সুর বাবা দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর হঠাৎ একদিন মারা যায়। পাড়া প্রতিবেশিরা তার বাবার মৃত দেহকে সৎকারের উদ্দেশ্যে কাধে নিয়ে শ্মশানের দিকে যাত্রা করে। অন্যদিকে সুজয়ের মা মারা যাওয়ার পর সে বেশ কিছুদিন ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করে। প্রতিদিন তার মায়ের উদ্দেশ্যে জল ও দুধ নিবেদন করে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাভিচ্ছেদের পূর্বে ঘৃত ও মধু দিয়ে সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করিয়ে যে ধর্মীয় সংস্কার সম্পাদন করা হয়, তাকে জাতকর্ম বলে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

বিবাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্রটি হলো— "যদেতদ্ধৃদয়ং তব তদেতদ্ধৃদয়ং মম। যদেতন্মম হৃদয়ং তদেতদ্ধৃদয়ং তব।।" এর ভাবার্থ হলো: "তোমার এই হৃদয় আমার হোক, আর আমার এই হৃদয় তোমার হোক।"

হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানে এই মন্ত্রটি উচ্চারণের মাধ্যমে বর ও কনে একে অপরের প্রতি আজীবন বিশ্বস্ত থাকার এবং হৃদয়ের গভীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করে। মন্ত্রটির মূল উদ্দেশ্য হলো দুটি ভিন্ন সত্তার মন, চিন্তা ও চেতনাকে একীভূত করা। এর মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পরমাত্মার মিল ঘটে এবং তাঁদের পারস্পরিক প্রীতি, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়, যা একটি সুখী পারিবারিক জীবন গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সুব্রতর বাবার উদ্দেশ্যে সম্পন্নকৃত প্রক্রিয়াটি হলো হিন্দু ধর্মের শেষ সংস্কার অর্থাৎ 'অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া' বা সৎকার ক্রিয়া।

হিন্দু শাস্ত্রানুসারে মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংস্কারসমূহের মধ্যে সর্বশেষ সংস্কার হলো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মৃতদেহকে স্নান করানো, পবিত্র বস্ত্র পরিধান করানো এবং শ্মশানে নিয়ে শাস্ত্রীয় মন্ত্রপাঠ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দাহ বা সৎকার করার বিধান রয়েছে। মৃত ব্যক্তির আত্মার সৎগতি ও পরলৌকিক কল্যাণের জন্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করা হিন্দুধর্মীয় একটি আবশ্যিক কর্তব্য।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সুব্রতর বাবা মারা যাওয়ার পর পাড়া-প্রতিবেশীরা তাঁর মৃতদেহকে সৎকারের উদ্দেশ্যে কাঁধে করে শ্মশানের দিকে নিয়ে যান। সনাতন ধর্মীয় আচার অনুযায়ী মৃতদেহের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে শ্মশানে নিয়ে দাহ করা বা সৎকার করার এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ারই অংশ। অতএব, পাঠ্যপুস্তকের আলোকেই সুব্রতের বাবার মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের দ্বারা শ্মশানে গমন ও সৎকারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

সুজয় যে কাজটি সম্পন্ন করেছে, তা হলো হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে মৃত পিতামাতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে ‘শ্রাদ্ধানুষ্ঠান’ এবং ‘তর্পণ’ বা আশৌচকালীন নিয়ম পালন; যা ধর্মীয়, আত্মিক এবং নৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, পিতামাতার মৃত্যুর পর তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদ্গতির জন্য শ্রাদ্ধানুষ্ঠান এবং জল-তর্পণ করা সন্তানের পরম কর্তব্য। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা বা ভক্তির সাথে পরমাত্মা ও মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে যা নিবেদন করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। পিতামাতা সন্তানকে লালন-পালন করে যে অশেষ ঋণ রেখে যান, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ও তর্পণের মাধ্যমে সন্তান সেই মাতৃঋণ ও পিতৃঋণ পরিশোধের চেষ্টা করে। এসময় নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত সংযমী জীবনযাপন, হবিষ্যান্ন বা ফলমূল গ্রহণ এবং জল-দুগ্ধ নিবেদনের মাধ্যমে সন্তানের আত্মশুদ্ধি ও পরলোকগত আত্মার প্রতি গভীর ভক্তি প্রকাশিত হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সুজয়ের মা মারা যাওয়ার পর সে সংযমী হয়ে বেশ কিছুদিন ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করে এবং প্রতিদিন মায়ের উদ্দেশ্যে জল ও দুধ নিবেদন করে। শাস্ত্রীয় নিয়মানুসারে এটি মায়ের মৃত্যুর পর আশৌচ পালন এবং প্রাত্যহিক তর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি রূপ। সুজয়ের এই কাজের মাধ্যমে তার মাতৃভক্তি, কর্তব্যপরায়ণতা এবং শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধের প্রতি অনুগত থাকার মানসিকতা ফুটে উঠেছে। সে কেবল ধর্মীয় রীতিই পালন করেনি, বরং মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, সুজয়ের সম্পাদিত এই কাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মৃত ব্যক্তির আত্মার পরলৌকিক কল্যাণ ও শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবদ্দশায় সন্তানকে সংযম, আত্মত্যাগ ও ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণের শিক্ষা দেয়। পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সুজয়ের এই শাস্ত্রীয় দায়িত্ব পালন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
285

Related Question

View All
উত্তরঃ

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাভিচ্ছেদের পূর্বে ঘৃত ও মধু দিয়ে সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করিয়ে যে ধর্মীয় সংস্কার সম্পাদন করা হয়, তাকে জাতকর্ম বলে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
1.5k
উত্তরঃ

বিবাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্রটি হলো— "যদেতদ্ধৃদয়ং তব তদেতদ্ধৃদয়ং মম। যদেতন্মম হৃদয়ং তদেতদ্ধৃদয়ং তব।।" এর ভাবার্থ হলো: "তোমার এই হৃদয় আমার হোক, আর আমার এই হৃদয় তোমার হোক।"

হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানে এই মন্ত্রটি উচ্চারণের মাধ্যমে বর ও কনে একে অপরের প্রতি আজীবন বিশ্বস্ত থাকার এবং হৃদয়ের গভীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করে। মন্ত্রটির মূল উদ্দেশ্য হলো দুটি ভিন্ন সত্তার মন, চিন্তা ও চেতনাকে একীভূত করা। এর মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পরমাত্মার মিল ঘটে এবং তাঁদের পারস্পরিক প্রীতি, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়, যা একটি সুখী পারিবারিক জীবন গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
855
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews