নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের জন্যে সকল নারীপুরুষের প্রজননতন্ত্র সংক্রান্ত অজোর সুস্থতাকে প্রজনন স্বাস্থ্য বলে।
নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য প্রত্যেকেরই প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা করা আবশ্যক। প্রজনন স্বাস্থ্য শুধু প্রজননতন্ত্রের কাজ এবং প্রজনন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত রোগের অনুপস্থিতিকে বোঝায় না। এটি হলো শারীরিক, মানসিক, সামাজিক কল্যাণকর এবং পরিপূর্ণ সুস্থ অবস্থার মধ্যে দিয়ে প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পাদনের একটি অবস্থা। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বৃদ্ধবয়সহ জীবন বিকাশের প্রতিটি স্তরেই প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। তাই সকল বয়সেই প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা আবশ্যক।
রিক্তা বেগম রহিমা বেগমের মেয়েদের সুষ্ঠু মানসিক বিকাশে স্বাস্থ্যকর গৃহ পরিবেশ, শাসন পরিচালনা এবং স্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবনের পরামর্শ দেন।
শিশুকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে সাথে তার মানসিক স্বাস্থ্যেরও বিকাশ দরকার। এক্ষেত্রে গৃহ পরিবেশ, পিতামাতার দাম্পত্য সম্পর্ক এবং পিতামাতার শাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মেয়েদের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য রহিমা বেগমের বাড়িটি আবাসিক এলাকায় এবং আলো-বাতাসপূর্ণ স্থানে হতে হবে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, স্নেহ, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও বিশ্বাসপূর্ণ, হতে হবে। রহিমার মেয়েদেরকে সামাজিকতার শিক্ষা পরিবারেই দিতে হবে। বাবা-মার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক শিশুদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আত্মপ্রচেষ্টা গড়ে তোলে। তাই রহিমাকে তাদের সুষ্ঠু দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যগঠনে পিতা-মাতার শাসন পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে রহিমা তার মেয়েদের এমনভাবে শিক্ষা দিবে যাতে তারা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে শেখে। তারা কোনো ভুল করলে শান্তভাবে তা বুঝিয়ে সংশোধন করতে হবে। অতিরিক্ত শাসন ও অবাঞ্চিত সমালোচনায় তার মেয়েদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হবে। সেক্ষেত্রে রহিমাকে সতর্ক থাকতে হবে।
রিক্তা বেগম অর্থিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান দেন।
কতগুলো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একজন মানুষ মানসিকভাবে সুস্থ কি না তা বিবেচনা করা হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমার ধারণা ব্যক্ত করা হলো-
মানসিক দিক থেকে সুস্থ ব্যক্তির পরিবেশ সব সময় অনুকূল না হলেও সে তার মানসিক ভারসাম্য হারায় না। মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তির চারপাশের পরিবেশের সাথে কঠিনভাবে খাপ খাইয়ে চলার জন্য চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি প্রয়োগ ও বিচার করার ক্ষমতা থাকে। মানসিক দিক দিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত ব্যক্তি কখনো তার আত্মবিশ্বাস হারায় না।
প্রতিকূল ও সমস্যা সংকুল পরিবেশেও সে পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তার কার্যক্রম চালিয়ে যায়। মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ ব্যক্তির আচরণে সব সময় আত্মতৃপ্তির পরিচয় পাওয়া যায়। এ ধরনের ব্যক্তিরা সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। মানসিক দিক থেকে সুস্থ ব্যক্তিরা তাদের চাহিদার মাত্রা সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকে সব চাহিদা তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মধ্যে থাকে। অবাস্তব চাহিদা সৃষ্টি করে এরা অসুখী হতে চায় না। মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তির কাজের মধ্যে যথাযথ আগ্রহ ও অনুকূল মনোভাব দেখা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি যদি সমাজস্বীকৃত উপায়ে তার চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে, সমাজে কার্যকর ও উপযোগী ভূমিকা পালন করতে পারে এবং নিজেকে সুখী, সক্ষম ও সফল ব্যক্তি হিসেবে মনে করে, তাহলে তাকে মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলা যায়।
Related Question
View Allজন্মের পর থেকে ১৪ দিন বয়স পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলা হয়।
স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বলে।
নারীরা সাধারণত ১৫-৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে সক্ষম। ৫০-৫৫ বছর বয়সে বা তার আগেই অনেকের মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থাকে 'মেনোপজ বলে।
নাঈম HIV ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। প্রাণঘাতী AIDS রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো পরীক্ষা না করে শরীরে রক্ত গ্রহণ করা। আর এইডস রোগের লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন জ্বর ও কাশিতে ভোগা এবং শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।
নাঈমের রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় পরীক্ষা না করেই এক ব্যক্তির রক্ত শরীরে গ্রহণ করে। এর কিছুদিন পর থেকেই সে দীর্ঘদিন জ্বর ও কাশিতে ভোগে। জ্বর ও কাশি না কমায় ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। নাঈমের রোগের লক্ষণগুলো AIDS এর অনুরূপ হওয়ায় বলা যায়, নাঈম AIDS-এ আক্রান্ত হয়েছে।
HIV AIDS যেসব কারণে সংক্রমিত হয় সেগুলোকে HIV AIDS এর ঝুঁকি বলা হয়। HIV AIDS-এর ঝুঁকিগুলো হলো-একই সুঁচ ও সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহার, অপরীক্ষিত রক্ত শরীরে গ্রহণ, অপারেশনের সময় অপরিশোধিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান গ্রহণ, অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক ও HIV আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করানো।
নাঈম অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ করে। সাধারণত অপরীক্ষিত রক্তে HIV ভাইরাস থাকতে পারে। এ রক্ত যে গ্রহণ করবে তার দেহে HIV ছড়াবে। এ কারণেই নাঈম HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।
তাই রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিতে হবে। নয়তো HIV AIDS-আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। সুতরাং নাঈমের অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ যৌক্তিক হয় নি বলে আমি মনে করি।
AIDS প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত করা হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা ও স্বাভাবিকতায় যেসব বিষয় প্রভাব বিস্তার করে সেগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্যের উপাদান বা নির্ধারক বলে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপাদান হিসেবে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিক পরিবেশগত অবস্থাকে বিবেচনা করা হয়। মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের উপাদানগুলোই মানুষের সামগ্রিক বিকাশ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!