বেঙ্গল প্যাক্ট' হলো হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ব্যবধান দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতি তৈরির জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তি।
গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ছিলেন গণতন্ত্রমনা। রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারা চালু করার মানসে তিনি পাকিস্তানে প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্মদান করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সাধারণ নির্বাচনই গণতেন্ত্রর সূতিকাগার। তিনি জনগণের স্বাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সব সময় ভাবতেন শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতে তিনি পিছপা হতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, নির্ভুল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র কখনই ব্যর্থ হতে পারে না। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেতা ছিলেন বলেই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।
উদ্দীপকের সোলায়মান আলীর সঙ্গে আমার পঠিত ফরায়েজি আন্দোলনের মিল রয়েছে। মূল পাঠের আলোকে বলা যায়, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সুদূরপ্রসারী।
আরবি 'ফরজ' শব্দ থেকে ফরায়েজি শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হলো অবশ্য পালনীয় কর্তব্য অর্থাৎ, বাধ্যতামূলক কর্তব্য ও দায়িত্ব। হাজী শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের সকল প্রকার ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার জন্য ধর্মীয় সংস্কারের আন্দোলন শুরু করেন। তাদের আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালন করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। এসব কারণেই তার এ আন্দোলনের নাম 'ফরায়েজি আন্দোলন'। মূলত সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন পরিচালনা করেন। সেসব উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে-
মুসলমান জাতিকে সকল প্রকার পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধার করে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা; মুসলমানদেরকে ইসলামি মূলনীতি তথা ফরজ এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করা; ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ ও কুসংস্কার রোধে মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করা; মুসলমানদের সকল প্রকার নৈতিক বলে বলীয়ান করা প্রভৃতি। এছাড়াও মুসলমানদের অধিকার ও কর্তব্য পালনে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা; ইংরেজ সরকারের সকল জুলুম ও অত্যাচারের প্রতিবাদ জানানো; জমিদার শ্রেণির অত্যাচার-অনাচারের প্রতিবাদ করা; ইংরেজদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করা এবং ভারতবর্ষকে স্বাধীন করাও এ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল। ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিচারে ফরায়েজি আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সুদূরপ্রসারী।
উদ্দীপকের আকবর আলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নেতা অর্থাৎ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর ছিলেন আমাদের মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণার উৎস।
উদ্দীপকের আকবর আলী ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দেন এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। যদিও শাসক গোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধ হলে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আর এই আন্দোলনের সাথে শহীদ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা নির্মাণ, ইংরেজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধের মিল রয়েছে। নারকেল বাড়িয়ার যুদ্ধ ছিল ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ যা মুক্তিকামী জনগণকে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা দিয়ে আসছে। বাংলার মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে তিতুমীর প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার না পেলেও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করার যে শিক্ষা বাঙালিরা তার কাছ থেকে পেয়েছে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়েই পাকিস্তানিদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিরা রুখে দাঁড়িয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মূলত তিতুমীরের আত্মত্যাগই বাঙালিদের আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত করে। তিতুমীরই শিক্ষা দিয়েছেন, মহৎ অর্জনের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করতে হবে।
সুতরাং, উদ্দীপকে আকবর আলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র তথা তিতুমীর ব্যর্থ হলেও মুক্তিকামী জনগণের জন্য চির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
Related Question
View Allবেজাল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে
বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!