'সংশয়' শব্দের অর্থ সন্দেহ।
নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে লোকটা অপ্রতিভভাবে চলে গেল।
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিধু ও তার বন্ধুরা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য তারা বিজ্ঞাপন দেয়। আর তখন একজন লোক এসে সেই বাক্সের মালিকানা দাবি করে। বাক্সটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বিধুরা বুঝতে পারে যে বাক্সটি এই লোকের নয়। তখন তারা লোকটিকে চলে যেতে বলে। লোকটি নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়ে অপ্রতিভভাবে চলে যায়।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'পড়ে পাওয়া' গল্পের নীতিগত পার্থক্য রয়েছে।
নৈতিকতা মানবতার অন্যতম অবলম্বন। কারও কোনো জিনিস রাস্তা-ঘাটে কুড়িয়ে পেলে তা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া নৈতিকতার অন্যতম লক্ষণ। আবার মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা নষ্ট না করাও নৈতিকতা। নীতিবান মানুষকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
উদ্দীপকে 'স্বপ্নতরী বহুমুখী সমবায় সমিতি' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের খবর পাওয়া যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, এ সমিতি সমবায় সংগঠনের নামে বিমা ও সুদ ব্যবসায়সহ নানা রকম প্রতারণা করেছে। কিন্তু 'পড়ে পাওয়া' গল্পে আমরা দেখতে পাই লেখক, বিধু, সিধু, নিধু, তিনু ও বাদল মিলে আম কুড়াতে যায়। আম কুড়িয়ে বাড়িতে ফেরার পথে লেখক ও বাদল একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। এ বিষয়টি লেখক ও বাদল তাদের অন্য বন্ধুদের জানায়। তারা বাক্সটি না খুলে তা প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে ছোট্ট এই কিশোররা নৈতিকতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বয়সে অনেক বড় হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই নীতিগত পার্থক্যই উদ্দীপক ও 'পড়ে পাওয়া' গল্পটিকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
'সততা সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা'- মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
সততা বলতে সাধারণত সঠিক কাজ করা বোঝায়। সততা এমন একটি গুণ যা শুধু সৎ ব্যক্তিটিকেই ভালো রাখে তা নয়, সেই ব্যক্তি যেমন একদিকে নিজেকে নিরাপদ রাখেন, অন্যদিকে তেমনি সমাজেরও উপকার করে থাকেন। এ কারণে সততা মানুষের অন্যতম মহৎ গুণ।
উদ্দীপকের প্রতিবেদনটিতে সততার অমর্যাদারই অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। ফয়েজ-উল-কয়েস 'স্বপ্নতরী বহুমুখী সমবায় সমিতি' নামে যে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সে সংগঠনে অনেকেই বিশ্বাস করে অর্থ লেনদেন করেছেন। এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে তাদের কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু 'পড়ে পাওয়া' গল্পে লেখক ও বাদল যে টিনের বাক্সটি পায়, সেটি প্রকৃত মালিক ফেরত দেওয়ার জন্য তারা অন্য বন্ধুদের এ বিষয়টি জানায়। বন্ধুরা টিনের বাক্সটি তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে, কৌশলে প্রকৃত মালিককে চেনার চেষ্টা করেছে এবং বাক্সটি না খুলে তা প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাস ও সততার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা মানবতার অন্যতম উদাহরণ হয়েছে।
উদ্দীপকে 'স্বপ্নতরী বহুমুখী সমবায় সমিতি'র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের ফলে চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের লেখক ও তার বন্ধুদের সততার কারণে এক গরিব অসহায় ব্যক্তি ও তার পরিবার অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সেই ব্যক্তির কাছে লেখক ও তার বন্ধুদের দেবতার মতো মনে হয়েছে। উদ্দীপকের সংগঠনের কর্মকর্তারা এমন সততার পথ অবলম্বন করলে তার ফলও তারা পেতেন। কাজেই এ কথা বলা যায়, সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!