সভ্যতার উপাদান দুইটি; যথা- লিখিত ও অলিখিত
মিশরীয় সভ্যতায় 'হায়ারোগ্লিফিক' বলতে বোঝায় পবিত্র অক্ষর।
মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবদান ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশের লিখন পদ্ধতিটির নাম ছিল চিত্রলিপি। এই লিপিগুলো ধর্মীয় বাণী ও রাজার আদেশ প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হতো। তাই এগুলো পরে 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর নামে পরিচিত হয়।
উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে।
সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছে বলে এর নাম সিন্ধু সভ্যতা। পাকিস্তানের লারকানা ও পাঞ্জাব প্রদেশে এ সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। নগরকেন্দ্রিক এ সভ্যতার নগর ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট উন্নত। সিন্ধু সভ্যতার যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর। এর ঘরবাড়ি সবই পোড়া মাটির বা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি। শহরগুলোর বাড়িঘরের নকশা থেকে সহজেই বোঝা যায়, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত নাগরিক সভ্যতায় অভ্যস্ত ছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একইরকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা এবং রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, নলকূপ ও স্নানাগার ছিল। পানি নিষ্কাশনের জন্য মূল নর্দমার সাথে ছোট ছোট নর্দমা সংযুক্ত করা হতো। তাছাড়া রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। আর পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সোহেল লালবাগ অঞ্চলে বাস করে। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে। সে ভাবল, ইতিহাসের এক বিশেষ সভ্যতার জ্ঞান কাজে লাগালে আজ লালবাগের এ অবস্থা হতো না। অর্থাৎ সোহেল ঐ বিশেষ সভ্যতার পয়ঃনিষ্কাশনের কথা ভেবেছে, যা সিন্ধু সভ্যতায় বিদ্যমান ছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার অবদানের কথা বলা হয়েছে যা আধুনিক বিশ্বকে ঋণী করে রেখেছে- উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি। পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতা। উন্নত নগর পরিকল্পনা হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পরিচ্ছন্ন সোজা পাকা রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য নর্দমার ব্যবস্থা এবং রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট সিন্ধু সভ্যতারই উদ্ভাবন। এছাড়া পরিমাপের জন্য বিভিন্ন আকৃতির বাটখারা ও দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য দাগকাটা স্কেলও সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের আবিষ্কার। শিল্পক্ষেত্রেও সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। রূপা, তামা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈজসপত্র এবং সোনা, রূপা, তামা, ইলক্ট্রাম ও ব্রোঞ্জ দিয়ে অলংকার তৈরির পদ্ধতিও সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উদ্ভাবন করেছিল। স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পে এই সভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। বৃহৎ মিলনায়তন, বৃহৎ স্নানাগার ও শস্যাগার নির্মাণ সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদেরই অবদান।
পরিশেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উক্ত সভ্যতা অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন অবদান আধুনিক বিশ্বকে ঋণী করে রেখেছে।
Related Question
View Allলাতিন রাজা রোমিউলাস (Romulus) রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
পারস্পরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে রোমে তিনজনের শাসন টেকেনি।
রোমে অক্টেভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাসের একত্রিত শাসন ব্যবস্থা 'ত্রয়ী শাসন' বা তিনজনের শাসন বলে পরিচিত। তবে এ শাসন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ প্রত্যেকেরই আকাঙ্খা ছিল রোমের একচ্ছত্র অধিপতি বা সম্রাট হওয়ার। ফলে খুব শীঘ্রই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং রোম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল।
উৎপাদিত ফসলের প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে মিশরে গড়ে উঠেছিল কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এটি প্রচুর ফসল উৎপাদন এবং সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উপরে বর্ণিত উভয় অঞ্চলের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীব্যাপী সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষিনির্ভর অর্থনীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় প্রতিটি সভ্যতাই নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষির ওপর ভিত্তি করে বিকাশ লাভ করেছে। উদাহরণ হিসেবে মিশরীয় ও সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা যায়। মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের অববাহিকায়। প্রতিবছর নদী অববাহিকা অঞ্চলে বন্যার পানি সরে গেলে দুই তীরে পলি মাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। স্বাভাবিকভাবেই এ উর্বর জমিতে প্রচুর ফসল জন্মাতো। ফসলের এ প্রাচুর্য মিশরকে করেছিল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। আমরা জানি যে, অর্থনৈতিক শক্তিই সভ্যতার বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে। মিশরীয় সভ্যতার মতোই সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে একমত যে, সিন্ধু সভ্যতার অগ্রগতির পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল সিন্ধু নদ বিধৌত অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। এসব সভ্যতার মতো উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অঞ্চলটির সমৃদ্ধির পিছনে নদী বিধৌত অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সভ্যতার বিকাশে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্টোইকবাদী দর্শন রোমে প্রথম প্রচার করেন প্যানেটিয়াস।
প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে। তবে প্রথম দিকে এখানে ছিল রাজতন্ত্র। খ্রি. পূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন পেরিক্লিস। তিনি নাগরিকদের সব ধরনের রাজনৈতিক দাবি- দাওয়া মেনে নেন এবং এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!