বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১৯৮৬ সালে সভাপতিত্ব করেছিলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লীগ অব নেশনস সৃষ্টি হয়েছিল।
১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ১৯১৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।। এই যুদ্ধের সময়ে বিশ্ববাসী দেখেছে এক বিভীষিকাময় মুহূর্ত। এ যুদ্ধ মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এক বিরাট বাধার সৃষ্টি করেছিল। যার কারণে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২০ সালে লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ গঠন করা হয়েছিল।
স্বপ্নপুরের শান্তি পরিষদের সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের মিল রয়েছে।
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ১৯৪৩ সালে তেহরানে ও মস্কোতে ৪টি প্রধান শক্তির মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিবৃন্দ সম্মিলিত জাতিসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন শান্তি সমিতি মানুষের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হলে, ইউনিয়ন শান্তি পরিষদ গঠন করা হয়, যা এখানো বিভিন্নভাবে স্বপ্নপুরের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ইউনিয়ন শান্তি পরিষদ জাতিসংঘের অনুরূপ। কারণ, লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতায় জন্ম নেওয়া জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা বিধানে কাজ করে যাচ্ছে। যেমনভাবে স্বপ্নপুরের শান্তিপুরের শান্তি পরিষদ উক্ত ইউনিয়ন শান্তি ও সহযোগিতা বিধানে কাজ করছে।
উদ্দীপকের স্বপ্নপুরের ইউনিয়ন শান্তি পরিষদের অনুরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা হচ্ছে জাতিসংঘ। গঠনের পর থেকেই সংস্থাটি বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বশান্তি স্থাপন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংস্থাটি কখনো কখনো ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও সফলতার হারই বেশি। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অবদান হলো এটি গঠনের পর বিশ্বে আজ পর্যন্ত কোনো বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। প্রতিষ্ঠার পরই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে জাতিসংঘ তার অন্যতম শাখা নিরাপত্তা পরিষদকে যেকোনো সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতা প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তি বিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তায় তা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালায়। এ কাজের ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা অর্জন এর অন্যতম উদাহরণ। শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠাই নয়, জাতিসংঘ তার বিভিন্ন অঙ্গসংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। যা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অবস্থানকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সহযোগিতা স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
Related Question
View All১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
জাতিসংঘের একটি মৌলিক নীতি হলো- জাতিসংঘের সকল দিস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে।
প্রতিসংঘের সদস্যভুক্ত কোনো রাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অধিক মর্যাদার ধিকারী হবে না বা বঞ্চিত হবে না এবং সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রেও সকলের ধিকার সমান হবে। কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ রতে পারবে না।
উদ্দীপকের দুই ইউনিয়নের বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের যে নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো, সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ সাতটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নীতি হলো- সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার অন্তর্গত সকল ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০১২ সালে 'ক' উপজেলার চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কিছু নীতিমালা করা হয়। এর ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুটি ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে 'ক' উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়, যা জাতিসংঘের অন্যতম নীতি তথা 'সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে'- এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অনুরূপ-উক্তিটি যথার্থ।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। সূচনালগ্ন থেকেই বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রধান দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপর ন্যস্ত। ফলে বিশ্বের কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তি বিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এভাবে জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষায় ভূমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা অর্জন এর অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা একত্রিত হয়ে উপজেলার চেয়ারম্যানকে পরিষদের সভাপতি করে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু নীতিমালা করেন। একইসাথে প্রতিটি ইউনিয়নের বিরোধ মীমাংসা, উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করেন। ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়।
উপরের আলোচনায় এটি সুস্পষ্ট যে, জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সাথে 'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাদৃশ্যপূর্ণ।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম অ্যান্টনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের অন্যতম কাজ হলো আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতা গ্রহণ করা।
নিজেদের জন্য উন্নয়ন ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি পৃথিবীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থাও গড়ে উঠেছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি। জাতিসংঘ এসব সংস্থার সহযোগিতা গ্রহণ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!