কোনো দ্রব্যের বাজারে কেবল একজন বিক্রেতা থাকলে তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। যেমন- বাংলাদেশ রেলওয়ে।
একটি মাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ফার্ম। আর একই ধরনের দ্রব্য উৎপাদনকারী ফার্মের সমষ্টি হচ্ছে শিল্প।
যেমন- স্টার জুট মিল হলো উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বা ফার্ম। এখন পাট উৎপাদনে নিযুক্ত স্টার জুট মিলসহ আমিন জুট মিল, হাফিজ জুট মিল ইত্যাদি ফার্মের সমন্বয়ে পাট শিল্প গড়ে ওঠে।
সুমীর ফুলের দোকান অর্থনীতিতে একচেটিয়া কারবার তথা একচেটিয়া বাজারকে নির্দেশ করে।
নিকটবর্তী বিকল্প না থাকায় একটি দ্রব্যের যোগানের ওপর একটি মাত্র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপিত হলে তাকে একচেটিয়া কারবার এবং যে বাজারে ঐ দ্রব্যটি কেনা-বেচা হয়, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। একচেটিয়া বাজারে একচেটিয়া কারবারির মূল লক্ষ্য হলো সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা। যেহেতু বিক্রেতা দ্রব্যের সম্পূর্ণ যোগান নিয়ন্ত্রণ করে, তাই সে নিজের ইচ্ছামতো দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করে থাকে।
সুমী 'A' শহরে ফুল সরবরাহ করে। শহরের একটি কলেজের নবীনবরণ। অনুষ্ঠানে অনেক ফুলের প্রয়োজন হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ ফুল কিনতে গেলে সুমী ফুলের জন্য বেশি দাম দাবি করে। উপায় না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশি দামেই ফুল কিনে নেয়। সুমীর এরূপ কার্যক্রমের ভিত্তিতে তাকে একজন একচেটিয়া কারবারি বলা যায়। কারণ 'A' শমরের ফুলের যোগান সে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফুলের জন্য ইচ্ছামতো দাম আদায় করে মুনাফা অর্জন করে।
'A' ও 'B' শহরের ফুলের বিক্রেতারা একই মুনাফা অর্জন করবে না।
কারণ 'A' শহরের ফুলের বাজারে একচেটিয়া বাজারের এবং 'B' শহরের ফুলের বাজারে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। একচেটিয়া বাজারে বিক্রেতার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সে ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করতে পারে। একচেটিয়া বাজারে নতুন ফার্মের প্রবেশের সুযোগ নেই। নতুন ফার্ম প্রবেশ করতে গেলে একচেটিয়া ফার্ম পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে দাম কমিয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে নতুন ফার্ম সম্ভাব্য লোকসানের ভয়ে বাজারে প্রবেশ ও উৎপাদন করে না। তখন এ ফার্ম এককভাবে উৎপাদন যোগান দিয়ে থাকে। একমাত্র বিক্রেতা হওয়ায় খুব সহজেই দ্রব্যের মূল্য ও যোগান নিয়ন্ত্রণ করে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এজন্য একচেটিয়া কারবারির মূল লক্ষ্য হলো সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা
একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অধিক সংখ্যক ছোট ছোট ফার্ম থাকে। এবং বাজারে মোট উৎপাদনের সামান্য অংশ এক-একটি ফার্মের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ বাজারে কোনো ফার্ম তার উৎপাদিত পৃথকীকৃত দ্রব্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব খাটাতে পারে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফার্মের প্রবেশ ও প্রস্থান হয় সহজ ও অবাধ, তাই স্বল্পকালে ফার্মের অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হলেও দীর্ঘকালে স্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে।
সুতরাং বলা যায়, 'A' শষরের ফুলের বিক্রেতারা যে পরিমাণ মুনাফা। লাভ করে '৪' শহরের ফুলের বিক্রেতারা একই মুনাফা অর্জন করতে পারে না।
Related Question
View Allএকটি মাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলে
যে বাজারে দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে যোগান সামান্য পরিবর্তিত হয় তাকে স্বল্পকালীন বাজার বলে।
মাকালীন বাজারের স্থায়ীত্বকাল কম হয়, তাই এ সময়ের মধ্যে স্থির খরচসমূহ (কারখানার আয়তন বা সংখ্যা) পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তনীয় খরচসমূহ (উপকরণের পরিমাণ) হ্রাস-বৃদ্ধি করে, দ্রব্যের উৎপাদন কম-বেশি করা যায়। এ বাজারে দ্রব্যের দাম, যোগানের চেয়ে চাহিদা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি প্রভৃতি স্বল্পকালীন বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত ম্যাটাডর কলমটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা সদৃশ কিন্তু সামান্য পৃথকীকৃত (Similar but slightly differentiated) দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয় ঐ বাজারকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে কোনো ফার্ম যদি নিজের পণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে ক্রেতা অপর ফার্মের পরিবর্তক দ্রব্য কেনে। এক্ষেত্রে প্রথম ফার্মের পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, তবে চাহিদা কখনও শূন্য হয় না। এ বাজারের পণ্যসমূহ হলো- কলম, সাবান, টুথপেস্ট প্রভৃতি। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত পণ্যটি হলো কলম। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কলম আছে। সেগুলোকে রং, ডিজাইন এবং সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানির কলমের দাম বাড়লে ক্রেতা অন্য কোম্পানির কলম ক্রয় করবে। কাজেই বলা যায়, কলম হচ্ছে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত পণ্যের বাজারটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নিম্নে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সর্ম্পক বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা, সমজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত থাকে, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। আর যে বাজারে কিছু বিক্রেতা সম্পূর্ণ এক না হলেও প্রায় একই ধরনের দ্রব্য বিক্রয় করে তাকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। উভয় বাজারেই ক্রেতা ও বিক্রেতার পক্ষে সহজে বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ রয়েছে। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত কলমটি একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য। এ বাজারে বিক্রির জন্য যে কলমগুলো সরবরাহ করা হয়, সেগুলো ব্র্যান্ড, রং, ডিজাইন এবং নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। তাছাড়া এরূপ বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, পূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া বাজারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য একযোগে দেখা যায়। একচেটিয়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ফার্ম যে দ্রব্যগুলো উৎপাদন করে, সেগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। আর এই দ্রব্যের পৃথকীকরণের মধ্যে একচেটিয়া বাজারের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আবার বহু ক্রেতা-বিক্রেতা থাকায় পূর্ণ প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্যও পরিলক্ষিত হয়।
যেহেতু একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার দুটি ভিন্ন বাজারের সমন্বয়ে গঠিত, তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে এককভাবে একচেটিয়া
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব বস্তু বা সেবাকর্মের প্রয়োজন সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।
উৎপাদিত দ্রব্যের পৃথকীকরণ বলতে বোঝায় বাজারে বিভিন্ন ফার্ম যে নির্দিষ্ট দ্রব্যটি উৎপাদন করে সেটি গুণগত ও বাহ্যিকভাবে একটি অপরটি থেকে পৃথক।
বিভিন্ন ফার্মের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো অনেকটা সদৃশ হলেও একটি অপরটির পরিবর্তক (তবে পূর্ণ পরিবর্তক নয়) হতে পারে। বিক্রেতা বিজ্ঞাপন ব্যয়, প্যাকিং, ডিজাইন, সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে উৎপন্ন দ্রব্যের প্রভেদীকরণ করে। যেমন- প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের বাজার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!