নানা ধরনের মশলা (জৈব অম্ল, চিনি, লবণ, মরিচ) যোগ করে তেল বা ভিনেগারে ডুবানো অবস্থায় প্রস্তুত খাদ্যই (ফল, সবজি) হলো আচার।
ফল কিংবা শাকসবজি সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে সেগুলো কেটে ২-৫ মিনিট ফুটন্ত পানিতে ডুবিয়ে ও পরে পানি ঝরিয়ে হিমায়িত করা হয়, একে ব্লাঞ্চিং বলে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ফল কিংবা শাকসবজির এনজাইম নিষ্ক্রিয় করা হয়। এতে ফল/সবজির টিস্যুর ভেতরে থাকা বাতাস, অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাদ এবং গন্ধ অপসারিত হয়। উত্তপ্ত ফুটন্ত পানিতে ডুবানো অথবা সরাসরি বাষ্প ইনজেকশন এ দুটি পদ্ধতিতে ব্লাঞ্ছিং করা যায়।
উদ্দীপকের বর্ণিত মুখরোচক হালকা খাবারটি হলো আলুর চিপস। নিচে এই চিপস তৈরির পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
i. প্রথমে আলুগুলো ভালো করে ধুয়ে বঁটি অথবা ছুরি দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে ২% লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
ii. এবার আলুগুলো স্লাইসার দিয়ে ১.৫ মিমি মাপে গোল করে কেটে আবারও লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
iii. স্লাইসগুলো লবণ পানি থেকে উঠিয়ে পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে গরম পানিতে (৯০০ সে. তাপমাত্রায় ৩-৪ মিনিট) ব্লাঞ্চিং করতে হবে।
iv. স্লাইসগুলো গরম পানি থেকে উঠিয়ে কেএমএস মিশ্রিত (০.৫ গ্রাম/লিটার) ঠান্ডা পানিতে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।
V. এবার আলুর স্লাইসগুলো পানি থেকে ঝাঝরা চামচ দিয়ে উঠিয়ে অ্যালুমিনিয়াম অথবা বাঁশের চালুনিতে তুলে নিতে হবে।
vi. পানি ঝরে গেলে আলুর স্লাইসগুলো ফুটন্ত সয়াবিন তেলে/পাম ওয়েলে ডুবিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে।
vii. আলুর চিপসগুলো তেলমুক্ত করার জন্য পরিষ্কার কাগজ/টিস্যু পেপারের উপর কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে।
viii. এবার মরিচের গুঁড়া, বীট লবণ ইত্যাদি মিশিয়ে পরিবেশন করলেই হয়ে গেল।
ix. সংরক্ষণ করতে চাইলে পলিপ্রোপাইলিন প্লাস্টিকের বয়ামে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে।
উপরিউক্তভাবে আলুর চিপস তৈরি করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়।
উদ্দীপকের সুমাইয়া ও সিয়ামের মামা চিপস তৈরির মাধ্যমে আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
খাদ্যদ্রব্যের গুণগতমানের কোনো পরিবর্তন না করে এগুলোর আকৃতি ও প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে ভৌত ও রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করাকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বলে। এর মাধ্যমে খাদ্যকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।
ফল বা শাকসবজি রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে এগুলোর পুষ্টিমান ও গুণাগুণ কমে এবং একসময় পচে যায়। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যেমন- আচার, মোরব্বা, জ্যাম, জেলি, চিপস, ফ্রাই, সস ইত্যাদি। সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবধরনের মৌসুমে ফল ও শাকসবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব। আমাদের দেশে এ পদ্ধতি অবলম্বন করে শাকসবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও করা যায়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সাহায্য করে। অতএব, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য ঘাটতি পূরণ ও উৎপাদিত ফল ও সবজির যথাযথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুমাইয়া ও সিয়ামের মামার সিদ্ধান্তটি যথাযথ ছিল।
Related Question
View Allকারখানার কাঁচামাল যোগান দেওয়ার জন্য যে সকল ফসল উৎপাদন করা হয় তাদেরকে শিল্প ফসল বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে যে সভা বা বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উঠোন বৈঠক আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ তথা কৃষি তথ্য সরবরাহ ও কৃষি সেবার একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। এই কৌশলের একটি প্রধান সুবিধা হলো যে এতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ কৃষক স্থানীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তারা সেখানে • নিঃসংকোচে তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ফাহাদ বিভিন্ন কৃষি তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিষয়ক নানান তথ্য ও সেবা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করে থাকে। ফাহাদ তার বাগানের ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য নেয়। এই ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল কৃষি ফার্ম, পলিটেকনিক ও কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ করা হয়। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি 'এ টু আই' প্রকল্প, কৃষি তথ্য সংস্থা, কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সেন্টারসমূহ হতেও সে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়াও সে কৃষিতথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ইন্টারনেটের থেকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উল্লিখিত উৎসগুলো ছাড়াও ফাহাদ অভিজ্ঞ কৃষক, উঠোন বৈঠক বা কৃষক সভা থেকেও ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদ তাই এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদকে তথ্য সার্ভিস সংস্থা প্রক্রিয়াজাত করে ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণ করতে পরামর্শ দেয়।
বিভিন্ন উপায়ে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়। যেমন- চিনি ও অ্যাসিড সংযোজন করে জ্যাম, জেলি, মোরব্বা ও ক্যান্ডি তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি সংরক্ষণ করা। প্রক্রিয়াজাতকৃত এইসব খাদ্যকে বেশ সুগন্ধযুক্ত ও দর্শনীয় করার জন্য অনেক রকম খাদ্য রং ও এসেন্স মিশ্রিত করা হয়।
জেলি তৈরির সময় ফলের রস ব্যবহার করা হয়। মিহি চালনী বা কাপড়ের সাহায্যে ফলের শাঁসকে ছেঁকে নেওয়া হয় বলে ফলের আঁশ বাদ পড়ে যায়। জ্যাম তৈরির সময় ফলের পাল্প ব্যবহার করা হয়। যে সকল ফল বা সবজিতে পেকটিন কম সে ক্ষেত্রে পালপের সাথে পেকটিন যোগ করে নেওয়া হয়। এছাড়া জ্যাম ও জেলির সাথে সাইট্রিক অ্যাসিডও মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফল বা সবজির বড় টুকরা চিনির সিরায় ডুবিয়ে সিরা নিংড়িয়ে মোরব্বা তৈরি করা হয়। রকমারি মশলা মেশানো ফল বা সবজিকে খাওয়ার তেল বা ভিনেগারে ডুবিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আচার তৈরি করা হয়। মশলা হিসেবে আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ, মেথি, কালজিরা ব্যবহার করা হয়। লবণ ও চিনি মিশিয়ে চাটনি তৈরি করা যায়। বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে চাটনির স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানো হয়।
উল্লিখিত যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করেই ফাহাদ তার ফল ও শাকসবজিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।
যে সকল ফসল উদ্যানে বেড়াযুক্ত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠে তাকে সামাজিক বন বলে। সামাজিক বনে বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়। সামাজিক বন মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ, ভূমিক্ষয় রোধ হয়, কুটির শিল্প তৈরির কাঁচামাল, ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ ও জ্বালানি কাঠ পায়। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। অতএব বলা যায়, সামাজিক বন জনগণের উপকার করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!