ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
উদ্দীপকে বর্ণিত গার্সিয়া কারাসকোর সাথে ভারতের ব্রিটিশ শাসক লর্ড লিটনের মিল রয়েছে।
লর্ড লিটন ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষের ভাইসরয় নিযুক্ত হন। নানা কারণে তার শাসনকাল ভারতবর্ষে বিভিন্নভাবে আলোচিত সমালোচিত। তবে এর মধ্যে তার দমনমূলক নীতি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত। এ নীতির কারণে তিনি ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ এবং ভারতবাসীর বিরাগভাজন হন। এছাড়াও তিনি পূর্ববর্তী শাসকদের নিরপেক্ষ নীতি পরিত্যাগ করে অগ্রসর নীতি গ্রহণ করার মাধ্যমেও বেশ সমালোচিত হন। ধারণা করা হয়, এই নীতি গ্রহণ করার কারণেই তার পতন ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া কারাসকো গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হয়ে দমননীতির এক স্টিম রোলার চালানো শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তিনি পূর্ববর্তী শাসকদের নিরপেক্ষ নীতি বাতিল করে অগ্রসর নীতি গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের এ তথ্য এবং উপরে আলোচিত তথ্যের তুলনামূলক পর্যালোচনা করে বলা যায়, ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া কারাসকো ভারতের ভাইসরয় লর্ড লিটনের অনুরূপ। তাই বলা যায়, গার্সিয়া কারাসকোর সাথে ভারতের ব্রিটিশ শাসক লর্ড লিটনের মিল আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!