মুজিব বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৬,০০০।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার রণাঙ্গনকে মোট ৪টি সেক্টরে ভাগ করে। সারাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ১১-১৭এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের সভাপতিত্বে সীমানা চিহ্নিতকরণ, দেশের অভ্যন্তরে গেরিলা ঘাঁটি স্থাপনসহ বিভিন্ন রীতিনীতি প্রণয়ন করে। এ বৈঠকে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে সীমানা নির্ধারণ করে একজন কমান্ডারের অধীনে প্রতিটি সেক্টর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।
আলভি নাটকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত বাহিনীর কার্যক্রমের অনুরূপ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছে।
নিয়মিত বাহিনী গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের সমন্বয়ে। পাশাপাশি সৈন্যবলের ঘাটতি পূরণের জন্য আধাসামরিক বাহিনী (যেমন- পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ) বা যুবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮টি ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে- এক, দুই, তিন, চার, আট, নয়, দশ ও এগারো নং ব্যাটালিয়ন। এছাড়া সেক্টর ট্রুপস গড়ে তোলা হয়। সেক্টর টুপসের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০। নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের সেক্টর টুপসে নেওয়া হয়। নিয়মিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন নিয়ে ৩টি ব্রিগেড গঠন করা হয়। এ ব্রিগেডগুলো কে ফোর্স, এস ফোর্স ও জেড ফোর্স নামে পরিচিত ছিল। সরকারি পর্যায়ে এদের নামকরণ করা হয় এমএফ (মুক্তিফৌজ)। এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮,৬০০ জন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলভি টিভিতে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমন্বিত একটি বাহিনী গঠনের চিত্র অবলোকন করে। উক্ত বাহিনী কয়েকটি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করে। তবে এই বাহিনীর সদস্যরা মাসিক বেতন ভাতাও সেনাবাহিনীর আইনশৃঙ্খলার আওতাধীন ছিল। সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, আলভির দেখা উক্ত বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত বাহিনীর মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, অবশ্যই আমি মনে করি মুজিবনগর সরকার গঠন ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না।
মুজিবনগর সরকার গঠন করেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে ২৬ মার্চ হতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাংলার স্বাধীনতাকামী জনতা মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পায়। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংগ্রহ করতে জনগণ ভারতে ভিড় জমালে এ সরকার প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করে তরুণদের যুদ্ধে পাঠায়।
স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ও সংগ্রামী জনগণের মনোবল ঠিক রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তা ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার অন্যতম উৎস। বাংলাদেশে ২৬ মার্চ সকাল হতে স্বতঃস্ফূর্ত যুদ্ধ শুরু হলে এ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহতভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে যুদ্ধক্ষেত্রকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা হচ্ছে কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করা। তাছাড়া ওইসব স্থানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা।
পরিশেষে বলা যায়, স্বপনের দেখা দেশটির মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অনুরূপ যদি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার গঠিত না হত তাহলে বাংলাদেশও স্বাধীন হতো না
Related Question
View Allমুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে ২ ভাগে বিভক্ত ছিল।
নিয়মিত বাহিনী গঠিত হওয়ার পর নিয়মিত বাহিনীর অংশ হিসেবে স্থল বা সেনাবাহিনী গঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার জলঢাকায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৬১ তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন দেয়। এভাবে শুরু হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর যাত্রা। এসব অফিসার পরবর্তীকালে বিভিন্ন সেক্টরে যোগ দেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে গতি সঞ্চার হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিরা মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল।
অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয় যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে। এ বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল গণবাহিনী বা এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এ বাহিনীর জন্য কোনো সামরিক আইন কার্যকর ছিল না। গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো বেতনভাতা দেওয়া হতো না। অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার। এছাড়া উল্লিখিত বাহিনীর বাইরে আরও কয়েকটি অনিয়মিত বাহিনী ছিল। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে শেখ ফজলুল হক মণির নিয়ন্ত্রণাধীনে গঠিত হয়, মুজিব বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের সকলে ছাত্রলীগের সদস্য। তন্মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আ.স.ম. আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৬,০০০। এছাড়া ন্যাপ (মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব দলীয় বাহিনী ছিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাহিনী অর্থাৎ নিয়মিত বাহিনীর কার্যক্রম ছিল মূলত পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা।
এ ধরনের সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় ছিল অসম্ভব- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই বিভীষিকাময় সময়ে বজঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। বাংলাদেশের যুবক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক এবং সকল পর্যায়ের মানুষের সার্বিক অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছিল অনিয়মিত বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যদের দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর একজন কমান্ডারের অধীনে নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। মূলত স্থানীয় ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক মতাদর্শে এসব গেরিলা বাহিনী গঠিত ছিল বলে গেরিলা বাহিনী কখনো তাদের নীতি থেকে চ্যুত হয়নি। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থাৎ সেক্টর এলাকার বাইরে কিছু বাহিনী গড়ে উঠেছিল। এ সকল বাহিনীর বেতনভাতা না থাকলেও তারা তাদের দায়িত্বে কখনো অবহেলা করেনি।
গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিল ছেচ্ছাসেবা ও তারা ছিল স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল অটুট রাখা, পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করা ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু যেমন-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ধ্বংস করা, যুদ্ধের জন্য লোকবল সংগ্রহ ও তাদের ট্রেনিং প্রদান ছিল এসব বাহিনীর প্রধান কাজ। কাগজে-কলমে গেরিলারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত হতো। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা ছিল লক্ষাধিক। এছাড়া এর কয়েকগুণ ছিল স্বেচ্ছাসেবক।
পরিশেষে বলা যায়, অনিয়মিত বা সাধারণ লোকজন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অসম্ভব ছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬নং সেক্টরের বিস্তৃতি ছিল রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে যে প্রশাসনিক পরিষদ গঠন করা হয়, তা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
বেসামরিক প্রশাসনকে অধিক গণতান্ত্রিক করার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক সুবিধা চিন্তা করে সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে প্রথমে ৯টি ও পরে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সেপ্টেম্বর নাগাদ অঞ্চলগুলোর বিন্যাস হয়েছিল আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদ গঠনের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য করে তাদের ভোটে নির্বাচিত একজন করে চেয়ারম্যানকে পরিষদের প্রধান করা হয়। চেয়ারম্যানের অধীনে একজন করে সচিব নিযুক্ত করা হয়। একই সাথে প্রতিটি জোনে সরকার হতে ৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়, যা জোনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!