চতুরার্য সত্য হলো দুঃখ মুক্তির চারটি উপায়; যা দুঃখ আর্যসত্য, দুঃখের কারণ আর্যসত্য, দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য ও দুঃখ নিরোধের উপায় আর্যসত্য নামে পরিচিত।
দুঃখের কারণ বলতে তৃষ্ণাকেই বোঝায়। তৃষ্ণার কারণ অজ্ঞতা বা জ্ঞানের অভাব। তৃষ্ণার কারণেই জগতেই ক্ষণস্থায়ী বস্তু পাওয়ার জন্য তীব্র বাসনা জাগে। এ আকাঙ্ক্ষার ফলেই মানুষ বারবার জন্মগ্রহণ করে। কামনা, বাসনা, লোভ, অহংকার, মোহ, শোক এসবই তৃষ্ণা থেকে উৎপত্তি হয়।
বৌদ্ধ ভিক্ষুটি দুঃখ মুক্তির পথনির্দেশ করেছেন। ভিক্ষুই দুঃখ হতে পরম মুক্তি এবং পরম শান্তি নির্বাণ লাভ করার জন্য ধ্যানে মগ্ন আছেন। বুদ্ধের মতে, তৃষ্ণাই মানবের দুঃখ-কষ্টের মূল কারণ। তৃষ্ণার কারণে মানুষ জন্মগ্রহণ করে অসংখ্য কষ্ট ভোগ করে। তাই তৃষ্ণাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কষ্ট নিরোধ সম্ভব। বৃদ্ধ নির্দেশিত কষ্ট নিরোধের উপায় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করার জন্যই তিনি ধ্যানে বসেছেন।
উক্ত ভিক্ষু যে পথ অনুসরণ করেছেন সেগুলো হলো সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভিক্ষু যে পথ অনুসরণ করছেন তার ফলে তিনি চতুরার্য সত্য বুঝতে পারবেন বলে আমি মনে করি।
চতুরার্য সত্য বৌদ্ধধর্মের মূলভিত্তি। এ সত্যসমূহ উপলব্ধি করতে না পারলে বৌদ্ধধর্মকে কখনো উপলব্ধি করা যাবে না। আর্যসত্য, দুঃখের কারণ আর্যসত্য। এ পথের মাধ্যমে ভিক্ষুটি দুঃখ হতে মুক্তি এবং পরম শান্তি নির্বাণ লাভ করতে পারেন। চতুরার্য সত্য উপলব্ধির মাধ্যমে তিনি দুঃখ, দুঃখের কারণ, দুঃখের নিরোধ এবং দুঃখ নিরোধের উপায় প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এ সত্য উপলব্ধি করলে তিনি বুঝতে পারলেন তৃষ্ণাই মানুষের দুঃখের কারণ। অজ্ঞতার কারণে উৎপন্ন হয় এ তৃষ্ণা চতুরার্য সত্য তাকে লোভ, হিংসা, মোহ ও অকুশল কর্ম থেকে বিরত রেখে দুঃখ থেকে মুক্তি দেবে।
Related Question
View Allনিচে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের নাম দেওয়া হলো-
১. সম্যক দৃষ্টি; ২. সম্যক সংকল্প; ৩. সম্যক বাচ্য; ৪. সম্যক কর্ম; ৫. সম্যক জীবিকা; ৬. সম্যক ব্যায়াম; ৭. সম্যক স্মৃতি; ৮. সম্যক সমাধি।
বৃদ্ধ দুঃখকে আট ভাগে বিভক্ত করেন। সেগুলো হলো-
১. জন্ম দুঃখ; ২. জরা দুঃখ; ৩. ব্যাধি দুঃখ; ৪. মৃত্যু দুঃখ; ৫. অপ্রিয় সংযোগ দুঃখ; ৬. প্রিয় বিচ্ছেদ দুঃখ; ৭. ইস্পিত বস্তুর অপ্রাপ্তি দুঃখ; ৮. পঞ্চস্কন্ধময় এ দেহ ও মন দুঃখময়।
একদিন আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাতে সিদ্ধার্থ জগতের দুঃখমুক্তির উপায় অন্বেষণে গৃহত্যাগ করেন। আবিষ্কার করেন দুঃখ আর্যসত্য, দুঃখের কারণ আর্যসত্য, দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য এবং দুঃখ নিরোধের উপায় আর্ষসত্য। এই চারটি বুদ্ধের পরিভাষায় চতুরার্য সত্য বলা হয়ে থাকে।
চতুরার্য, সত্য হচ্ছে বৌদ্ধধর্মের মূলতত্ত্ব। বুদ্ধ পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মধ্যে প্রথম চতুরার্য সত্য দেশনা করেন। চতুরার্য সত্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় মানুষ বারবার জন্মগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করে। এই সত্যকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারলে পরম শান্তি ও নির্বাণ লাভ সম্ভব।
সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করে সন্নাসী হয়ে তপস্যার মাধ্যমে দুঃখমুক্তির উপায় হিসেবে চতুরার্য সত্য আবিষ্কার করেন। এগুলো হলো-১. দুঃখ আর্যসত্য; ২. দুঃখের কারণ আর্যসত্য; ৩. দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য; ৪. দুঃখ নিরোধের উপায় আর্যসত্য।
জগৎ দুঃখময়। সুখ এখানে ক্ষণস্থায়ী। সুখের আকাঙ্ক্ষা আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এই ছুটে চলার মাঝে দুঃখই পাই বেশি। সংসার চক্রে পরিভ্রমণ করে মানুষ দুঃখ ভোগ করে। কিন্তু জ্ঞানের অভাবে আমরা দুঃখকে চিনতে পারি না। তবুও দুঃখই চরম সত্য। একেই বুদ্ধ দুঃখ আর্যসত্য বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!