সূরা ফাতেহার বাংলা তরজমা:
১. সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহর জন্য, ২. যিনি সারা জাহানের রব, ৩. তিনি মেহেরবান ও দয়াময়, ৪. তিনি বিচার দিনের মালিক, ৫. আমরা (একমাত্র) তোমারই ইবাদত করি আর (শুধু) তোমারই নিকট সাহায্য চাই, ৬. আমাদেরকে সোজা-সঠিক পথ দেখাও, ৭. ঐ সব লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নিয়ামত দিয়েছো; যাদের উপর গজব পড়েনি আর যারা পথহারা হননি।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' আরবি শব্দ। 'সিহাহ' অর্থ বিশুদ্ধ এবং 'সিত্তাহ' শব্দের অর্থ ছয়। সুতরাং 'সিহাহ সিত্তাহ' অর্থ ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থ। ইলমে হাদিসের পরিভাষায়, বিশুদ্ধ ছয়খানা হাদিসগ্রন্থকে 'সিহাহ সিত্তাহ' বলা হয়। হিজরি প্রথম শতকের। প্রারম্ভে প্রখ্যাত উমাইয়া খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আযিয সরকারিভাবে হাদিস লেখার নির্দেশ দেন। এ সময় প্রথম বিশুদ্ধ হাদিস 'মুয়াত্তা' সংকলন করেন ইমাম মালেক (র)। হিজরি তৃতীয় শতক হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এ সময় ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ সংকলিত হয়। এগুলোকে একত্রে 'সিহাহ সিত্তাহ' বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ নামে অভিহিত করা হয়।
সিহাহ সিত্তাহর সংকলকবৃন্দ
হাদিস গ্রন্থ | সংকলকের নাম ও জীবনীকাল | হাদিসের সংখ্যা |
| ১. বুখারী শরীফ | আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাঈল আল বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ) | ৭৩৯৭টি |
| ২. মুসলিম শরীফ | আবুল হোসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (২০৪-২৬১ হিঃ) | ৪০০০টি |
| ৩. তিরমিযী শরীফ | আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা (২০৯-২৭৯ হি:) | ৩৮১২টি |
| ৪. আবু দাউদ শরীফ | আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশআমা ইবনে ইসহাক (২০২-২৩হি:) | ৪৮০০টি |
| ৫. নাসাঈ শরীফ | আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুয়াইব (২১৪-৩০৩ হিঃ) | ৪৪৮২টি |
| ৬. ইবনে মাযহ শরীফ | আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ (২০৯-২৭৩ হিঃ) | ৪৩৩৮টি |
মদিনা সনদ বা কিতাব-উর-রসুল ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হযরতের মদিনা পৌঁছার পর তিনি সেখানে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হন এবং শতধা বিভক্ত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও আগত মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, শান্তি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন যা ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। ইবনে হিশাম তাঁর 'সীরাত' গ্রন্থে একে 'কিতাব-উর-রসুল' S M. Watt তাঁর গ্রন্থে একে The Charter of Medina' বলে আখ্যায়িত করেন।
সনদের বৈশিষ্ট্য: মহানবী (স) কর্তৃক প্রদত্ত মদিনা সনদের ধারাগুলো পর্যালোচনা করলে এর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়:
প্রথমত, মদিনা সনদে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আভাস রয়েছে। কারণ এখানে বলা হয়েছে সকল ধর্মাবলম্বী লোক একটি উম্মাহ করবে এবং তারা স্ব স্ব ধর্ম পালন করবে। এছাড়া উম্মাহভুক্ত অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিচারকার্যও স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ অনুসারে করার নীতি গৃহীত হয়।
দ্বিতীয়ত, সনদে গোত্রীয় প্রাধান্য রহিত করা হয়নি। তবে সংস্কার সাধন করে গোত্রীয় প্রাধান্যকে বৃহত্তর মুসলিম জাতির উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয় এবং সামগ্রিকভাবে সকল গোত্রের উপর মহানবীর প্রাধান্য স্বীকৃত হয়।
তৃতীয়ত, সনদের মাধ্যমে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে গাঢ় ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ভ্রাতৃত্ববোধ একটি উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।
চতুর্থত, সনদে সামগ্রিকভাবে আল্লাহকে যিম্মা প্রদান করা হয়েছে। এবং রাষ্ট্র হিসেবে মদিনা একটি সাধারণতন্ত্রের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে।
পঞ্চমত, সনদে মদিনার সকল ইহুদিদের সম-অধিকার দেওয়া হয় কিন্তু তাদের বিষয়ে পুনঃপুন উল্লেখ করে মুসলমানদের সতর্কও করে দেওয়া হয়। কারণ, প্রথম থেকেই তাদের উদ্দেশ্য ছিল দুরভিসন্ধিমূলক। পাশাপাশি মক্কার কুরাইশদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ষষ্ঠত, সর্বোপরি এ সনদে মহানবীর মর্যাদা একাধারে প্রশাসক, বিচারক, সেনাপতি, আইন প্রণয়নকারী ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হয়। অর্থাৎ 'Supreme leadership of the Prophet-এর স্বীকৃতি পাওয়া যায় এই সনদে। এছাড়া এর কতিপয় সাধারণ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।
যেমন-
১. সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব।
২. মুসলিম সম্প্রদায় একটি অখণ্ড জাতি হিসেবে স্বীকৃত।
৩. মদিনার নিরাপত্তায় সকলের যৌথ দায়িত্ব।
৪. সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা দান।
৫. মুসলিম-অমুসলিম সম্মিলিত একটি জাতি হিসেবে স্বীকৃতি।
৬. অপরাধীকে কেউ আশ্রয় দেবে না।
৭. নিজ অপরাধের জন্য নিজেই দায়ী হবে।
৮. প্রতিশোধ হবে সমমাত্রিক। তবে প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমাই শ্রেয়।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদ হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে ম্যাগনাকার্টা স্বরূপ। বস্তুত মদিনার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও নাগরিক জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে মদিনা সনদ। ধর্ম প্রচারক ছাড়াও মহানবী (স) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী নেতা, এ সনদে তাই প্রমাণিত হয়েছে।
ইসলামি ব্যাংক অন্যান্য প্রচলিত ব্যাংক থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। সাধারণ ব্যাংকের মতো কার্যাবলি সম্পাদন করলেও ইসলামি ব্যাংকের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
১. শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিতঃ ইসলামি ব্যাংক শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত। এর লেনদেন কোনো অবস্থাতেই শরীয়তপন্থি হবে না।
২. সুদমুক্ত: এ ব্যাংকব্যবস্থায় আমানত গ্রহণ ও বিনিয়োগ প্রদানে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত; এর কোনো অবস্থাতে সুদের লেনদেন নেই। কেননা সুদ একদিকে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে অপরদিকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যায়।
৩. অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাঃ ইসলামি ব্যাংকিং হলো গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা। নিয়ে এখানে ব্যাংক শুধু দাতা বা গ্রহীতার ভূমিকা পালন করবে না বরং গ্রাহকের সাথে অংশীদার হিসেবে ব্যবসায় কতসা পরিচালনা করে থাকে।
৪. অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনয়ন: ইসলামি ব্যাংক আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে সচেষ্ট। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা এই ব্যাংকের লক্ষ্য।
৫. ঋণ না দিয়ে বিনিয়োগ করাঃ ঋণের বিপরীতে বিনিয়োগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি ব্যাংক সুদকে নিরুৎসাহিত করেছে। কেননা ঋণের সাথে সুদ সম্পৃক্ত। ঋণের পরিবর্তে ইসলামি ব্যাংক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে থাকে যা শরীয়তসম্মত।
৬.জনকল্যাণ: ইসলামি ব্যাংক শুধু মুনাফা অর্জনে ব্যস্ত নয় বরং এটি জনকল্যাণে নিয়োজিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রকার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে।
৭. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ ব্যাংকের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বেকার সমস্যা সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৮. মেধার মূল্যায়ন: ইসলামি ব্যাংক মেধাবী ও সৎ প্রার্থীদের। যথাযথ মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো প্রকার দুর্নীতি ছাড়াই কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে।
৯. যাকাত আদায়ঃ এই ব্যাংক যাকাত আদায়ের মাধ্যমে জনগণকে যাকাত প্রদানে উৎসাহিত করছে।
১০. মানবসম্পদ উন্নয়ন: মানবসম্পদ উন্নয়নে এ ব্যাংকের প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। এটি এ ব্যাংকের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং এটি এ ব্যাংকের নিজস্বতা।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি ব্যাংক দেশে প্রচলিত অন্যান্য ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধারায় পরিচালিত, যা জনকল্যাণসহ অন্যান্য ইসলামি ভাবধারা বজায় রাখতে সক্ষম। সুতরাং এ ব্যাংক ইসলামি অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অগ্রগণ্য।
মহান আল্লাহ হলেন মানুষের সৃষ্টিকর্তা। আর মানুষ সৃষ্টির মাধ্যম হলো পিতামাতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহর ইবাদতের সাথে সাথে পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর রসুল (স) ও আল্লাহর পরেই পিতামাতার অধিকারের কথা ব্যক্ত করেছেন। বস্তুত, মানুষের জন্য আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত পিতামাতা। সঙ্গত কারণে পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্যও সবচেয়ে বেশি। আর পিতামাতার যা অধিকার, তাই সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য।
সন্তানের প্রতি পিতামাতার অধিকার:
১. সদ্ব্যবহার: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাঁর ইবাদতের পরই পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন ইরশাদ হচ্ছে, "আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।" অতএব পিতামাতার সাথে সর্বদা সদাচরণ করা এবং তাদের সঙ্গে কোমল কণ্ঠে ও মার্জিত ভাষায় কথা বলা সন্তানের কর্তব্য।
২. আদেশ-নিষেধ মেনে চলা: জীবনের সর্বক্ষেত্রে পিতামাতার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা সন্তানের অপরিহার্য কর্তব্য। অবশ্য পিতামাতা যদি শিরক ও কুফরের পথে চলতে বলেন, তবে সেক্ষেত্রে তাদের নির্দেশ মান্য করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যদি তারা আমাদের সাথে এমন বিষয়ে শরীক করতে তোমাকে পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তাদের কথা মেনে নিও না। আর পার্থিব জগতে তাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখো।”
৩.সম্পর্কচ্ছেদ না করা: কোনো অবস্থাতেই পিতামাতার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা যাবে না। তাদের শরীয়ত বিরোধী নির্দেশ পালন না করেও তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
৪. আর্থিক সহায়তা করা: বৃদ্ধাবস্থায় পিতামাতা উপার্জনক্ষম
থাকেন না। জীবনধারণের জন্য তাঁরা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ সময়ে তাদের সকল অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও শারীরিক কষ্ট যাতে না পায় সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে।
৫ . কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা: পিতামাতা সন্তান জন্ম দেয়। সন্তান লালন-পালন, শিক্ষা-দীক্ষা ও স্নেহ-মমতায় বড় করে তোলেন। তাদের অনুকম্পা ব্যতীত একটি শিশু কোনোদিন পূর্ণাঙ্গরূপে মানুষ হতে পারে না। তাই সন্তানকে তাদের প্রতি পরম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
৬. মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া করা: মৃত্যুর পর পিতামাতার জন্য সন্তানের দোয়া কবুল হয়। কাজেই তাদের গোনাহ মাফের জন্য সন্তানের প্রার্থনা করা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ নিজেই দোয়া শিখিয়েছেন- রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার পিতামাতার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।
৭. ওসিয়ত পূর্ণ করা: মৃত্যুর পূর্বে পিতামাতা কারো সাথে কোনো ওয়াদা করলে উক্ত ওয়াদা পূরণ করা সন্তানের একান্ত কর্তব্য।
৮. ঋণ পরিশোধ করা: মৃত্যুর পূর্বে পিতামাতা ঋণ করে থাকলে সে ঋণ পরিশোধ করা সন্তানের একান্ত কর্তব্য। ঋণ পরিশোধ করা না হলে পরকালে পিতামাতা ও সন্তান উভয়ই সমস্যার সম্মুখীন হবে।
৯. পিতামাতার বন্ধু-বান্ধবদের শ্রদ্ধা করা: জীবদ্দশায় যারা পিতামাতার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মী ছিলেন তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের কর্তব্য। তাদেরকে ইজ্জত দেওয়া, মেহমানদারি করা, তাদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া, উপহার সামগ্রী দেওয়া ইত্যাদি এর মধ্যে পড়ে।
পিতামাতার খিদমতের মাধ্যমে পরকালীন চূড়ান্ত সফলতা তথা জান্নাত লাভ সম্ভব। আর পিতামাতার নাফরমানী করলে পৃথিবীতে যেমন লাঞ্ছিত হতে হবে তেমনি পরকালেও নিক্ষিপ্ত হতে হবে জাহান্নামে। তাই আমাদের উচিত পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের পূর্ণ আনুগত্য করে তাদের মন জয় করা।
'বাইয়াতে রিদওয়ান' এক ঐতিহাসিক শপথের নাম, যা সাহাবিগণ রসুল (স)-এর হাতের ওপর হাত রেখে শপথ নিয়েছিলেন। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) ষষ্ঠ হিজরিতে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে হজ করার জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হযরত (স)-এর আগমনের সংবাদ শুনে কুরাইশগণ তাঁকে বাধা দিতে স্থির করলো। কুরাইশদের উদ্দেশ্য জানতে পেরে মহানবী (স) মক্কার নিকট হুদাইবিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। এবং তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য জানাবার জন্য তিনি প্রথমে খারাস ইবনে উমাইয়া ও পরে হযরত ওসমান (রা)-কে কুরাইশদের নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করলেন। কিন্তু কুরাইশরা ওসমান (রা)-কে আটক করে রাখল। এদিকে জনরব উঠল যে ওসমান (রা) মুশরিকদের হাতে মক্কায় নিহত হয়েছেন। মুসলিম যোদ্ধাগণ প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটি বৃক্ষের নিচে রসুল (স)-এর হাতের ওপর হাত রেখে শপথ করলো। এই শপথে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন এবং ওহী নাযিল করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই শপথ বা বাইয়াতকে বাইয়াতে রিদওয়ান বলা হয়। একে 'বাইআতুস সাজার'ও বলা হয়।
অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর জড়িত ও অবিচ্ছেদ্য। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নাগরিকদের অধিকার যেমন স্বীকৃত, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্যও রয়েছে। একজন সুনাগরিকের তাই এসব কর্তব্য পালনের গুণ থাকা আবশ্যক।
এরূপ কিছু গুণাবলি নিম্নে প্রদত্ত হলো:
১. আনুগত্যঃ প্রত্যেক নাগরিকেরই সর্বপ্রথম ও প্রধান গুণ হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য করা। আনুগত্য ব্যতীত কেউ কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করতে পারে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর ঘোষণা- "তোমরা আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য করো। আর তোমাদের নেতা তথা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুগত হও।" (সূরা নিসা: ৫৯)
মহানবী (স) বলেছেন- “প্রত্যেক মুসলমানদের শুনতে হবে, মানতে হবে, সে পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক, যতক্ষণ না পাপ কার্যে আদেশ না দেওয়া হয়।”
অতএব, ইসলামি সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং সরকারের নির্দেশ মানা (পাপ কার্য ব্যতীত) আল্লাহ ও তাঁর রসুলের হুকুম।
২. আইন পালন: রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন পুরোপুরি পালন করা নাগরিকদের অন্যতম গুণ। আইন পালিত না হলে রাষ্ট্র ও অস্তিত্বই অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়; শাসন ও শৃঙ্খলা চুরমার হয়ে যায়। নিজে আইন পালন এবং অপরকে দিয়ে আইন মানার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখা নাগরিকের কর্তব্য।
৩. রাজস্ব আদায়: যাবতীয় রাষ্ট্রীয় পাওনা আদায় করা, রাজস্ব ও অন্যান্য দেয় সঠিক সময়ে সরকারি তহবিলে জমা করাও নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
৪. যাকাত-উশর আদায় করাঃ যাকাত-উশরসহ সকল প্রকার সাদকাহ আদায় করতে হবে। আল্লাহ বলেন- "তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো ও যাকাত দাও।" যাকাত দ্বারা যখন ধনবৈষম্য দূর না হয়, তখন ধনীদেরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধনসম্পত্তি রাষ্ট্রের কাছে অর্পণ করতে হবে।
৫. সৎকাজে সহযোগিতা করা: সরকারের প্রত্যেকটি সৎকাজে সার্বিক সহযোগিতা করাও নাগরিকদের অন্যতম গুণ। যেমন : মহান আল্লাহর বাণী- "ভালো কাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা সহযোগিতা করো।" (সূরা মায়িদা: ২)
৬. দেশের প্রতিরক্ষা: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নাগরিকগণ তাদের জান-মাল দ্বারা সর্বতোভাবে রাষ্ট্রের সাহায্য করবে। মহান আল্লাহর ঘোষণা- "তোমরা ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করো।" (সূরা তাওবা: ৪১)
৭. বিশৃঙ্খলা না করা: রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি না করা এবং অভ্যন্তরীণ গোলযোগ হতে বিরত থাকা নাগরিকদের কর্তব্য। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন- "বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।" (সূরা বাকারা: ১৯১)
৮. জনসেবা: সাধারণত জনগণের খেদমত ও কল্যাণ বিধানে
ব্রতী হওয়া নাগরিকদের অন্যতম গুণ। রাষ্ট্রের বৈষয়িক উদ্দেশ্য যেহেতু জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন। এ কারণে প্রত্যেক নাগরিককেই এই খেদমতের কাজ করতে হবে ব্যক্তিগতভাবে ও সামাজিকভাবে। কোনো ব্যক্তিই যাতে নিপীড়িত, অত্যাচারিত ও অধিকার বঞ্চিত না হয়, কোনো দুর্দশায় পড়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখাও নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
বস্তুত, ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ যেমন তাদের অধিকার ভোগ করবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্যও সঠিকরূপে আঞ্জাম দেবে। আর এরই মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর রাষ্ট্রব্যবস্থা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!