ 'নারী' কবিতায়ও পরিলক্ষিত হয়। কবি এখানে দেখেছিলেন যে যুগে যুগে কীভাবে নারীর প্রতি আমাদের সমাজ বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। কবির মতে, সভ্যতা নির্মাণে নারী-পুরুষের সমান অবদান থাকলেও ইতিহাসে শুধু পুরুষের অবদানের কথাই লেখা হয়েছে। নারীরা সেখানে চরম উপেক্ষিত। কবিতায় প্রকাশিত নারীর প্রতি এই বৈষম্যের দিকটিই সুমন সাহেবের আচরণে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যই যেন 'নারী' কবিতার প্রতিধ্বনি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীর প্রতিটি কল্যাণমূলক কাজের পিছনে নারী-পুরুষের অবদান সমান। নারী যদি পুরুষের পাশে না দাঁড়াত, তাদের অনুপ্রাণিত না করত তবে কখনই পুরুষরা কোনো অভিযানে জয়ী হতে পারত না।
উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে সাম্যবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি সুমন সাহেবের নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করে বলেন ছেলে-মেয়ের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করা ঠিক নয়। কারণ দুজনেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এ বক্তব্য যেন 'নারী' কবিতরাই প্রতিধ্বনি। কেন না আলোচ্য কবিতায় কবি নারীর প্রতি বৈষ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
'নারী' কবিতায় কবি নর-নারী উভয়কেই মানুষ হিসেবে দেখেছেন। তিনি জগতে নারী-পুরুষের সমান অধিকারে আস্থাবান। কবির মতে, পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী-পুরুষের অবদান সমান। তাই নারী-পুরুষ সবাইকে সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে হবে সম্মিলিতভাবে। কবিতার এ বক্তব্য উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে কবি বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলেছেন।
এক সময় নারীরা ছিল অবরোধবাসিনী। নারীদের সঙ্গে দাসীর মতো আচরণ করা হতো। অনেক দিন আগে সে যুগ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সভ্যতার অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর পেছনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান কম নয়। শিক্ষা ও সচেতনতায় যুগেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তবুও নারীসমাজের যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলতে কবি এ কথাই বুঝিয়েছেন।
আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি বর্তমানে নারীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।
উদ্দীপকের আনোয়ারা জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ কৃতিত্বের সাথে শেষ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সহযোগিতাও পেয়েছেন পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে। নারী বলে কোথাও তাকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। 'নারী' কবিতায় কবি এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। কবি নারী-পুরুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী। পুরুষের অবদানের পেছনে থাকে নারীর ত্যাগ। মানুষ যেন ত্যাগকে সম্মান করে তাই তিনি চান। কারণ কবি মনে করেন নারীকে যে পুরুষ ঠকাবে সেই একদিন ঠকবে। তাই বলা যায় যে, আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বাত্ময়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে নারী আর পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আনোয়ারা নামে একজন নারীর কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে। তিনি নারী হয়েও জাতিসংঘসহ বিশ্বের নানা দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি অন্য পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন। অন্যদিকে 'নারী' কবিতার কবি জগতে নর ও নারীর সাম্য বা সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, বিশ্বে মানুষের শাশ্বত কল্যাণে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে, তার অর্ধেক করেছে নারী আর অর্ধেক করেছে পুরুষ। আবার বিশ্বে যত পাপ-তাপ ও বেদনার অশ্রুবারি এসেছে, তাতেও নারী-পুরুষের সমান ভাগ রয়েছে।
উদ্দীপকে নারীর মর্যাদা ও পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়টি আলোচ্য কবিতার কবি প্রত্যাশা করেন। তার প্রত্যাশার প্রতিফলন উদ্দীপকে ঘটলেও নারী কবিতায় আরও বেশি বাঙ্ঘয়। কারণ সেখানে তিনি শুধু নারীর অধিকার নয়, তার অবদান ও সভ্যতায় দৃঢ় অবস্থার কথাও প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বেশি বাঙ্ময়। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
"বিজয়-লক্ষ্মী নারী' অর্থ হচ্ছে জয়ের নিয়ন্তা যে নারী বা দেবী।
'নারী' কবিতায় কবি সাম্যের গান বলতে মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষের সম-অধিকার ও সম-মর্যাদাকে বুঝিয়েছেন।
পৃথিবীতে সভ্যতার যে বিকাশ ঘটেছে তার নেপথ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কবি এ বিষয়টি উদাহরণসহ 'নারী' কবিতায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন যে, সমাজের মানুষ নারীদের অবদানকে অস্বীকার করতে চায়। তাদের যোগ্য মর্যাদা না দিয়ে অবহেলা করে। প্রকৃতপক্ষে তা করা অন্যায়। কারণ, পৃথিবীর শুরু থেকেই নারী নানাভাবে পুরুষকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছে। সমাজ, সভ্যতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। এসব দিক বিচারে কবির কাছে তাই নারী এবং পুরুষের কর্ম, মূল্য ও মর্যাদার মধ্যে কোনো বিভেদ বা পার্থক্য নেই। তারা মানুষ হিসেবে অভিন্ন মর্যাদার অধিকারী। কবি সমঅধিকারের চেতনাকেই এখানে সাম্যের গান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!