কোনো প্রাণীর আত্মরক্ষার জন্য তার ছদ্মবেশ ধারণ করাই হলো Mimicry
বিভিন্ন জৈবিক নমুনা থেকে DNA সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণপূর্বক বিশেষ কোনো কাজে ব্যবহারের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিকে বলা হয় DNA টেস্ট। সঠিকভাবে অপরাধী শনাক্তকরণের জন্য DNA টেস্ট করা হয়। এছাড়া বংশগত রোগের চিকিৎসায়, অনাকাঙ্খিত সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্যও DNA টেস্ট করা হয়। এসকল ক্ষেত্রে DNA টেস্ট সঠিক ফলাফল প্রদান করে থাকে।
সুমিত যেহেতু সবুজ ও লাল রং পৃথক করতে পারেন না, সেহেতু তিনি বর্ণান্ধতায় ভুগছেন। এটি একটি বংশগত রোগ। এ বর্ণান্ধতা রোগটি পুরুষেরই বেশি হয়ে থাকে অর্থাৎ মহিলারা এ রোগে কম ভোগেন।
মানুষের X ক্রোমোজোমে দুটি জিন থাকে যা রেটিনার বর্ণ সংবেদী কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। জিন না থাকলে লাল ও সবুজ রং পৃথক করা যায় না। মহিলাদের দুটো X ক্রোমোজোমেই উক্ত জিনের অনুপস্থিতিতে বা প্রচ্ছন্নতায় বর্ণান্ধ হয়ে থাকে। অন্যদিকে পুরুষের একটি X ক্রোমোজোমে উক্ত জিন না থাকলে বা প্রচ্ছন্ন থাকলে পুরুষরা বর্ণান্ধতায় ভুগেন। যেহেতু মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোমেই উক্ত জিনের অনুপস্থিতি থাকা প্রয়োজন সেহেতু তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সুতরাং, সুমিত বর্ণান্ধতায় ভোগার কারণে পরবর্তীতে তার এই রোগের জন্য দায়ী ক্রোমোজোম তার ছেলের মধ্যে প্রকাশিত হবে। ছেলের ক্রোমোজোমে তার বাবা থেকে পাওয়া বর্ণান্ধবাহী ক্রোমোজোমের কারণে সে বর্ণান্ধ হবে। কিন্তু তার মেয়ের ক্ষেত্রে বর্ণান্ধ হওয়ার জন্য দুটি ক্রোমোজোমেই উক্ত জিন অনুপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু শুধু বাবার ক্রোমোজোমের জিনের অনুপস্থিতির কারণে তার বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
উল্লিখিত কারণেই সুমিতের রোগটি তার ছেলে সন্তান অপেক্ষা মেয়ে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা কম।
রোহানের রোগটি মূলত থ্যালাসেমিয়া। থ্যালাসেমিয়া কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
• আলফা () থ্যালাসেমিয়া: রক্তে যখন -গ্লোবিউলিন তৈরির জিন অনুপস্থিত থাকে তখন থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে।
• বিটা () থ্যালাসেমিয়া: রক্তে - গ্লোবিউলিন তৈরির জিন অনুপস্থিত থাকলে - থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।'
• মেজর থ্যালাসেমিয়া: যখন কোনো শিশু তার বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকেই থ্যালাসেমিয়ার জিন পেয়ে থাকে তখন সে ধরনের থ্যালাসেমিয়াকে মেজর থ্যালাসেমিয়া বলে।
• মাইনর থ্যালাসেমিয়া: কোনো শিশু যখন থ্যালাসেমিয়ার জিন
কেবলমাত্র বাবা অথবা মার কাছ থেকে পেয়ে থাকে তখন সে থ্যালাসেমিয়াকে মাইনর থ্যালাসেমিয়া বলে।
উক্ত থ্যালাসেমিয়াগুলোর মধ্যে মেজর থ্যালাসেমিয়া মানুষের জন্য মারাত্মক, কারণ এ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু প্রথম বছরেই তীব্র রক্তশূন্যতায় ভোগে এবং অনেক সময় মৃত্যুবরণ করে।
Related Question
View Allজীববিজ্ঞানের যে বিশেষ শাখায় সকল প্রকার জীবের বংশগতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তাই এক কথায় বলা বংশগতিবিদ্যা।
যে প্রক্রিয়ায় একটি অণু (DNA) থেকে অনুরূপ দুটি নতুন অণুর (DNA) সৃষ্টি হয় তাকে অনুলিপন (DNA) অনুলিপন বলে। এই প্রক্রিয়াটি DNA অণুর সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন DNA অণু তৈরি করে।
সিফাতের বড় কন্যাটি যেহেতু দেখতে হুবহু বাবার মত সেহেতু তার এ চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি বাবার কাছ থেকেই এসেছে এবং মায়ের চেহারার জন্য দায়ী জিনটি তার 'দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় আছে। অর্থাৎ মায়ের ঐ জিনটি তার দেহে প্রচ্ছন্ন জিন।
আবার, ছোট কন্যাটির চুল ও গায়ের রং বাবার মত। অর্থাৎ চুল ও গায়ের রং এর জন্য দায়ী প্রকট জিনগুলো সে বাবার কাছ থেকে পেয়েছে। কিন্তু তার চেহারা মায়ের মতো হওয়ায় চেহারার জন্য দায়ী প্রকট জিনটি সে মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। মা বাবার অন্যান্য যে সকল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়নি সেগুলোর জন্য দায়ী জিন তার দেহে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সুতরাং সিফাতের সন্তানদের ক্ষেত্রে এরূপ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতার কারণ হলো প্রকট জিন। প্রকট জিনই যে কোন জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ায় সে তার স্ত্রীর উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ, স্ত্রী লোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স কোমোসোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X, অপরটি Y ক্রোমোসোম অর্থাৎ XY। মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কন্যা বা পুত্র সন্তানের জন্ম হবার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মা সবসময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অপরদিকে পিতা X এবং Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপাদন করে। গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ। যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যভাবে নিষেক ঘটাবে তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায় তা হলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোট হবে XY এবং সন্তান হবে পুত্র। উপরের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে সম্প্রতি সিফাতের আরও একটি কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য তার স্ত্রী কোনভাবেই দায়ী নয়, বরং কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য সিফাতই দায়ী। সুতরাং স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হওয়া সিফাতের অনুচিৎ এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাই লোকাস।
পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই ভিন্ন পরিবেশে জীবগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে আছে। বিভিন্ন পরিবেশে বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবের নিজেকে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকাই হলো অভিযোজন। অভিযোজন জীবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
