শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
পিতৃসত্য রক্ষার জন্য শ্রীরামচন্দ্রের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি তাঁর বাবা দশরথের বড় ছেলে ছিলেন। রাজ্যাভিষেক তাঁর প্রাপ্য ছিল। বিমাতা কৈকেয়ীর কাছে তাঁর বাবা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। কৈকেয়ী রাজা দশরথের কাছে দুটো বর পেতেন। তিনি চাইলেন ভরত রাজা হবেন এবং রাম বনগমন করবেন। রামচন্দ্র পিতৃসত্য রক্ষার জন্য অবিচলচিত্তে বনে গমন করেছিলেন।
সুশীলের বাবা ঋণের বোঝা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। ঋণই ছিল তার মৃত্যুর কারণ। মৃত্যুর আগে তিনি সকল পাওনাদারদের বলে যান, সুশীল সকল ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করবে। সুশীল পিতার আজ্ঞা অনুযায়ী তাই করেছিল। পিতার দেওয়া কথা সে পালন করেছিল অক্ষরে অক্ষরে। এদিকটিতে সুশীল রামচন্দ্রের প্রতিফলন। রামচন্দ্রের মতোই সে পিতার আদেশ পালন করেছে।
আমাদের জন্ম নেওয়ার পেছনে আমরা ঈশ্বরের নিকট যেমন কৃতজ্ঞ, তেমনি পিতামাতার কাছেও কৃতজ্ঞ। পিতামাতা আমাদের জন্মদাতা। তারা আমাদের নিকট পূজনীয় ব্যক্তি। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাভালোবাসা বজায় রাখা আমাদের কর্তব্য। সকল সন্তানের উচিত পিতামাতাকে দেবতাতুল্য মনে করা। পিতার প্রতি ভালোবাসা পোষণ শুধু কথার কথা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। পিতার প্রতি দায়িত্ব পালন এবং পিতৃসত্য রক্ষা করার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে তার প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ। পিতা যদি কোনোভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এবং এজন্য যদি পুত্রকে নিজ স্বার্থ পরিত্যাগ করতে হয় প্রয়োজনে তাই করতে হবে। পিতার জীবিতাবস্থায় এমনকি মৃত্যুর পরেও পিতৃআজ্ঞা এবং পিতৃসত্য পালন করে চলতে হবে। না হলে ঈশ্বর আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হবেন। আমরা পাপী হয়ে যাব। পিতৃসত্য পালন করা ধর্ম পালনেরই একটি অংশ।
পিতৃসত্য পালনের জন্য বিখ্যাত গ্রন্থ রামায়ণে বর্ণিত শ্রীরামচন্দ্র চরিত্র আমাদের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবে। তিনি তাঁর জীবনের সকল সুখশান্তি বিসর্জন দিয়ে একাকী বনবাসের জীবন বেছে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র পিতৃসত্য পালনের জন্য। তিনি তাঁর বনগমনকেই প্রধান কর্তব্য জ্ঞান করেছিলেন। তাঁর মাঝে এজন্য কোনো প্রকার দুঃখ কিংবা ক্ষোভ ছিল না। তিনি পিতৃসত্য পালনে ছিলেন সত্যবদ্ধ।
Related Question
View Allরামায়ণের প্রধান চরিত্র শ্রীরামচন্দ্র।
তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। সকলে মিলে, পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করে। তাই তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিজীবনে উন্নতি করা যায় না। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হয়। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বলা হয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিতিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
দীননাথের চরিত্রের সাথে রামচন্দ্রের ত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ত্যাগ বলতে কেনোকিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
রামচন্দ্র ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। তিনি ত্রেতাযুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃসত্য রক্ষা করার জন্য বনে গমন করেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে। রাজপোশাক পরিত্যাগ করে কম্বল পরিধান করে বনে গমন করেন। এটা ছিল ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের দীননাথের চরিত্রে রামচন্দ্রের ত্যাগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ দীননাথ তার নিজের সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে সেরূপ এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
যদীননাথ তার সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে ত্যাগের এক মহা নজির স্থাপন করে।
ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ হচ্ছে মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক দিক। ত্যাগ মানুষকে করে মহান, সমাজ সংসারে এনে দেয় শান্তির পরশ। সেরূপ এক শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছিল মনোরমার। নীলরতন ও মনোরমার সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শান্তি ছিল না। কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিল না। এজন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করত। বাড়ির কর্মচারী দীননাথ এ বিষয়টি লক্ষ করে। তার দুটি সন্তান। দীননাথ তার স্ত্রীকে রাজি করিয়ে তার একটি সন্তানকে মনোরমার কোনে তুলে দেয়। তাদের সংসারে শান্তির আবহ বিরাজ করে। কিন্তু তাদের এ শান্তির মূলে ছিল দীননাথের ভূমিকা। কারণ সে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মনোরমার কোলে দিয়ে যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সত্যিই বিরল।
শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
