সেলিনা বেগম একজন নতুন উদ্যোক্তা। তিনি সমাজের পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেলিনা বেগম আরও চিন্তা করেন যে, যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেত, যেখানে কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসল জমা করে তা দিয়ে দুঃসময়ে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যাবে। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

Inn'- এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো সরাইখানা।

উত্তরঃ

দানশীলতা ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

প্রাচীনকালে সামাজিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো ধর্ম ও দর্শনের অনুপ্রেরণা থেকে। তাছাড়া মানবতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধও বিশেষভাবে কার্যকর ছিল। এক্ষেত্রে দানশীলতা ছিল একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কেননা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দানশীলতাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যকলাপকে মহান করে দেখা হতো। সেইসাথে এ ধরনের কাজকে পরকালের মুক্তির উপায় হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। এর প্রেক্ষিতেই মানুষ ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দানশীলতাভিত্তিক সমাজকল্যাণের সূত্রপাত ঘটায়।

উত্তরঃ

সেলিনা বেগমের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে এতিমখানা।
সাধারণত এতিম বলতে সেসব শিশুকে বোঝায় যাদের মা-বাবা উভয়ই কিংবা তাদের দুজনের একজন বেঁচে নেই। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের এতিম ও অসহায় শিশুদের লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হয় তাকেই এতিমখানা বলা হয়। এখানে সাধারণত ৫ বছর বয়সী শিশুদের দায়িত্বভার গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে পূর্ণবয়স্ক বা ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এদের ভরণ-পোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

এতিমখানা গঠনের কতগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। এতিমখানায় এতিম ও অসহায় শিশুদের আশ্রয় ও ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করে। এর পাশাপাশি এখানে এতিম শিশুদের সাধারণ, ধর্মীয় ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এতিমখানা এতিমদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের প্রচেষ্টা চালায়। এর ফলে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা পায়। এছাড়া এতিমখানাগুলো শিশুদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। সেখানে এতিম শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়তা করা হয়। এতিমখানাগুলো সাধারণ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা শেষে এতিমদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উদ্দীপকে সেলিনা বেগমও সমাজের পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অর্থাৎ তিনি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে ধর্মগোলা। তৎকালীন সময়ে ধর্মগোলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

ধর্মগোলা হলো একটি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ পদ্ধতি। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে ধর্মগোলায় জমা রাখা হতো। অভাব বা দুর্ভিক্ষের সময় বিনা সুদে তা বিতরণের ব্যবস্থা করা হতো। তবে দুর্ভিক্ষ ছাড়াও ধর্মগোলা থেকে অভাবের সময় কৃষকদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হতো।
সেক্ষেত্রে শর্ত থাকতো পরবর্তী মৌসুমে ফসল উঠলে তা পরিশোধ করতে হবে।
ব্রিটিশ শাসনামলে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে দুর্ভিক্ষ ও আপদকালীন খাদ্য সংকট মেটাতে ধর্মগোলা সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে ব্রিটিশদের শোষণ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সৃষ্ট জমিদারি প্রথার কুফল এবং বিশ্বযুদ্ধজনিত দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার লক্ষ্যে ধর্মগোলা গড়ে ওঠে। ধর্মগোলার মাধ্যমে অনাহারী ও অসুবিধাগ্রস্ত মানুষ আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা পেয়ে বিপদের সময় উপকৃত হতো। তবে শুধু দুর্ভিক্ষপীড়িত জনগণের প্রাণ রক্ষার জন্যই নয়; গ্রাম্য মহাজনদের অত্যাচার প্রতিরোধেও এই ব্যবস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করত। উদ্দীপকের সেলিনা বেগম দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের চিন্তা করেছেন যেখানে কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসল জমা করে তা দিয়ে দুঃসময়ে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যাবে।
এটি ধর্মগোলাকে ইঙ্গিত করছে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান ধর্মগোলা অসহায় মানুষকে রক্ষা ও তৎকালীন দরিদ্র কৃষকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

113
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।

231
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।

সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।

166
উত্তরঃ

হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।

সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।

216
উত্তরঃ

সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।

1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews