স্বামীর মৃত্যুর পর রোকেয়া তাঁর রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে কলকাতায় মেয়েদের শিক্ষার জন্য একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলা ভাষায় লেখালেখি শুরু করেন। মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি বই লেখেন। যেমন- মতিচুর, অবরোধবাসিনী, পদ্মরাগ প্রভৃতি। রোকেয়া বলেছেন, দুই চাকার কোনো গাড়ি চলতে হলে চাকা দুটোকে সমান হতে হয়। একটা চাকা ছোটো আরেকটা বড়ো হলে সেই গাড়ি সামনের দিকে এগোতে পারে না। সমাজে মেয়ে আর ছেলে হচ্ছে গাড়ির চাকার মতো। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা যদি পিছিয়ে থাকে, সেই সমাজের উন্নতি হতে পারে না। তিনিই প্রথম মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন।
Related Question
View Allরোকেয়া রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দুই বোন আর দুই ভাই।
রোকেয়ার জীবন ছিল ঘরবন্দি। তাঁর কোথাও যাওয়ার অনুমতি ছিল না ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, কারও সামনে যাওয়াও নিষেধ ছিল। এমনকি সে যদি মেয়ে হয় তার সামনেও নয়।
অবরোধ মানে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকা। আর যে প্রথার কারণে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকতে হয় তাই অবরোধ প্রথা।
সেকালে মুসলমান মেয়েদের লেখাপড়ার চল ছিল না। কারণ মুসলমান মেয়েদের তখন স্কুলে যেতেই দিতেন না অভিভাবকরা।
রোকেয়া বড়ো বোন করিমুন্নেসা আর বড়ো ভাই ইব্রাহিম সাবেরের কাছে পড়ালেখা শিখেছিলেন। বোন তাকে বাংলা শেখালেন। রাত গভীর হলে ভাই ইব্রাহিম সাবেরের কাছে রোকেয়া লেখাপড়া করতেন। অর্থাৎ রোকেয়া লেখাপড়া শিখেছেন তার বড়ো দুই ভাই-বোনের কাছে।
আসলে রোকেয়ার সময়টাই ছিল এমন যে, সে সময় মেয়েদের না ছিল লেখাপড়ার অধিকার, না ছিল বাইরে বেরোনোর স্বাধীনতা। সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে মেয়েরা লেখাপড়া করত না রোকেয়ার সময়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!