জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন লোক বাস করে তাকে বোঝায়।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৮৯ লাখ। বাংলাদেশের আয়তন মাত্র ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব DP
= ১০৭৭ জন (প্রায়)
এখানে DP = Density of Population (জনসংখ্যার ঘনত্ব)
TP = Total Population (মোট জনসংখ্যা)
TA = Total Area (মোট আয়তন)
মূলকথা: বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০৭৭ জন (প্রায়)।
অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণগুলো নিম্নোক্তভাবে ব্যাখ্যা করেন-
→ বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অধিকাংশ এলাকা সমতল হওয়ায় মানুষের জীবিকা নির্বাহ, যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধা, জীবনধারণের ব্যয় কম। এর ফলে এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
⇒ এদেশের জলবায়ু আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় এখানকার ছেলেমেয়েরা কম বয়সেই যৌবনপ্রাপ্ত হয় এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। তাই এখানে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ে।
⇒ বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে ফসল উৎপাদন সহজ হয়। তাই এদেশে মানুষের বসতি বৃদ্ধি পায় এবং ঘনত্বও বেশি হয়ে থাকে।
⇒ খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্বেতসারের আধিক্য থাকলে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
⇒ এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ। এদেশের ছেলেমেয়েরা অল্পবয়সে বিবাহ করে, ফলে জন্মহার বৃদ্ধি পায় এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হয়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিতভাবে আমজাদ হোসেন বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অসম ঘনত্ব দূরীকরণের জন্য আমি যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করি তা নিচে দেওয়া হলো-
→ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অসম ঘনত্ব দূরীকরণের জন্য দেশের প্রত্যেকটি জেলায় এবং অসম্ভব হলে উপজেলার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে।
⇒ প্রত্যেক জেলায় কৃষির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বীজ, সেচ, উন্নত প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ভালো ফসল ফলাতে হবে।
⇒ শিল্পের বিকেন্দ্রিকরণ করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় যদি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় তবে মানুষ এক জায়গায় না থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে। এতে অসম ঘনত্ব দূর হবে।
→ বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক কম। এসব অঞ্চলের ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য রাস্তাঘাট, বাজার, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি বৃদ্ধি করতে হবে। ফলে অসম ঘনত্ব দূর হবে।
⇒ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে অসম ঘনত্ব হ্রাস করা সম্ভব। যেমন- সরকারি মন্ত্রণালয়, জজকোর্ট, বিভিন্ন অধিদপ্তর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহ বিকেন্দ্রিকরণ করা যেতে পারে।
⇒ দেশের প্রতিটি জেলায় উচ্চমানসম্পন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেই এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অসম ঘনত্ব দূরীকরণ সম্ভম্ব বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!