কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক হলো জটিল শর্করাগুলোর ভাঙনে দেহে শোষণ উপযোগী সরল শর্করায় পরিণত হওয়া।
কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎসগুলো হলো ভাত, রুটি, আলু, চিনি, গুড়, ফল ইত্যাদি। মানুষের পরিপাকনালীর মুখগহ্বর হতে শুরু করে পাকস্থলি, ডিওডেনাম, ইলিয়ামসহ প্রায় সকল অংশেই কার্বোহাইড্রেটের পরিপাকক্রিয়া সংঘটিত হয়।
স্বপন সাহেব সকালে শুধুমাত্র লাল চা খেয়ে অফিসে যান। লাল চায়ের আকারে তিনি তরল পানি গ্রহণ করছেন। তাতে যে চিনি তথা সুক্রোজ রয়েছে তা এক প্রকারের ডাইস্যাকারাইড। এটি পরিপাকের পর গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত হয়। এরা সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহকোষে শোষিত হয়।
Related Question
View Allদেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে।
লালারস হচ্ছে লালাগ্রন্থি থেকে বের হওয়া এক ধরনের রস।
লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়া লালারস খাদ্যকে পিচ্ছিল করে ও গলাধঃকরণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো পরিপাকক্রিয়া। পরিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে গ্লুকোজ, প্রোটিন ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাট ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
পরিপাকক্রিয়ার সাথে জড়িত অঙ্গগুলো হলো- i. মুখবিবর, ii. গলবিল, iii. অন্ননালি, iv. পাকস্থলি, v. ক্ষুদ্রান্ত্র ও vi. বৃহদন্ত্র। শরীরের এ অঙ্গগুলো পৌষ্টিকনালি নামে পরিচিত। মুখবিবরে দাঁত দিয়ে চর্বণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু ছোট ও নরম হয়। নরম খাদ্যবস্তু অন্ননালি হয়ে পাকস্থলিতে আসে। পাকস্থলিতে সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না। অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে। এখানে প্রধান পরিপাক কাজ চলে। এরপর খাদ্য বৃহদন্ত্রে আসে এবং পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়াও পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করতে পৌষ্টিকগ্রন্থির কার্যকারিতা রয়েছে। পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলোর মধ্যে লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন পাচক রস পরিপাকে সাহায্য করে।
খাদ্যকে দেহের গ্রহণ উপযোগী অবস্থায় পরিণত করতে পরিপাক ক্রিয়ার প্রয়োজন। সুমনের এ মন্তব্যটি যথার্থ।
খাদ্য হিসেবে আমরা যা গ্রহণ করি সেগুলোর অধিকাংশই বৃহৎ অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। অধিকাংশ খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার পর তা শরীরের কাজে আসে।
সাধারণত ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ভাতের প্রধান পুষ্টি উপাদান স্টার্চ শরীরের কোনো কাজে আসবে না। কারণ স্টার্চ অনেকগুলো গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই খাওয়ার পর স্টার্চ ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হলে দেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে। তেমনি প্রোটিন ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং খাদ্যের ফ্যাট ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হওয়ার পর দেহের কাজে লাগে। খাদ্যবস্তুকে শরীরে কাজে লাগাবার জন্যে খাদ্যের বড় বড় অণুগুলো ভেঙে ছোট ছোট সরল অণুতে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।
সুতরাং বলা যায়, সুমনের মন্তব্যটি যথাযথ ও সঠিক।
লালাগ্রন্থি থেকে যে রস বের হয় তাকে লালারস বলে।
ইমালসিফিকেশন বলতে পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করাকে বোঝায়।
পিত্তলবণ অগ্ন্যাশয়ে তৈরি চর্বি হজমকারী লাইপেজ এনজাইমকে সক্রিয় করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!