বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য।
সামাজিক আন্দোলন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যায়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন- শিশু কিশোরদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহের ব্যাপারে অভিভাবকদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি এর কুফল সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা এবং পাড়া ও মহল্লায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কমিটি গঠন করার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
উদ্দীপকের মেয়েটি বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল।
বাল্যবিবাহ অল্পবয়সী মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন করে। এক্ষেত্রে শারীরিক পরিপক্কতা লাভের আগেই অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয় এবং কিছু দিন যেতে না যেতেই তারা সন্তান জন্ম দেয়। এছাড়া মানসিক অপরিপক্কতার কারণে তারা শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সবার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়। ফলে দেখা দেয় পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, নেমে আসে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির শারীরিক নির্যাতন। আবার অনেক সময় তাকে ফিরে আসতে হয় পিত্রালয়ে। তখন তার পরিবার থেকেও আগের মতো ভালোবাসা পায় না।
উদ্দীপকের মানবাধিকার কর্মী সুরাইয়া খান তার গ্রামের ১৪ বছরের এ কিশোরীর বিয়ে হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সো আটকে দেন। যার ফলে মেয়েটি বাল্যবিবাহ থেকে বেঁচে যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মেয়েটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা বাল্যবিবাহের সম্মুখীন হয়েছিল যার পারিবারিক প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক।
না, আমি মনে করি, বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যার পেছনে শুধু বাবা-মায়ের অসচেতনতামূলক ভূমিকাই নয়, আরও বিভিন্ন কারণ দায়ী।
বাল্যবিবাহের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য। এর কারণে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতে না পেরে বাবা-মা দিশাহারা হয়ে যান। তখন তারা মেয়েকে যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে দিয়ে দিতে বাধ্য হন। নিরক্ষরতাও বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। শিক্ষার অভাব থাকায় ছেলে-মেয়েরা, এমনকি অভিভাবকরাও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে অনেকেই এই সমস্যার শিকার হন।
উদ্দীপকের ১৪ বছরের মেয়েটিকে বাবা-মা তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। অথচ এ বিয়েতে তাদের মেয়ের সম্মতি নেই, এমনকি সে বিয়ের উপযুক্ত নয়। এখানে বাবা-মায়ের অসচেতনতামূলক মনোভাব কাজ করলেও এর পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে।
উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কোনো একটি কারণ নির্ধারিত নয়। বরং এর পেছনে অনেক কারণ প্রত্যক্ষভাবে। কাজ করে।
Related Question
View Allএথেন্সে বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে অর্থসম্পদ নিয়ে যেত।
কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।
যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।
উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।
যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-
প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।
যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।
যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!