সময়ের সাথে অর্থের মূল্যের যে পরিবর্তন হয় তাকে অর্থের সময় মূল্য বলে।
গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ চাওয়ামাত্র ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংক তারল্য সংরক্ষণ করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের মূল উৎস হলো গ্রাহকের আমানত। এ আমানত থেকে ব্যাংক কিছু অংশ ঋণ দেয়। বাকী অংশ তারল্য হিসেবে সংরক্ষণ করে। এ তারল্যের পরিমাণ যথেষ্ট না হলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ ব্যাংক তখন গ্রাহককে চাওয়ামাত্র তার অর্থ ফেরত দিতে পারে না। ফলে গ্রাহক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একই সাথে ব্যাংকের সুনাম নষ্ট হয়। তাই ব্যাংক যথাযথ তারল্য সংরক্ষণ করে থাকে।
কার্যাবলির ভিত্তিতে স্টার ব্যাংক লি. একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
এ ধরনের ব্যাংক বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অল্প সুদে আমানত সংগ্রহ করে। এ আমানত থেকে বড় অঙ্কের মূলধন গঠন করে। এ মূলধন থেকে বেশি সুদের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়। এভাবে দুই সুদের হারের পার্থক্য থেকে ব্যাংক মুনাফা অর্জন করে। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এ ব্যাংক পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের স্টার ব্যাংক লি. অল্প সুদে জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে। উক্ত আমানত থেকে ব্যাংকটি বেশি সুদে স্বল্প মেয়াদি ঋণ দেয়। আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সুদের হার কম হলেও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এর সুদের হার বেশি। এভাবে ব্যাংকটি মুনাফা অর্জন করে। কেননা মুনাফা অর্জন করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্যও মুনাফা অর্জন করা। অর্থাৎ স্টার ব্যাংক লি.-এর বৈশিষ্ট্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যাংকটি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
উদ্দীপকে স্টার ব্যাংক লি. কর্তৃক গোপনীয়তার নীতিটি অনুসরণ না করার কারণে জনাব রিয়াজের ক্ষিপ্ত হওয়াটা যৌক্তিক।
গ্রাহকের হিসাব ও জমাকৃত সম্পদের সর্বাধিক নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় হিসাবের গোপনীয়তার নীতিটি ব্যাংকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ তার সঞ্চিত অর্থ ব্যাংকের কাছে রেখে নিশ্চিত থাকতে চায়। এক্ষেত্রে গোপনীয়তা না থাকলে গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদ্দীপকের স্টার ব্যাংক লি.-এ জনাব রিয়াজের একটি হিসাব আছে। তিনি নিয়মিত ব্যাংকের সাথে লেনদেন করেন। কিন্তু ব্যাংক কোনো অনুমতি ছাড়াই তার হিসাবের তথ্য এক আত্মীয়কে জানায়। এতে জনাব রিয়াজ ক্ষিপ্ত হন। তিনি তার হিসাবটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রাহকের তথ্য গোপন রাখা ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু স্টার ব্যাংক লি. জনাব রিয়াজের হিসাবের তথ্য তার আত্মীয়কে জানিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি গোপনীয়তার নীতি ভঙ্গ করেছে। তাই বলা যায়, যৌক্তিক কারণেই জনাব রিয়াজ ব্যাংকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন।
Related Question
View Allবাণিজ্যিক ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন কাঠামো নির্ধারণের একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো ব্যাসেল-২।
গ্রাহকের কোনো হিসাব ক্রোক বা বন্ধ করা বা লেনদেন স্থগিত করার জন্য আদালত কর্তৃক ব্যাংকের ওপর গারনিশি অর্ডার জারি করা হয়। পাওনাদারের পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আদালত ব্যাংকের প্রতি এরূপ আদেশ জারি করে। পাওনাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত যদি প্রমাণ পায় যে, আমানতকারী আবেদনকারীর কাছে দায়গ্রস্থ তবেই এরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকের বর্ণিত 'ক' ব্যাংকটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। এ ব্যাংককে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে উঠে। এ ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজার ও ঋণ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশে একটি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আছে।
উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। দেশে দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেতে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে 'ক' ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এ কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সহায়তায় ঋণনীতি বাস্তবায়ন করে। সর্বোপরি দেশের দ্রব্য সামগ্রীর দাম কাম্য স্তরে রাখে। আর এসব কাজের মূল উদ্দেশ্যই জনকল্যাণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উদ্দীপকে 'ক' নামক কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও 'খ' নামক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান করে থাকে। এ ব্যাংকই জনগণকে সকল প্রকার ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক নীতি প্রণয়ন ইত্যাদি কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে 'ক' ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। অন্যদিকে 'খ' ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। 'খ' ব্যাংক বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করে। দেশে দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেলে উভয় ব্যাংক সহায়তা করে।
উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংক হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং 'খ' ব্যাংক হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। 'ক' ব্যাংক জনকল্যাণে কাজ করলেও 'খ' ব্যাংক মুনাফা অর্জনে কাজ করে। 'ক' ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে। অন্যদিকে 'খ' ব্যাংক উক্ত নীতি বাস্তবায়নে 'ক' ব্যাংকে সহায়তা করে। 'ক' ব্যাংক সরকার ও অন্যান্য ব্যাংককে প্রয়োজনে ঋণ সরবরাহ করে। আর 'খ' ব্যাংক মূলত সাধারণ জনগণকে ঋণ সরবরাহ করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। দেশের যাবতীয় আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন করে 'ক' ব্যাংক। আর তা বাস্তবায়ন করা হয় 'খ' ব্যাংকের সহায়তায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত সব কাজকে ব্যাংকিং বলা হয়।
পরের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করে বলে ব্যাংককে ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
ব্যাংক প্রথমে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে এবং বেশি সুদে ঋণ হিসেবে গ্রাহকদের দেয়। ফলে একই সাথে ব্যাংক দেনাদার ও পাওনাদারের ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করে তা ঋণ হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ঋণের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!