নীলগঞ্জের সেন বংশ বর্তমানে হতদরিদ্র হওয়ায় তাদের বাড়িতে ডাকাত আসার কথা নয়।
'১৯৭১' উপন্যাসে ভোরের দিকে হালকা আলোতে চিত্রা বুড়ি দেখে সেনবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু লোক টর্চ লাইট ফেলছে। বুড়ি ভাবে তারা হয়তো ডাকাত। কিন্তু সেনদের এখন যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাতে ডাকাত আসার কথা নয়। নীলগঞ্জ গ্রামে সেনবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা দুর্গাপুরের মহারাজের নায়েব চন্দ্রকান্ত সেন। সেনবাড়িটি দুই বিঘা জমির উপর বিস্তীর্ণ। পূর্বে চন্দ্রকান্ত সেনের অনেক ধনসম্পদ ছিল। তবে বর্তমানে তাঁর উত্তরাধিকারীরা এই সম্পদের সন্ধান জানে না। সেনবাড়িতে বর্তমানে কেবল একটি প্রকান্ড দালান আছে। এই বাড়িতে ইট ছাড়া মূল্যবান কিছুই নেই। বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারী নীলু সেন বাড়িটিতে বসবাস করেন। তবে তার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। মূলত সেনদের বর্তমানে কোনো অর্থসম্পদ না থাকায় ডাকাতের আসার কথা নয়।
Related Question
View Allহুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২)। সহজসরল ভাষা, গভীর জীবনবোধ, রহস্যময়তা এবং মানবিকতার মিশ্রণে তিনি এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর অন্যতম সৃষ্টি '১৯৭১' উপন্যাস। গ্রামের সাধারণ মানুষের সাবলীল পথচলার ক্ষেত্রে যুদ্ধ কীভাবে বাধা সৃষ্টি করে, তা সুনিপুণভাবে তিনি এ উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন।
'১৯৭১' উপন্যাসের নীলগঞ্জ গ্রাম একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এই গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা খুবই সাধারণ। গ্রামের মানুষ যে যার কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অনুফা সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। চিত্রা বুড়ি নিজের মতো একা একা থাকে। গ্রামের বদিউজ্জামান ব্যাবসার সাথে জড়িত। এ অঞ্চলে কৈবর্তপাড়া আছে। তারা মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করে। গ্রামে দুইজন অস্থায়ী লোক বসবাস করেন। একজন মসজিদের ইমাম; তিনি মসজিদে থাকেন। অন্য জন স্কুল মাস্টার, তিনি জয়নাল মিয়ার বাড়িতে থাকেন। তারাও নীলগঞ্জ গ্রামে স্বচ্ছন্দময় জীবনযাপন করেন। পহেলা মে পাকিস্তানি বাহিনী. রাতের অন্ধকারে নীলগঞ্জ গ্রামে ঢোকে। তাদের আগমন গ্রামের সাবলীল জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বৃদ্ধ মীর আলি চোখে দেখতে না পেলেও কানে শুনতে পান কেউ গ্রামে ঢুকছে। ইমাম সাহেব মিলিটারি দেখে বারবার দোয়াদরুদ পড়তে থাকেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর আগমনের কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়ে। কারণ এ গ্রামে আগে কখনো মিলিটারি আসেনি। উপন্যাসে দেখা যায় পাকিস্তানি বাহিনী নীলগঞ্জ গ্রামে এসেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। তারা ইমাম ও মাস্টারকে স্কুলঘরে নিয়ে অমানবিক অত্যাচার করে। ইমামকে মারধর এবং মাস্টারকে সম্ভ্রমহানি করে। গ্রামের চিত্রা বুড়ির ছেলে হত্যার বিচার করতে গিয়ে মনা এবং তার এগারো বছরের ভাইকে মেজর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। সফদরউল্লাহর পরিবারের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচার তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন করে তোলে। গ্রামে অন্য একজন সহজ-সরল বদিউজ্জামানের
গ্রামের কৈবর্তরা মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করত। পাকিস্তানি বাহিনীর প্রবেশে তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। মুক্তিবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়ার সংবাদে কৈবর্তপাড়ায় তারা গণহত্যা শুরু করে। আগুন জ্বালিয়ে পুরো কৈবর্তপাড়া খালি করে ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী। তাই বলা যায়, হুমায়ূন আহমেদ অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় দেখিয়েছেন যে, যুদ্ধ নীলগঞ্জের মতো একটি গ্রামের স্বাভাবিক জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে। গ্রামের মানুষের মনে একদিকে যেমন আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে তাদের মধ্যে প্রতিরোধের এক নতুন স্পৃহাও জন্ম নেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!