কওহি (৫১) আরবি শব্দ। এর অর্থ ইশারা, ইঙ্গিত, গোপন কথা ইত্যাদি।
সাধারণত কোনো ব্যক্তির নিকট গোপনে প্রেরিত সংবাদকে ওহি বলা হয়। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবি-রাসুলগণের নিকট প্রেরিত সংবাদ বা বাণীকে ওহি বলা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর আল কুরআন নাযিল করেছেন। সুতরাং আল-কুরআন হলো এক প্রকার ওহি।
ওহি অবতরণের প্রসিদ্ধ দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে রবি জানতে পারে।'
ওহি অবতরণের প্রসিদ্ধ দুটি পদ্ধতি হলো- ১. ফেরেশতার মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বাণী ফেরেশতার মাধ্যমে নবি-রাসুলগণের নিকট পৌছাতেন। যেমন- হযরত জিবরাইল (আ.) হলেন প্রধান ওহি বাহক ফেরেশতা। তিনি নবি-রাসুলগণের নিকট আল্লাহ তায়ালার বাণী নিয়ে হাজির হতেন। ২. সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা সরাসরি নবি-রাসুলগণের সাথে কথা বলতেন। যেমন-আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.)-এর সাথে তুর পাহাড়ে কথা বলেছেন। আমাদের প্রিয়নবি (স.) ও মিরাজের রজনীতে আল্লাহ তায়ালার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।
সুতরাং বলা যায়, রবি ওহি অবতরণের উল্লিখিত প্রসিদ্ধ দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারে।
রবি সেলিনা রহমানের আলোচনা থেকে জানতে পারল যে, ওহির তাৎপর্য অপরিসীম।
ওহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। ওহি সরাসরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাযিল হয়। এটা হলো অকাট্য জ্ঞান। এতে কোনোরূপ ভুলত্রুটি নেই। ওহির সংবাদ সকল প্রকার সন্দেহের উর্ধ্বে। ওহি সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস। ওহির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সকল প্রকার জ্ঞানদান করেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতারিত বলে এ জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ ও অতুলনীয়। আমরা আমাদের নিজেদের গৃহ সম্পর্কে ভালোভাবে জানি। আমাদের গৃহে কোথায় কোনো জিনিস রাখা আছে তা আমরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারব। বাইরের কেউ তা পারবে না। তদ্রূপ আমরাও অন্যের ঘরে কোথায় কী আছে তা বলতে পারব না। তেমনিভাবে আল্লাহ সারা বিশ্বজগতের স্রষ্টা। তিনি নিজ কুদরতে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাঁর হুকুমেই সকল কিছু পরিচালিত হয়। পৃথিবীর কোথায় কোন জিনিস কী অবস্থায় আছে তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। প্রত্যেক জিনিসের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি অবহিত। সুতরাং তিনি যে সংবাদ-জ্ঞান নাযিল করেন তা অকাট্য। কেউ এরূপ জ্ঞান খণ্ডন করতে পারে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, রবি সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে ওহি নাযিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে, জবাবে সেলিনা রহমান হযরত মুসা (আ.)-এর ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তাৎপর্য আলোচনা করে বুঝিয়ে দিলেন।
সুতরাং রবি সেলিনা রহমানের আলোচনা থেকে জানতে পারল যে, ভূহির তাৎপর্য অপরিসীম।
Related Question
View Allতাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা।
আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে দুনিয়ার ভালো কাজের জন্য জান্নাত লাভ করবে এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম পাবে। আখিরাতে অবিশ্বাস করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। আর এজন্যই মুত্তাকি আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
নামাযের প্রতি রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো একটির অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। যেমন- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করা কুফর। নামায যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদত সেহেতু এটি অস্বীকার করা কুফরি।
উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, সমাজপতি রাজা মিয়া তার প্রকল্পে কর্মরত জনাব ফরিদ উদ্দিনকে নামায পড়তে নিষেধ করে বলেন, নামায আবার কিসের জন্য, কাজ কর তাহলেই সুখ পাবে। এজন্য রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আখিরাতে বিশ্বাস ফরিদ উদ্দিনকে নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে সে আখিরাতে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তাঁর আবাসস্থল হবে চিরশান্তির জান্নাত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ইমান আনবে না এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ করবে সে আখিরাতে শাস্তি ভোগ করবে। সর্বোপরি আখিরাতে বিশ্বাস করলে মানবজীবন সুন্দর হয়। মানুষ উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সবধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
ফরিদ উদ্দিন বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হলো আমল করার স্থান। আখিরাত হলো ফলভোগের স্থান। আখিরাতে মানুষ কোনো আমল করতে পারবে না। বরং দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ আমল করেছে সেরূপ ফল ভোগ করবে।
সুতরাং বলা যায়, যে মূল বিশ্বাসের ফলে ফরিদ উদ্দিন নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল, সেটি হলো আখিরাতে বিশ্বাস।
আসমাউল হুসনা' অর্থ সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামসমূহকেই 'আসমাউল হুসনা' বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালা অতুলনীয়। তাঁর সত্তা যেমন অনাদি ও অনন্ত, তাঁর গুণাবলিও তেমনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালার এসব গুণ নানা শব্দে নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়। এসব গুণের প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, দয়াবান, ক্ষমাশীল, শান্তিদাতা ও পরাক্রমশালী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান; তিনিই মালিক। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং বলা হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!