পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civics এবং তা এসেছে ল্যাটিন শব্দ Civis এবং Civitas থেকে।
অধ্যাপক ই. এম. হোয়াইট তাঁর 'The Philosophy of Citizenship' গ্রন্থে বলেন, "Civics is that subject which deals with everything appertaining to citizenship." অর্থাৎ, নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল প্রশ্ন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, তাই পৌরনীতি। ই. এম. হোয়াইট একই গ্রন্থে আরও বলেন, "Civics is that branch of human knowledge which deals with everything relating to a Citizen - past, present and future; local, national and human." অর্থাৎ, পৌরনীতি হচ্ছে জ্ঞানের সেই শাখা, যা নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও মানবতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
একজন নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলি যতদূর বিস্তৃত, অর্থাৎ যা কিছু নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে, পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়বস্তু বা পরিধি ততদূর প্রসারিত। কাজেই পৌরনীতি পাঠ করলে সুহৃদ ও সুহাস-
- নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত হবে;
- নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ জানতে পারবে;
- নাগরিকতার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে পারবে;
- সুশাসন, ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে জানতে পারবে;
- রাজনৈতিক তত্ত্বাদি সম্পর্কে জানতে পারবে;
- আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য সম্পর্কে জানতে পারবে;
- রাষ্ট্রের প্রকৃতি এবং তার বিবর্তন, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে;
- বিভিন্ন ধরনের সরকারব্যবস্থা ও সরকারের অঙ্গ বা বিভাগ সম্পর্কে জানতে পারবে;
- জনমত, রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারবে;
- বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাংবিধানিক বিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবে;
- এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবে
পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করলে সুহৃদ ও সুহাস এদেশের সঠিক রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে পারবে। কারণ পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ঘটনা ও আন্দোলন এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন বাংলাদেশের যেসব রাজনৈতিক ঘটনা ও
গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে তার মধ্যে রয়েছে-১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা, ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তি খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ, ১৯৫২-এরভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর নির্বাচন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বাঙালিদের বিজয় লাভ ইত্যাদি বিষয়।
উপরিউক্ত বিষয়াদি ছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসন ব্রিটিশ-ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন শাসনতান্ত্রিক সমস্যা ও বিকাশধারা এবং এসব আমলের বিভিন্ন আইন আলোচনা করে। এসব বিষয় আলোচনা ও পর্যালোচনা করতে গিয়ে পৌরনীতি কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং বিজ্ঞানসম্মত উপায় বেছে নেয় এবং সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে।
অতএব বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করলে সুহৃদ ও সুহাস এদেশের সঠিক রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে পারবে। যা তাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!