প্রকল্পের পরবর্তী স্তর হচ্ছে মতবাদ। একটি প্রকল্প পরীক্ষণ, নিরীক্ষণ বা আরোহ অনুমানের মাধ্যমে সমন্বিত হলে তা মতবাদের পর্যায়ে উন্নীত হয় সুতরাং মতবাদকে অনিশ্চিত অবস্থা থেকে নিশ্চিত অবস্থায় উন্নীত হওয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গণ্য করা যায়।
প্রকল্প, মতবাদ ও নিয়ম- এ তিনটি স্তরের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। একটি প্রকল্প কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়ে নিয়মে পরিণত হয় তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। এজন্যই একটি ঘটনাকে একজন প্রকল্প বলে উল্লেখ করলেও অন্যজন এটিকে আবার মতবাদ হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে একজন যে ব্যাখ্যাকে মতবাদ বলে গ্রহণ করেছেন, অন্যজন সেটিকেই আবার নিয়ম বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সংগত কারণেই প্রকল্প, মতবাদ ও নিয়মের মধ্যে ভেদরেখা টানা যুক্তিযুক্ত নয়।
উদ্দীপকে সুমিদের পরিবারের লোকদের অনুমান বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প।
কারণ অনেক সময় কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পারিপার্শ্বিক বস্তু বা ঘটনাবলির সমাবেশকে কারণ হিসেবে অনুমান করা হয়। বস্তুত অনেক ক্ষেত্রে একটি ঘটনা কার দ্বারা এবং কোন পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়েছে, তা জানা থাকলেও ঘটনাটি কোন ধরনের বস্তুবিন্যাস বা ঘটনার সমাবেশের ফলে ঘটেছে, সে সম্পর্কে আমরা জানতে পারি না। আর এরূপ ক্ষেত্রেই প্রণীত হয় 'বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প'। যেমন: আলমারি থেকে টাকা চুরি হওয়ায় আমরা বুঝতে পারলাম বাড়ির কাজের ছেলেটি চাবি দিয়ে আলমারি খুলে টাকা চুরি করেছে; কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না, বাড়িতে লোকজন থাকা সত্ত্বেও কোন ধরনের পরিস্থিতির সুযোগে সে কাজটি করেছে। আর এরূপ ক্ষেত্রেই 'বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প' গঠন করা হয়। আবার সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহ কিসের প্রভাবে এবং কোন নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে, তা বিজ্ঞানী কোপার্নিকাসের জানা ছিল। এ ক্ষেত্রে সূর্যসহ এসব গ্রহ-উপগ্রহের বিন্যাস সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন, 'সূর্য হলো কেন্দ্র এবং পৃথিবী সূর্যকে আবর্তন করে', যা সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। আর এ তত্ত্বটি আবিষ্কৃত হয়েছে মূলত বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্পের মাধ্যমে।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকে সুমিদের বাড়ির আলমারি থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস চুরি হলে তারা বুঝতে পারে বাড়ির কাজের ছেলেটি এ কাজ করেছে। কিন্তু তারা বুঝে উঠতে পারে না যে, বাড়িতে এত লোক থাকা সত্ত্বে কি করে এটা সম্ভব হলো; তাই এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন অনুমান করতে লাগল। এভাবে তাদের চুরি সংঘটনের কারণ অনুমানের মধ্য দিয়ে বস্তুবিন্যাসসংক্রন্ত প্রকল্পের প্রতিফলন ঘটে।
উদ্দীপকে বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্পের সন্নিবেশ ঘটেছে। কিন্তু অনেক যুক্তিবিদ এ ধরনের প্রকল্প স্বীকার করেন না। কারণ অনেক যুক্তিবিদ প্রকল্পে শ্রেণিবিন্যাস করতে গিয়ে কেবল নিয়মসংক্রান্ত ও কর্তাসংক্রান্ত- এ দুই শ্রেণির প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কর্তা ও বস্তু বা ঘটনা বিন্যাসের সমন্বিতরূপই হচ্ছে কারণ; তাই পৃথকভাবে বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্পের কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা কর্তাসংক্রান্ত প্রকল্পের উল্লেখের মাধ্যমেই বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য যে, কোনো ঘটনা সম্পর্কে প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে আলোচ্য তিনটি শ্রেণির মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুসারে যেকোনো একটি বা দুটি অথবা তিনটিকেই প্রয়োগ করা যায়। যুক্তিবিদ ওয়েলটন কর্তাসংক্রান্ত ও বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প দুটিকে একত্র করে এর নাম দিয়েছেন 'কারণসংক্রান্ত প্রকল্প'। এদিক থেকে তিনি প্রকল্পকে 'কারণসংক্রান্ত' ও 'নিয়মসংক্রান্ত'- এ দুই শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন।
তবে প্রকল্পের আলোচ্য শ্রেণিবিন্যাসটি যথার্থ নয়। কেননা কর্তা ও বস্তুবিন্যাস যুক্তভাবে কারণ হলে কর্তার গৃহীত নিয়মও কারণ হবে। কারণ কর্তা থেকে নিয়মকে বিচ্ছিন্ন করলে নিয়মটিকে আর নিয়ম বলা যাবে না; অথচ আলোচ্য নিয়মটি নিজেই অনেক সময় ঘটনার কারণ হিসেবে ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। কাজেই এদিক থেকে উপর্যুক্ত তিনটি প্রকল্পকেই স্বীকার করতে হয়। বস্তুত ঘটনার প্রকৃতি অনুসারে প্রায় সব ক্ষেত্রে এ তিন শ্রেণির প্রকল্পই প্রণীত হয়ে থাকে।
উপর্যুক্ত কারণে অনেক যুক্তিবিদ বস্তুবিন্যাস সংক্রান্ত প্রকল্পকে অস্বীকার করেছেন।
Related Question
View Allসাধারণভাবে পূর্বাপর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অধিক সম্ভাবনাপূর্ণ বিষয়কে সাময়িকভাবে কারণ হিসেবে অনুমান করাই হলো প্রকল্প।
কোনো প্রকল্পের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সমর্থন প্রয়োজন। প্রকল্প অনন্যসাধারণ প্রকৃতি হতে হবে। আরোহ সমন্বয় হলো প্রকল্পের অন্যতম প্রমাণ। কোনো ঘটনাকে সুস্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রকল্পটির প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই প্রকল্পটিতে প্রমাণিত হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রকল্পকে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সেই সাথে সরল প্রকৃতির হতে হবে।
উদ্দীপকে ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকেই চুরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে যে ধারণা করলেন, তার সাথে কাজ চালানো প্রকল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণত প্রকল্প গঠন করা হয়। তবে এমন কিছু জাগতিক ঘটনাবলি আছে, যেগুলোর কারণ সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণ গঠন করা যায় না।০ ফলে কাজ চালানোর জন্য সাময়িকভারে বিশেষ এক ধরনের প্রকল্প গঠন করা হয়। কোনো অপরিচিত নতুন ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য এ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা না থাকার ফলে আপাতত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যখন অসম্পূর্ণ কোনো আনুমানিক ধারণাকে সাময়িকভাবে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, সেই আনুমানিক ধারণাই হলো কাজ চালানো প্রকল্প।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যখন তার বন্ধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এলেন, তখন তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকেই জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে অনুমান করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। অনুসন্ধান করে দেখলেন, ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে চোর ঘরে ঢুকল কি না। কিন্তু দেখলেন সবই ঠিক আছে। এই অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিতে তিনি কাজ চালানো প্রকল্প গঠন করলেন। এ জাতীয় প্রকল্প হলো অসম্পূর্ণ এবং সাময়িকভাবে গঠিত আনুমানিক ধারণা, কিন্তু তার পরও উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো প্রকল্প না পাওয়ার কারণেই মূলত ঘটনার ব্যাখ্যায় কাজ চালানো প্রকল্পকে প্রয়োগ করা হয়। তাই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘটনার প্রাথমিক কাজ চালানোর জন্য এ প্রকল্পকে কাজে লাগিয়েছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিলে প্রকল্পের ধারণা পরিলক্ষিত হয়।
কারণ প্রকল্প হতে হলে কোনো ঘটনার উপস্থিতি আবশ্যক, যা উদ্দীপকে বর্তমান। জগতের প্রতিটি ঘটনাই কোনো না কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। সে ক্ষেত্রে এসব ঘটনা জানতে হলে এদের মূলে বিদ্যমান এসব কারণ জানা আবশ্যক। আর যুক্তিবিদ্যা মূলত এসব কারণের অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার মূলে নিহিত কারণ সহজে পাওয়া যায় না। কেননা এ ক্ষেত্রে কারণটি সমজাতীয় আর অনেক ঘটনার সাথে মিশ্রিত থাকে। এ অবস্থায় সঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়ার জন্য কারণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আমরা এমন এক বা একাধিক বিষয়ে সাময়িকভাবে চিহ্নিত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অগ্রসরই হই। আর সাময়িকভাবে গৃহীত এ জাতীয় সম্ভাব্য বিষয়কেই বলা হয় প্রকল্প। প্রকল্পকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বলে প্রমাণ করা সম্ভব হলেই কেবল তা সার্বিক নিয়মে উপনীত হতে পারে।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে ধারণা করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। তা যাচাই করার জন্য তিনি ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকল কি না তা ওপরীক্ষা করে দেখলেন সবকিছু ঠিক আছে। পরে তিনি আনুমানিক ধারণা নিলেন, চোর তালার চাবি ফাঁকে কোনো একসময় বানিয়ে নিয়েছে। তার এই আনুমানিক ধারণাই হলো প্রকল্প।
জগতে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হয়েও কোনো ঘটনা বা বিষয়ের বাস্তব কারণ অথবা সত্য কারণ হতে পারে। আর এ জাতীয় প্রকল্পই হলো প্রতিবেদক অনুকল্প।
যেকোনো প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংঘটনের মূলে নিহিত সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আন্দাজ করে নেওয়া হয়। এরপর আরোহ প্রক্রিয়ার সাহায্যে ঐ সম্ভাব্য কারণটি সত্য হওয়ার পক্ষে কোন কোন ঘটনা কার্যকর হতে পারে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তটি বাস্তব ঘটনার অনুরূপ কি না তা যাচাই করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ধারণ করা হয়। আর এভাবেই একটি প্রকল্প গঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!