১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে বোঝায়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি দিন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাঙালি জীবন দিয়েছিল। ভাষার জন্য বাঙালির এ মহান আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘভুক্ত সবগুলো দেশে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালি জাতিসত্ত্বার প্রকাশ এবং মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনসাধারণের প্রতিবাদের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক। এ নির্বাচনের ফলাফল পূর্ব বাংলার মানুষকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। উদ্দীপকে এ নির্বাচনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের ছকটিতে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে নৌকা, মোট আসন সংখ্যা ৩০৯ এবং ফলাফলের স্থানে প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২২৩ উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরে নাম হয় আওয়ামী লীগ) নেতৃত্বে মোট চারটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল। জোটের অন্য তিন দল ছিল কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি ও গণতন্ত্রী দল। এর নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। এ নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ৩০৯ টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টিতে জয়ী হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসলিম লীগ সাত বছরেই বাঙালিদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলায় নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করে। শেষ পর্যন্ত গণদাবির মুখে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ (৮-১২ মার্চ) পূর্ব বাংলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নামক জোট জয়লাভ করে।
উদ্দীপকের ছকটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে নির্দেশ করে। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে তাদের জয়লাভের পেছনে কয়েকটি কারণ বিদ্যমান ছিল। জনপ্রিয়তা হারানো মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মধ্য, বাম ও ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক শক্তি বেড়ে যায় এবং নির্বাচনে বিজয় সহজতর হয়। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফ' ভিত্তিক নির্বাচনি ইশতেহার ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়। তাছাড়া বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের বিষয়টি ইশতেহারে প্রাধান্য পায়। এজন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ২১ দফার প্রতি বিপুলভাবে সমর্থন জানায়। এর ফলেই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অনন্য সাফল্য অর্জন করে। নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদৃষ্টিও যুক্তফ্রন্টের জয়ের অন্যতম কারণ ছিল। হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়াদী, মওলানা ভাসানী এবং এ.কে. ফজলুল হকের মতো সুযোগ্য ও জননন্দিত নেতৃবৃন্দ ছিলেন যুক্তফ্রন্টের পরিচালনার দায়িত্বে।
নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে এদেশের ছাত্র ও তরুণ-যুব সমাজেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। মূলত তারাই সাধারণ মানুষের কাছে মুসলিম লীগের শোষণের চিত্র এবং যুক্তফ্রন্টের কল্যাণকামী কর্মসূচি প্রচার করে যুক্তফ্রন্টের প্রতি সমর্থন আদায় করে। তাছাড়া মুসলিম লীগ সরকারের দুর্নীতি, তাদের জনবিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রভৃতি যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল।
সবশেষে বলা যায়, যুক্তফ্রন্ট জোট এবং এর ইশতেহারের প্রতি জনগণ পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল। ফলে তারা ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী করে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
