উদ্দীপকে বর্ণিত যে ঘটনা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় তা হলো গণঅভ্যুত্থান। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন হঠাৎ করেই গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় নি। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিভিন্ন ক্ষোভ, হতাশা, অপ্রাপ্তি, নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চনা প্রভৃতির বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্দোলন ছিল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
আইয়ুবখানের স্বৈরাচারী ভূমিকার কারণে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল অংশেই গণঅসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। ১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি এগারো দফার দাবিতে ছাত্র ধর্মঘট পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এবং আহত অবস্থায় বন্দি হয়। ২০ জানুয়ারি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা পুলিশ এবং ইপিআর এর সাথে অসম লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। পুলিশ একপর্যায়ে পশ্চাদপসরণ করলে বিরাট একটি মিছিল শহিদ মিনারের দিকে অগ্রসর হয়। এখানে পুলিশের গুলিবর্ষণে শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান।
২১ জানুয়ারি আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বস্তু লোক রাস্তায় নেমে পড়ে এবং এর ফলে তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধের চেতনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি হিসেবে ছাত্ররা আন্দোলন অব্যাহত রাখে। ছয় দফা এবং ছাত্রদের এগারো দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি না মানলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও মজবুত হওয়ারই প্রমাণ বহন করে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আইয়ুব খানের পতন হলে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে জনগণের এ বিজয়কে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তৎপর হয়ে উঠলে স্বাধীনতা সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে ওঠে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, গণঅভ্যুত্থানই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!