স্থলপদ্মকে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে, কারণ তার ঘর খুব উঁচু।
'ফুলের বিবাহ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি হাস্যরসাত্মক রচনা। বিবাহের মাস বৈশাখের প্রথম দিনে নসীবাবুর বাগানে বসে লেখক কল্পনায় ফুলের বিয়ে দেখেছেন। সেখানে মল্লিকা ফুলের বিয়ের জন্য উদ্যানের রাজা স্থলপদ্মের সাথে সম্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছিল। তবে স্থলপদ্ম অনেক বড়ো ঘর বা উচ্চবংশীয় ফুল। তাই স্থলপদ্মের সাথে মল্লিকা ফুলের বিয়ে হয়নি। আসলে এখানে স্থলপদ্মকে ফুলের মধ্যে উচ্চ শ্রেণির বিবেচনা করা হয়েছে। বুনো ফুলের মতো অনাদর-অবহেলায় বড় নয়। তাই স্থলপদ্মকে উদ্যানের রাজা বলা হয়েছে।
Related Question
View All'ফুলের বিবাহ' গল্পে ভ্রমর ঘটকের দায়িত্ব পালন করে।
ক্ষুদ্র বৃক্ষটি ভ্রমর বা ঘটকের কথা শুনে বিরক্ত হয়েছিল।
মল্লিকা ফুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য কন্যাকর্তা বৃক্ষ যখন উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করছিল তখন ঘটকের আগমন ঘটে। ঘটক কন্যাকে দেখে পছন্দ করে জিজ্ঞাসা করল মধুর কথা। ক্ষুদ্র বৃক্ষ বলে, ফর্দ দিবেন, সব বুঝিয়ে দেবে। সে ঘটকালিটার খরচও দিতে রাজি হলো। কিন্তু বরের কোনো খোঁজখবর না দিয়েই ঘটকালির খরচ যখন আগাম চাইল তখন ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হলো।
উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয় অর্থাৎ ফুল-ফলগাছের সমারোহের বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমাহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীতে বিভিন্ন রকম ফুল ফোটে। ফুলগুলোয় গন্ধের তারতম্য রয়েছে। সেগুলোর বিভিন্ন রকম নামও লক্ষ করা যায়। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে বহু ফলগাছও রয়েছে। এসব ফুল ও ফলগাছের সমারোহ মানুষকে আনন্দিত করে।
উদ্দীপকের মৌরি একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাওয়ার। সেখানে গিয়ে সে নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। দীর্ঘদিন যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে সে খুবই আনন্দিত হয়। সে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই ভালো লাগার বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও খানিকটা খুঁজে পাওয়া যায়। এই গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলগাছ ও ফুলের পরিচয় জানা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগা 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমারোহের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই যেন ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।"- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
প্রকৃতির উপাদান বৃক্ষ-লতার অকৃত্রিম দান ফুল। ফুল তার বিচিত্র বর্ণ, গন্ধের সমারোহে সবাইকে মুগ্ধ করে। মানুষ ফুল খুব পছন্দ করে। প্রকৃতি বর্ণবৈচিত্র্যে সেজে ওঠে।
উদ্দীপকের মৌরি বাবার সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়ে ফুলের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। যেসব ফুলের নাম এতদিন সে শুনেছে, আজ নিজ চোখে সেগুলো দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছে। সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ির আঙিনায় ছোট বাগান করার জন্য। 'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক ফুলের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে ফুলের প্রতি লেখকের মুগ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি। প্রতিটি ফুলের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেখক গল্পে সেগুলোর চরিত্র চিত্রণ করেছেন। ফুল যে শুধু ঘর সাজানো বা ব্যবহারের জন্য নয়, বরং তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুগ্ধতা, লেখক তাই প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে মৌরি ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছে এবং ফুলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মেছে। লেখক 'ফুলের বিবাহ' গল্পে ফুলের মুগ্ধতার বিষয়টির প্রতিই আলোকপাত করেছেন। তাই বলা যায়, মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই 'ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।
'ফুলের বিবাহ' গল্পটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের অন্তর্গত।
কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন- বাক্যটি দ্বারা অভিভাবক হিসেবে মল্লিকাবৃক্ষ গোলাবের হাতে মল্লিকা-কলিকে সম্প্রদান করাকে বোঝানো হয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পের লেখক নসীবাবুর বাগানে দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে মল্লিকা-কলির সাথে গোলাবের বিয়ের লঘু বিষয়কে উপস্থাপন করেছেন। মানবসমাজের প্রচলিত বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুরূপ কল্পনায় উদ্ভাসিত হয়েছে রচনাটি। এখানে মল্লিকাবৃক্ষ কন্যাভারগ্রস্ত পিতা। গোলাবের বংশীয় গৌরবে মুগ্ধ হয়ে ঘরাজ ভ্রমরের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে মল্লিকাবৃক্ষ তার পরিপুষ্ট কলিকে গোলাবের হাতে সম্প্রদান করে। আলোচ্য বাক্যটি দ্বারা এ বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!