মাটি ও পানির স্বাভাবিক উর্বরতায় অথবা সার প্রয়োগে কোনো জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে যে খাদ্য উৎপন্ন হয় তাকে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য বলে।
মূলত পানির দূষিত পরিবেশই মাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী। দূষিত পানিতে মাছের রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন জীবাণু, যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী ইত্যাদির বিস্তার বেশি হয়। এছাড়া পানির দূষিত পরিবেশে মাছের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে মাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়বার জালে ওঠা মাছটি হলো নাইলোটিকা মাছ। মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য, পুকুরে বিদ্যমান প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে। সম্পূরক খাদ্যে মাছের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান যথাযথ মাত্রায় থাকে। নিচে নাইলোটিকা মাছ চাষের জন্য ১০ কেজি সম্পূরক খাদ্যের তালিকা উল্লেখ করা হলো-
খাদ্য উপাদান | শতকরা হার | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১. চালের মিহি কুঁড়া | ৩৫ | ৩.৫ কেজি |
| ২. গমের ভুসি | ২০ | ২.০ কেজি |
| ৩. সরিষার খৈল | ৩০ | ৩ কেজি |
| ৪. শুঁটকি মাছের গুড়া | ১০ | ১ কেজি |
| ৫. ঝোলা গুড় | ৪ | ৪০০ গ্রাম |
| ৬. ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ | ১ | ১০০ গ্রাম |
| মোট | ১০০ | ১০ কেজি |
নাইলোটিকা মাছের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে উপরিউক্ত মাত্রায় নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রদান করতে হবে।
প্রথমবার জালে ওঠা মাছটি হলো রাজপুঁটি মাছ।
মাছের দেহে সর্বদা বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া যেমন: শ্বসন, বিপাক ইত্যাদি চলতে থাকে। কোনো কারণে এসব স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ বাধাগ্রস্ত হলে মাছে রোগের সংক্রমণ হয়। তাই সফল ও বাণিজ্যিকভাবে রাজপুঁটি মাছ চাষে রোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত দিকগুলো বিবেচনা করা উচিত-
১. মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখা: পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে, অর্থাৎ পানির তাপমাত্রা, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও শেওলার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রবেশের জন্য পাড়ের বড় গাছপালা ছাঁটাই ও আগাছা দমন করতে হবে। বন্যার পানিতে যেন পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. সঠিক মাত্রায় সুস্থ-সবল ও উন্নতজাতের পোনা মজুদ: হ্যাচারি থেকে উন্নতমানের সুস্থ-সবল পোনা সংগ্রহ করতে হবে। অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ না করে পুকুরের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পোনা ছাড়তে হবে। সাধারণত পুকুরে প্রতি শতকে ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ২৫০টি রাজপুঁটি মাছের পোনা মজুদ করা হয়।
৩. সার ও চুন প্রয়োগ: পুকুরে নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। কেননা অতিরিক্ত সার প্রয়োগে পুকুরের পানি দূষিত এবং মাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাছাড়া পুকুর জীবাণুমুক্ত রাখতে বছরে ২-৩ বার চুন প্রয়োগ করতে হবে।
৪. সুষম খাদ্য: সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। কারণ সম্পূরক খাদ্যে সকল পুষ্টি উপাদান সুষম মাত্রায় থাকে। যার ফলে মাছের অপুষ্টিজনিত রোগ কম হয়।
৫. স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা: শারীরিক বৃদ্ধি ও রোগ-বালাই পরীক্ষার জন্য মাসে অন্তত ১ বার জাল টেনে মাছের সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো মাছে রোগের সংক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত মাছ পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অর্থাৎ, উন্নত জলজ পরিবেশ, সুষম খাদ্য ও সঠিক খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঁজপুটি মাছের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
Related Question
View Allকোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।
পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।
চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।
চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।
গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-
বৈশিষ্ট্য | গলদা চিংড়ি | বাগদা চিংড়ি |
|---|---|---|
| মাথা ও ক্যারাপেস | বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক | ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। |
| রোস্ট্রাম | লম্বা ও বাঁকানো | খাটো ও সোজা। |
| রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যা | উপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি। | উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি। |
| অ্যানটেনিউল | তিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত। | দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত। |
| শিরোবক্ষ | অন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত। | অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক। |
| প্লুরা | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে। | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে। |
| বক্ষোপাঙ্গ | প্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। | প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। |
| আবাসস্থল | প্রধানত স্বাদু পানি। | লোনা পানি। |
| বর্ণ | হালকা সবুজ বাদামি। | হালকা বাদামি। |
প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!