নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ কর্তৃক প্রকৃতিকে আয়ত্ত্বে এনে নিজের খাদ্য নিজেই উৎপাদন করাই নবোপলীয় বিপ্লব।
মানুষের প্রযুক্তিজ্ঞানের বিকাশে চাকার উদ্ভাবন এক মাইলফলক। চাকা আবিষ্কারের ফলে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ব্যবসা-বাণিজ্য, কারবার বৃদ্ধি পায় ও শ্রম বিভাগ প্রসারিত হয়। শুধু যানবাহনে নয়, চাকা শিল্প কর্মেও নতুন ধারা প্রবর্তন করেছিল। বিশেষ করে চাকা ব্যবহারের ফলে মৃৎশিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। চাকা আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করা সহজ হয়। ফলে বিভিন্ন জাতির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান, ব্যবসা- বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে চাকার আবিষ্কারকে সভ্যতা বিকাশের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পাহাড়পুরকে নির্দেশ করছে।
পাহাড়পুর বিহার বাংলাদেশে বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির এক আকর্ষণীয় নিদর্শন। অষ্টম শতাব্দীতে বরেন্দ্রভূমির সোমপুর নামক স্থানে পালবংশের দ্বিতীয় শাসক রাজা ধর্মপাল এই মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নওগাঁ জেলার বদলগাছী সদর উপজেলার অন্তর্গত পাহাড়পুর নামক স্থানে অবস্থিত। এই বিহারটির উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো- সোমপুর বিহার, স্নানঘাট, গন্ধেশ্বরীর মন্দির, সত্যপীর ভিটা ও জৈন বিহার। এখানে অসংখ্য মুদ্রা পাওয়া গেছে। এখানে প্রাপ্ত টেরাকোটার ফলকে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম চোখে পড়ে। পাহাড়পুরের ধ্বংসাবশেষ থেকে পোড়ামাটির নানা ধরনের থালা, বাটি, জলপাত্র, গহনাপাত্র, সীলমোহর, তাম্রলিপি, শিলালিপি ইত্যাদি পাওয়া গেছে।
উদ্দীপকের ছকে সোমপুর বিহার, গন্ধেশ্বরীর মন্দির, তাম্র ও শিলালিপি, প্রস্তর মূর্তি এবং মুদ্রার কথা উল্লেখ করা হযেছে। পূর্বোক্ত আলোচনায় স্পষ্ট যে, এগুলো পাহাড়পুর বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তাই বলা যায়, উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পাহাড়পুরকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকে নির্দেশিত পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করে। প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সমাজকাঠামোর প্রকৃতি নির্ধারণে পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সহায়ক ভূমিকা রাখে। এখানকার মন্দির, পাথর নির্মিত বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি প্রমাণ করে যে, প্রাচীনকালে (মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমল) এ অঞ্চলে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের বেশ প্রভাব ছিল। সে সময়ের রাজারা কারুকার্য খচিত বিশাল আয়তনের ধর্ম মন্দির স্থাপনে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় কাজে ধর্ম বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার ছিল। পাহাড়পুরের ধ্বংসাবশেষ আরো প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় কাজে ধনী ব্যক্তি কিংবা নৃপতিদের দানের হাত ছিল দরাজ। পাহাড়পুরে আবিষ্কৃত প্রাচীন মুদ্রা থেকে অনুমান করা অযৌক্তিক নয় যে, তখন সমাজে মুদ্রা অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছিল। আর মুদ্রা অর্থনীতির বিকাশ সমাজে সামাজিক অসমতা বা স্তরবিন্যাসের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। এ সভ্যতার তাম্রলিপি ও শিলালিপিতে উৎকীর্ণ ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, ভূমিদান ইত্যাদির দলিল থেকে মনে করা যেতে পারে যে, ভূসম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত পাহাড়পুরের নিদর্শনসমূহ বিশ্লেষণ করে তদানীন্তন বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসের একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা যায়। অর্থাৎ- নিদর্শনগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করেছে।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!