হিন্দুধর্মে বিভিন্ন দেব দেবীর পূজা করা হয়। এসব পূজা করার বিভিন্ন রীতি নীতি আছে, যাকে পূজাবিধি বলে।
নিত্যকর্ম অনুশীলন জাগতিক ও পারমার্থিক মঙ্গলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে মন ধীর, স্থির ও শান্ত থাকে। শরীর ভালো ও কর্মঠ থাকে এবং জীবন শুদ্ধ, পবিত্র ও নির্মল হয়। নিত্যকর্ম অনুশীলন করলে যোগ, তপ, সাধনা, কাজ, কর্ম, উপভোগ, আনন্দ, স্ফূর্তি সমস্ত কর্মই ভালো লাগে।
উদ্দীপকে সুশান্তবাবু ভুজঙ্গাসন অনুশীলন করে আরোগ্য লাভকরেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় সুশান্তবাবু কোমর ও পিঠে ভীষণ আঘাত পেয়ে পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হন। চিকিৎসায় সুস্থ হলেও মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যায়। তিনি সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না এবং কোমরের ব্যথায় কষ্ট পান। আরোগ্য লাভের আশায় তিনি পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে গেলে চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি দিয়ে ভুজঙ্গাসন করার পরামর্শ দেন। এ আসনটি অনুশীলন করতে শরীরের সমস্ত মাংসপেশিকে শিথিল করে পা দুটো জোড়া ও লম্বা করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। পায়ের আঙুলগুলো মাটির সাথে লেগে থাকবে। হাঁটু, উরু ও গোড়ালি সোজা থাকবে। দু হাত কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে দু হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দুপাশে মাটিতে রাখতে হবে। এরপর হাতের ওপর অল্প ভর দিয়ে চিবুক উপরে তুলে ঘাড় পিছন দিকে নিতে হবে। সেই সাথে পা থেকে নাভি পর্যন্ত শরীরের নিচের অংশ ভূমিসংলগ্ন রেখে দেহের উপরের অংশ হাতের ওপর বেশি জোর না দিয়ে শুধু বুক ও কোমরের ওপর জোর দিয়ে তুলতে হবে। এ অবস্থায় সমস্ত শরীর শিথিল করে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পেট, বুক, ঘাড় ও চিবুক নামিয়ে ভূমিসংলগ্ন করতে হবে। এরপর ৩০ সেকেন্ড চিৎ হয়ে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
সুশান্তবাবু শুধু শারীরিকভাবেই নন, তিনি এখন মানসিকভাবেও সুস্থ- এ কথাটি সঠিক।
ভুজঙ্গাসন অনুশীলনকারীর শরীর ও মনের সুস্থতার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যা সুশান্তবাবুর ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। ভুজঙ্গাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়। শরীরের নিস্তেজভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জমায়। হৃৎপিন্ড ও ফুসফুস সবল হয়। বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে। অজীর্ণ, ক্ষুধাহীনতা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়। উদ্দীপকে সুশান্ত বাবু সড়ক দুর্ঘটনায় কোমর ও পিঠে ভীষণ আঘাত পেয়ে পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়। চিকিৎসায় সুস্থ হলেও তার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায়। তিনি আরোগ্য লাভের আশায় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে যান। চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি দিয়ে ভুজঙ্গাসন করার পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। অনুশীলন করে, তিনি শুধু শারীরিকভাবেই নয় মানসিকভাবেও সুস্থ হন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভুজঙ্গাসন অনুশীলনের কার্যকারিতা থেকে প্রশ্নে উল্লিখিত বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণিত হয়।
Related Question
View Allগোমুখাসন অনুশীলনে অসমান কাঁধ সমান হয়।
বিনম্রতার প্রতীক হচ্ছে নমস্কার। প্রতিদিন গুরুজনকে নমস্কার করলে তাঁদের প্রতি কখনো খারাপ ব্যবহার, অসম্মান বা অমর্যাদা করার সাহস হয় না। যেখানে শ্রদ্ধাভক্তি ও সম্মানের ভাব থাকে সেখানেই বিনম্রতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য পিতামাতা, বিদ্বান, বয়োবৃদ্ধ ও গুরুজনদেরকে নিত্য নমস্কার করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তী খাওয়ার পরে বজ্রাসন অনুশীলন করছে। কেননা এটিই একমাত্র আসন যা খাওয়ার পর অনুশীলন করা যায়। বজ্রাসন অনুশীলনে হাঁটু ভেঙে পা দুটো পিছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং পায়ের পাতা নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু-পায়ের বুড়ো আঙুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রীবা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর উপর পাতা এবং বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর উপর পাতা। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে। এভাবেই প্রাপ্তী তার আসনটি অনুশীলন করে থাকে।
স্বপ্নার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো ভুজঙ্গাসন। নিচে এ আসনের প্রভাব তুলে ধরা হলো- ১. মেরুদণ্ড নমনীয় হয়; ২. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা ও সরল হয়; ৩. মেরুদণ্ডের বাত সারে; ৪. পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়, কোমরে ব্যথা হতে পারে না; ৫. স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়; ৬. শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়; ৭. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। ৮. বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়; ৯. যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে; ১০. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়; ১১. যারা কোলকুঁজো তাদের বিশের উপকার হয়।
ভুজঙ্গাসন অনুসরণ ও অনুশীলনে স্বপ্নার কোলকুঁজো ভাব ও বাতের ব্যথা সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এর পাশাপাশি তার অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসন অনুশীলনকালে আসন অনুশীলনকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায় তাকে ভুজঙ্গাসন বলে।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'- কথাটি দ্বারা বোঝায় সময়ের কাজ সময়ে করার প্রয়োজনীয়তাকে। নিত্যকর্ম অনুশীলন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। যারা নিত্যকর্ম যথাসময়ে সম্পাদন করতে পারেন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না সময়মতো কোনো কাজ না করে অসময়ে করতে গেলে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টি বুঝাতেই প্রশ্নের কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!