মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে জাগ্রত করার জন্য সৃজনশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু কিছু সৃজনশীল উপাদান রয়েছে। যেমন- ছবি আঁকা, কবিতা লেখা প্রভৃতি। সুজনশীলতার প্রকাশ ঘটলে মানুষের মানস্তাত্ত্বিক উন্নতি ঘটে। তাই সৃজশীলতা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়।

আমরা অনেকেই কাজ করে আনন্দ পাই। কাজে সফলতা লাভের জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হওয়া এবং সৃজনশীল চিন্তাচেতনার প্রয়োগ করা। সাধারণত কায়িক ও মেধাশ্রম প্রয়োগ করে কাজ সম্পন্ন করতে হয়। কাজের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এখন আমরা আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, কায়িক ও মেধাশ্রমের ধারণা লাভ করতে চেষ্টা করব।
এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা এবং কায়িক ও মেধাশ্রমের ধারণা দিতে পারব।
- কাজের ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করতে পারব।
Related Question
View All'আত্ম' অর্থ 'নিজ' আর 'মর্যাদা' অর্থ 'সম্মান'। অর্থাৎ আত্মমর্যাদা অর্থ নিজের প্রতি সম্মান।
আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে থাকে। এছাড়া নিজের চারপাশ ও অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থেকে সে অনুযায়ী কাজ করে। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। ন্যায় ও সঠিক কাজ করতে লজ্জাবোধ করে না।
রহিম মিয়ার কাজটি এক ধরনের সৃজনশীল কাজ।
সৃজনশীলতা হলো নতুন কিছু সৃষ্টি করা কিংবা বিদ্যমান কিছু নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা। সুতরাং বলা যায়, রহিম মিয়ার কাজের মধ্যে সৃজনশীলতার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। নিত্য-নতুন ডিজাইন ও হরেক রকম লেখালেখির কাজই তার সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ অর্থাৎ এ ধরনের কাজ সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।
তাই বলা যায় রহিম মিয়ার কাজটি সৃজনশীল কাজ।
রহিম মিয়া বন্ধুদের সাথে যৌথভাবে যে ব্যবসায় চালু করেছিল সেই ব্যবসায়ে কিছুদিন পর লোকসান হয়। এতে রহিম মিয়ার বন্ধুরা হাল ছেড়ে দিলেও রহিম মিয়া দমে যাননি। তিনি নতুন উদ্যমে তাঁর সুন্দর হাতের লেখা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন আঁকা ও সাইনবোর্ড লেখার কাজ শুরু করেন। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি এই কাজে সফলতা লাভ করেন। রহিম মিয়ার এরূপ উদ্যোগ ও কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তাঁর চরিত্রে সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ এবং পরিশ্রম করার মানসিকতার বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে। যার কারণে তিনি ব্যবসায়ে লোকসান হওয়ার পরেও সৃষ্টিশীল কাজের বিনিময়ে ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করেন। তাঁর এ সফলতার মূলে রয়েছে কর্মগুণ এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা তাঁকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে। অতএব বলা যায়, রহিম মিয়ার চারিত্রিক বৈশিস্টাই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অসীম সাহসী। তারা ছিলেন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। আত্মবিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে তারা আমাদের দেশকে শত্রুমুক্ত করেছেন। শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন আমাদের নিরীহ মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন আমাদের কাছে ছিল না কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা প্রশিক্ষণ। কিন্তু শুধু আত্মবিশ্বাস এবং দেশপ্রেমের অগ্নিমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েই আমাদের বাংলার দামাল ছেলেরা এই অসম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আত্মবিশ্বাসই মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল। তাই আমরা যথার্থই বলতে পারি, বৃত্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!