দ্বিকোটিক' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Dichotomy.
যৌক্তিক বিভাগের সাথে গুণগত বিভাগের দুটি পার্থক্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
এক: যৌক্তিক বিভাগকে বলা যায় একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ লৌকিক পদ্ধতি হিসেবে প্রচলিত হয়ে থাকে।
দুই: যৌক্তিক বিভাগ একটি শুদ্ধ ও যথার্থ বিভাগ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। পক্ষান্তরে, অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ অনেক ক্ষেত্রে ভ্রান্ত বিভাগ বা অনুপপত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা কেবল লৌকিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যকর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানা চার্টে যে শ্রেণিবিন্যস্ত করেছে যুক্তিবিদ্যার ভাষায় তাকে 'যৌক্তিক বিভাগ' বলে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
যুক্তিপদ্ধতির একটি সহায়ক প্রক্রিয়া হিসেবে যুক্তিবিদ্যায় যৌক্তিক বিভাগ সম্পর্কিত আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। যৌক্তিক বিভাগ হচ্ছে একটি অবরোহ যুক্তিপদ্ধতি, যেখানে একটি উচ্চতর জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। বস্তুত যৌক্তিক বিভাগ হচ্ছে একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জাগতিক জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বস্তুরাশিকে নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করায় এগুলোর স্বতন্ত্র প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভম্ব হয়। কাজেই এককথায় বলা যায়, জাগতিক বস্তুরাশিকে মানসিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে সুশৃঙ্খল জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাজন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বস্তুত যৌক্তিক বিভাজন প্রক্রিয়াটি কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয় বিধায় এর মাধ্যমে জগতের অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে সুনিয়ন্ত্রিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ব হয়। যার ফলে একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিসমূহের পারস্পরিক ভিন্নতা, স্বাতন্ত্র্য ও পারম্পর্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসব শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বস্তু বা প্রাণীর স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সহজেই নির্ণয় করা সম্ভম্ব হয়।
মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, যৌক্তিক বিভাগ সংজ্ঞায়ন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানার চার্টটি যুক্তিবিদ্যার যৌক্তিক বিভাগে আলোচিত হয়। নিচে যৌক্তিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
এক: যৌক্তিক বিভাগের মাধ্যমে আমরা যেকোনো জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের পরিমাণ, অর্থাৎ তার ব্যকুর্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ধারণা পেয়ে থাকি। আর এরূপ ধারণা আমাদের অপরাপর পদের সুষ্ঠু প্রয়োগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সক্ষম করে তোলে।
দুই: একটি বৃহত্তর জাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজাতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করাই যৌক্তিক বিভাগের প্রধান উদ্দেশ্য। একটি বৃহত্তর জাতির অধীনে কতগুলো উপজাতি আছে। এই উপজাতিগুলোর সাথে বৃহত্তর জাতির সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য বা পারস্পরিক সম্পর্ক কী এবং কোথায়, যৌক্তিক বিভাগ তা নির্ধারণ করতে আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে।
তিন : যৌক্তিক বিভাগে একটি বৃহত্তর জাতিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়। এর ফলে উপজাতিগুলোর সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট হয় এবং একটি উপজাতির সাথে অন্য কোনো উপজাতির মিশ্রণ ঘটার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। এককথায়, একটি জাতির অন্তর্গত উপজাতিসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিরূপণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
চার : যৌক্তিক বিভাগ সংজ্ঞায়নের প্রক্রিয়াকেও পরোক্ষভাবে সাহায্য করে থাকে। অর্থাৎ যৌক্তিক বিভাগের সহায়তায় আমরা সহজেই কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে পারি। কারণ সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের উল্লেখ করতে হয়। আর যৌক্তিক বিভাগে একটি জাতিকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত করা হয় বলে বিভক্ত উপজাতির আসন্নতম জাতির স্বরূপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা সুস্পষ্ট হয়। এভাবেই যৌক্তিক বিভাগ যথাযথভাবে আসন্নতম জাতি সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করে সংজ্ঞাকরণের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, যৌক্তিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
Related Question
View Allকোনো নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর উপশ্রেণিসমূহে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।
যৌক্তিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তার কিছু ক্ষেত্র এখানে তুলে ধরা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্তর্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাই।
⇨ বৃহত্তর জাতির অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাই।
⇨ সহজেই কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ণয় করা সম্ভম্ব হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
⇨ মানুষের মননশীল ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে।
উদ্দীপকে বাবা যৌক্তিক বিভাগের যেসব নিয়মের কথা ইঙ্গিত করেছেন তা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়।
⇨ একই সময় একটি মাত্র মূলসূত্র ব্যবহার করে একটি পদকে বিভক্ত করতে হয়।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণির মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ হবে।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে।
⇨ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির নাম বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিসমূহের প্রত্যেকের উপর প্রযোজ্য হবে।
⇨ বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তিসমূহকেই ইঙ্গিত করছে। বিভাজন প্রক্রিয়ায় যে নিয়মসমূহ রয়েছে, তা লঙ্ঘন করলে যেসব অনুপপত্তির সৃষ্টি 'হয় তা হলো-
অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি : জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের পরিবর্তে একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বিভক্ত করা হলে উপশ্রেণির উপর প্রযোজ্য না হলে এই অনুপপত্তিগুলো ঘটে। যেমন: একটি গাছকে মূল, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদি অংশে বিভক্ত করা হলে একে অঙ্গগত বিভাগ এবং যদি ফুলকে গন্ধ, বর্ণ, সৌন্দর্য ইত্যাদি বিশিষ্ট গুণে বিভক্ত করা হয়, তাহলে একে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
সংকর বিভাগ : একই সময় একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হলে এই অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে একই সাথে বর্ণ ও উচ্চতা-এ দুটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ ক্ষেত্রে 'লম্বা ও ফর্সা মানুষ' এবং 'বেঁটে ও কালো মানুষ' দুই শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, যা সঠিক বিভাজন নয়। কারণ এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা লম্বা কিন্তু ফর্সা নয়; আবার এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা লম্বা নয় কিন্তু ফর্সা। কাজেই এ ক্ষেত্রে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
পরস্পরাঙ্গী বিভাগ : জাতি বা শ্রেণিকে যদি একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এর অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র বা বিচ্ছিন্ন না থেকে বরং একে অপরের সাথে মিশে যায়। আর এ ক্ষেত্রে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অব্যাপক বিভাগ ও অতিব্যাপক বিভাগ: যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ না হয়ে যদি কম হয়, তাহলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি এবং যদি ব্যক্তর্থ বেশি হয় তবে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ: বিভাজন প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর না হয়ে যদি মধ্যবর্তী কোনো স্তরকে বাদ দিয়ে বিভাজন করা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে জাতি বা শ্রেণির পরিবর্তে কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং বিভিন্ন গুণে বিভক্ত করা হলে সৃষ্ট অনুপপত্তির নাম হচ্ছে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ।
যৌক্তিক বিভাগ অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভিন্নধর্মী বিভাগ প্রক্রিয়া; কারণ এরা হচ্ছে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। এদের সাথে যৌক্তিক বিভাগের পার্থক্য হলো-
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কেবল জাতি বা শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য, কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। আর অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ লৌকিক পদ্ধতি।
⇨ যৌক্তিক বিভাগে নির্দিষ্ট একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে নির্দিষ্ট কোনো মূলসূত্র ব্যবহার করে না।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়ম পালন করে। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে কোনো নিয়ম নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!