কোনো জটিল, দুর্বোধ্য ও অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্ট, সহজবোধ্য এবং সহজ-সরল করে তুলে ধরতে ব্যাখ্যার উদ্ভদ্ধ ঘটেছে।
নিচে ব্যাখ্যার দুটি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হলো-
⇨ চেতনার মৌলিক অবস্থাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। বর্ণ, গন্ধ, স্পর্শ, স্বাদ, আনন্দ, বেদনা ইত্যাদি মৌলিক সংবেদনগুলোর পরস্পরের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। এগুলোর প্রত্যেকটি অনন্য। কাজেই এদের ব্যাখ্যাদান সম্ভব নয়।
⇨ মৌলিক বা পরম নিয়মসমূহ ব্যাখ্যা করা যায় না। পরম নিয়মসমূহ সবচেয়ে ব্যাপক বলে এগুলোকে আর কোনো উচ্চতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আবার এ নিয়মগুলোকে অন্য কোনো নিয়মে রূপান্তরিত করাও সম্ভব নয়; যেমন: চিন্তার নিয়ম, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম প্রভৃতি।
উদ্দীপকে ব্যাখ্যার প্রকারভেদ, অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার স্বরূপ সম্পর্কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এ দুটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
প্রকৃতির নিয়মকানুন অনুযায়ী ঘটনাবলির কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যাদান করাই হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকরণ। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকরণ হলো ঘটনার কারণ বা নিয়ম আবিষ্কার করা। অন্যান্য ঘটনার সাথে সাদৃশ্যগুলো খুঁজে বের করা এবং অল্প ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনা, একটি ঘটনার কার্যকারণ নিয়মকে আবিষ্কার করে তার ব্যাখ্যা করা যায়। আবার আলোচ্য ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার সাদৃশ্যসমূহ আবিষ্কার করেও ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। ঘটনাটি কোনো অল্প ব্যাপক নিয়ম হলে তাকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এলেও ব্যাখ্যা করা যায়; যেমন: জোয়ার-ভাটা ও জড়বস্তুর ভূপতনের মতো অল্প ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা যায়। কারণ উভয়ের মধ্যে আকর্ষণের নিয়ম কাজ করছে।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভর না করে যে ব্যাখ্যার কোনো ঘটনাকে কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক শক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে বলে লৌকিক ব্যাখ্যা। সাধারণ মানুষ যুক্তি বা বিচার-বিশ্লেষণ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাদের বৈজ্ঞানিক' জ্ঞান নিতান্ত সীমিত। তারা ঘটনার এরূপ ব্যাখ্যাকরণে তুষ্ট থাকতে অভ্যস্ত।
উদ্দীপকে সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা এবং শিক্ষিত সচেতন মানুষের বক্তব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য দেখানো হলো-
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যা বাহ্যিক সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মৌলিক সাদৃশ্য লক্ষ করে।
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যায় অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত কারণগুলোর দ্বারা কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয় কোনো প্রাকৃতিক বা বাস্তব কারণের সাহায্যে।
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যা প্রধানত বিশেষ ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রধানত ঘটনাগুলোর সামান্য নিয়ম আবিষ্কার ও প্রমাণ করতে চেষ্টা করে।
⇨ কখনো কখনো লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো ঘটনার একটিমাত্র শর্তকে সম্পূর্ণ কারণ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ঘটনার সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার শর্তের সমষ্টিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়; বিভিন্ন লোকের বুদ্ধি, শিক্ষা, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিভিন্ন রূপ হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ঘটনার বাস্তব কারণ নির্দেশ করে। তাই স্থান কাল-পাত্র ভেদে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একইরূপ হয়ে থাকে।
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যায় যথার্থতা যাচাই করা যায় না। এ ধরনের ব্যাখ্যায় অবাস্তব ও অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ থাকে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যথার্থতা যাচাইযোগ্য।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকল্প, অবরোহ, আরোহ, সংযুক্তিকরণ ইত্যাদি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় এসবের কোনো স্থান নেই। সাধারণ মানুষ তাদের ব্যাখ্যায় এসব প্রক্রিয়ার ব্যবহার করে না।
⇨ লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। সাধারণ লোক যাতে তুষ্ট থাকে, এরূপ ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করা হয়। ঘটনাবলির কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে।
Related Question
View Allজগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযোগ ক্রিয়া বর্তমান।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!