যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
সূর্য একটি নক্ষত্র এবং পৃথিবী একটি গ্রহ। সাধারণত নক্ষত্রের মহাকর্ষ বল গ্রহের থেকে লক্ষ কোটি গুণ বেশি হতে পারে। এ কারণে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
ছকে 'ক' ও 'খ' স্থানের দ্রাঘিমারেখা যথাক্রমে ১৫° পশ্চিম ও ১১০° পূর্ব।
∴ 'ক' ও 'খ' স্থানের দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য (১৫° + ১১০°) = ১২৫°
আমরা জানি,
১০ দ্রাঘিমারেখার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট
∴ ১২৫° দ্রাঘিমারেখার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (১২৫ × ৪) মিনিট
= ৫০০ মিনিট
= ৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট।
ছক অনুযায়ী 'খ' স্থানটি 'ক' স্থানের পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় 'খ' স্থানের সময় 'ক' স্থানের চেয়ে বেশি হবে।
∴ 'ক' স্থানের সময় ভোর ৪টা হলে 'খ' স্থানের সময় হবে
= (৪টা + ৮টা ২০ মিনিট)
= দুপুর ১২টা ২০ মিনিট।
ছকে 'ক' ও 'খ' স্থান দুটি বিপরীত অক্ষাংশে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা দিবে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। যার ফলে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি কম বায়ুস্তর ভেদ করে আসে বলে ভূপৃষ্ঠকে অধিক উত্তপ্ত করে। আর তির্যকভাবে পতিত রশ্মি অধিক বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং অধিক স্থানব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ভূপৃষ্ঠ কম উত্তপ্ত হয়। সূর্যরশ্মির ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লম্ব ও তির্যকভাবে পতিত হওয়ার কারণে স্থানভেদে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। তেমনি ছকে উল্লিখিত ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের ফলে সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পতিত হয়। ফলে উত্তর অক্ষাংশে এই সময় দিন বড় ও উত্তাপ বেশি থাকে। আবার একই সময়ে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেওয়ার ফলে দক্ষিণ অক্ষাংশে দিন ছোট হয় এবং তাপমাত্রা কম থাকে।
তাই বলা যায়, পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে একই সময়ে অর্থাৎ ২১ জুন উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত 'ক' ও 'খ' স্থানের তাপমাত্রায় পার্থক্য হয়ে থাকে।
Related Question
View Allপৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বলে।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যা সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক। ৫৫% হাইড্রোজেন, ৪৪% হিলিয়াম এবং ১% অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে সূর্য গঠিত। আর এ সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে। সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সৌরকলঙ্কের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে।
দেওয়া আছে
A' চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা A' চিহ্নিত স্থানের পূর্বে B' স্থানটি অবস্থিত হওয়ায় 'B' স্থানের স্থানীয় সময় ' A' চিহ্নিত স্থানের স্থানীয় সময় থেকে বেশি হবে।
অর্থাৎ, ৭টা + ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট = ১০টা ১৬ মিনিট
সুতরাং 'B' স্থানটির স্থানীয় সময় হবে ১০: ১৬ মিনিট
না, উক্ত তারিখে অর্থাৎ ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবারাত্রির দৈর্ঘ্য একইরূপ হবে না।
ছকে 'A' ও 'B' স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থিত। 'A' স্থানটি ৩০০ উত্তর অক্ষরেখা বরাবর এবং 'B' স্থানটি ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় অবস্থিত। দুটি স্থান দুই গোলার্ধে হওয়ায় ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য ভিন্ন রকম হবে। অর্থাৎ 'A' স্থানে দিন বড় এবং রাত ছোট হবে। পক্ষান্তরে, 'B' স্থানে দিন ছোট ও রাত বড় হবে। ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিন। এদিন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। লম্বরশ্মি অধিক তাপ দেয়। তাছাড়া সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক স্থান জুড়ে এবং অধিক সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে ঐ দিনের পূর্বেকার দেড় মাস এবং পরবর্তী দেড় মাস মোট তিন মাস সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক তাপ ও আলো দেয় বলে ঐ সময়কালে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। এ কারণে ২২ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। পক্ষান্তরে, ২২ জুনে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অল্প সময় এবং অল্প স্থানব্যাপী আলো দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে তাপ ও আলো কম পায়। এ কারণে ২২ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'A' ও 'B' দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থানের কারণে দিবা-রাত্রির মধ্যে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে। উত্তর গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে সৌরদিন বলে।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। এভাবে দেখা যায়, প্রতি ৪ বছর পর পর একটি বাড়তি দিন থাকছে। এই বাড়তি দিন প্রতি ৪র্থ বছরে যোগ হয়ে ৩৬৬ দিন হয়। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!