পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপের নাম আরব উপদ্বীপ।
আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে ইসলামপূর্ব আরবের অরাজক ও বিশৃঙ্খল সময়কালকে বোঝায়।
আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ অজ্ঞতা বা অন্ধকারের যুগ। মহানবি (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের প্রায় একশ বছর সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এ সময় মানুষের মধ্যে কোনো প্রকার নৈতিকতা, সততা, দায়িত্বজ্ঞান ও শালীনতা ছিল না। অন্যায়-অনাচারে সমাজ ভরপুর ছিল। এ জন্য এ সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকারের যুগ বলা হয়।
উদ্দীপকে পর্যালোচনাকৃত জাতিটি ছিল আরবের আদিম অধিবাসী।
আরব উপদ্বীপে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসতি স্থাপন করে। আরব গবেষক ও ঐতিহাসিকগণ প্রাচীন আরবদের ৩টি জাতিতে বিভক্ত করেছেন। যারা আরব-ই-বায়দা, আরব-ই-আরিবাহ ও আরব-ই-মুস্তারিবাহ নামে পরিচিত ছিল। উদ্দীপকেও আরবের আদিম অধিবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে স্বপ্না একটি বিশেষ জাতি গোষ্ঠী সম্পর্কে আলোচনা করে। যারা প্রাচীনকালে বায়দা ও বাকিয়া নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে তারা আরিবা ও মুস্তারিয়া নামে পরিচিত লাভ করে। খ্যাতি অনুসারে তারা উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। অনুরূপভাবে প্রাচীন আরবের আদিম অধিবাসীরা বায়দা ও বাকিয়া নামে পরিচিত ছিল। যাদেরকে আরব-ই-বায়দা বলা হত। বায়দা ও বাকিয়া শব্দের অর্থ জঙ্গল। বাদিয়াদের বেদুইন বলে। পরবর্তীতে এই গোষ্ঠী ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে আরব উপদ্বীপে আরব-ই-আরিবাহ নামক জাতি বসতি স্থাপন করে। বনু কাস্তান ছিল এ জাতিগোষ্ঠীর একটি বংশ। যারা দক্ষিণ আরবে বসবাস করত। মূলত এই গোত্রের উত্থানের মধ্যদিয়েই আরবে ইতিহাস রচনা শুরু হয়। অন্য দিকে আরবের উত্তরের অধিবাসীরা আরব-ই-মুস্তারিবাহ নামে পরিচিত ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত গোষ্ঠীটি A আরবের আদিম অধিবাসী ছিল।
স্বপ্নার পর্যালোচনাকৃত আরবের আদিম জাতির ওপর আবহাওয়ার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়।
অত্যন্ত শুষ্ক ও গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলোর মধ্যে আরব অন্যতম। পূর্ব ও পশ্চিমে সমুদ্রবেষ্টিত থাকলেও সেই জলরাশি এখানকার ভূমি সিক্ত করতে পারেনি। কারণ আরব ভূমি তথা আল হিজাজে তিন বছর বা তার বেশি সময় বৃষ্টিহীন থাকা অস্বাভাবিক নয়। প্রাচীন আদিম আরবরা এই ভৌগোলিক অবস্থার মধ্যে বসবাস করত যাযাবরের মতো। যার ফলে এরূপ আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব তাদের ওপর পড়ত। মাঝে মাঝে মরু প্রান্তরে কয়েক বছর বৃষ্টিহীন থাকার ফলে স্থানীয় যাযাবরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। কিংবা বিশাল মরুভূমিতে বালুঝড়ের কবলে পড়েও অনেক যাযাবর গোত্র নিশ্চিত হয়ে যায়। তাছাড়াও অতিরিক্ত গরম, তৃণভূমি না থাকার ফলে যাযাবরদের জনজীবন বিপর্যন্ত হতো এবং অনেক সময় পুরো জাতি বা গোত্র এই বিরূপ আবহাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিটির ক্ষেত্রেও একই দৃশ্য দেখা যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বপ্নার পর্যালোচনাকৃত জাতিটি ছিল প্রাচীন আরবের। অনুরূপভাবে ইসলাম-পূর্ব-আদিম আরবও ছিল যাযাবর। তাদেরও স্থায়ী কোন ঠিকানা ছিল না। কারণ আরব ভূমির অধিকাংশই বৃষ্টিহীন মরু প্রান্তর। এখানে আবহাওয়ায় অনাবৃষ্টির রুক্ষতার প্রবণতাই বেশি। দক্ষিণ সমুদ্র থেকে স্বাভাবিক কারণে মেঘ উঠলেও মরুর বালুঝড় তা বাতাসেই শুষে নেয়। তখন অল্প সময়ের জন্য ঝড় বৃষ্টির প্রাবল্য আল হিজাজে দেখা দিত এবং তা বিপজ্জনক হয়ে উঠত। কিন্তু এই বৃষ্টির পরই আবির্ভাব ঘটত তৃণভূমি। ফলে উক্ত আল হিজাজের প্রায় ১০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাসিন্দা গড়ে ওঠে। আদিম আরবদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই ছিল যাযাবর। উত্তপ্ত মরুভূমিতে পানি যেখানে দুর্লভ সেই আরবে এই যাযাবররা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতো। আবহাওয়ার এই বিরূপ প্রভাবের ফলে তৎকালীন আরবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল অনেক জাতি। যাদের মধ্যে বায়দা বা বাকিয়া উল্লেখযোগ্য ছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, আদিম আরবে যাযাবরদের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব মারাত্মক ও ভয়াবহ ছিল।
Related Question
View Allপেপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে।
মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
মিসরীয়দের লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে মিসরে কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে।
যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর মতোই নীল নদ মিসরীয় সভ্যতার কৃষির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল।
প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো।
মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। পিরামিড ছিল তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকাণ্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো। আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো, সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব তৈজসপত্র, মুদ্রা, দামি কাপড় প্রভৃতি। মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তৈরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ।
পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটদের কফিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথরের দেয়াল দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।
মালা হলো প্রাক-ইসলামি আরবের একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা
আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো।
মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব . সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!