হজরত উমর ফারুক (রা) অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।
"ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা।"- কথাটির মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের সাম্যবাদের দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা) চরিত্রে সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন ইসলাম ধর্মের একজন প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তি। ইসলামকে তিনি মনে-প্রাণে ধারণ করেছিলেন। ফলে ইসলামের সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর মধ্যে পরিপূর্ণরূপে ফুটে ওঠে। বিশাল মুসলিম জাহানের খলিফা হয়েও তিনি নিজ ভৃত্যকে তাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হননি। ভৃত্যকে তিনি উটের পিঠে উঠিয়ে নিজেই ধরেন উটের রশি। ভৃত্য এতে রাজি না হলে তিনি বলেন ইসলাম ধর্মে সবাই সমান, কেউ বড়-ছোট নেই। ইসলামের এমন সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব রূপই খলিফা হজরত উমর (রা) দেখাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের হজরত আবু বকর (রা)-এর সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুগে যুগে এ ধর্মের বাণী মানুষের মনে শান্তি এনে দিয়ে দিয়েছে। মানুষকে সত্য-ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেছে। ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তি সৎ ও নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে হজরত আবু বকর (রা) একজন আদর্শ শাসক। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা ছিলেন। অসত্যের সামনে তিনি কখনো মাথা নত করেননি। তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমরও অনুরূপ শাসক ছিলেন। তিনি একটি খেজুরপাতার চাটাইয়ে বসে রাজ্য পরিচালনা করতেন। শাসক হিসেবে তিনিও ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা। মানুষের অধিকারের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। জেরুজালেম যাওয়ার সময় তিনি ভৃত্যকে উটের পিঠে চড়িয়ে সাম্যবাদী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য নিজের কাঁধে করে খাবার নিয়ে গেছেন। এভাবে উদ্দীপকের হজরত আবু বকর রা-এর সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা)-এর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
"তাৎপর্যগত দিক থেকে উদ্দীপকের হজরত আবু বকর (রা) ও কবিতার হজরত উমর (রা) একই আদর্শের ধারক"- উক্তিটি যথার্থ।
খলিফা মানে প্রতিনিধি। জনগণের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, অধিকারের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্রের উন্নতি, নিরপেক্ষ বিচার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠাই হলো খলিফা তথা প্রতিনিধির কাজ। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার কারণে খলিফা প্রভৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা)-এর শাসনব্যবস্থার স্বরূপ আলোচিত হয়েছে। তিনি ছিলেন প্রহরীহীন রাজা। কারণ সত্যের ধারক হওয়ায় তাঁকে ভয় গ্রাস করতে পারত না। একজন শাসক হিসেবে সব সময় জনগণের কথা ভাবতেন। তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। তবু রাজ কোষাগার থেকে তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না। তাঁর মধ্যে কোনো লোভ ছিল না। তাঁর এই আদর্শ হজরত উমর (রা)-এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমর ফারুক (রা)-এর জীবনাচার ফুটিয়ে তুলেছেন। হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন প্রকৃত শাসক। অর্ধ পৃথিবীময় তাঁর রাজ্য বিস্তৃত ছিল। তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেননি। শত-সহস্র ঐশ্বর্যও তাঁর মনে প্রলোভন সৃষ্টি করতে পারেনি। তাঁর প্রধান কাজ ছিল প্রজাদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে আদায় করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'উমর ফারুক' কবিতাটি 'জিঞ্জীর' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
হজরত উমর (রা)-কে 'আমিরুল মুমেনিন' বলার কারণ হলো তিনি ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী, বিশ্বাসীদের নেতা।
উমর ফারুক কবিতার হজরত উমর ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বাসী। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনই মানুষের প্রতি করুণায় তিনি ছিলেন কোমলপ্রাণ। তিনি কখনই কোনো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। মূলত তাঁর আদর্শবান ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁকে 'আমিরুল মুমেনিন' বলা হয়েছে।
একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
একজন শাসক মানে শুধু অন্যের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। একজন আদর্শ শাসক হতে হলে তাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। শাসক যদি শাসিতদের দুঃখে সমান দুঃখী না হন তাহলে তিনি কখনো প্রজাবান্ধব শাসক হতে পারবেন না।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানসিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। উমর ফারুক ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বন্যায় তার এলাকা দুর্দশাগ্রস্ত হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। উপরন্তু তার ঘরে বন্যার ত্রাণসামগ্রী চুরি করে রাখতে দেখা যায়। এভাবেই একজন ন্যায়বান ও আদর্শ শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে।
শাসক ও শাসিতের মধ্যে যদি সমঝোতার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তিনি ভালো শাসক হতে পারেন না। একজন প্রকৃত শাসক সব সময় শাসিতদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। শাসিতদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজন ভেবে কাজ করে যান।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। প্রজাদের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন নিবেদিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী চেয়ারম্যানের চরিত্র ভিন্ন। তিনি গ্রামবাসীর বিশেষ প্রয়োজনের সময়ও শুধু নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।
চেয়ারম্যান আব্বাস আলীকে উমরের মতো হতে হলে তার মধ্যে মানবিক দিক জাগ্রত করতে হবে। তার চরিত্রে হজরত উমরের মতো বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা ও অন্যান্য আদর্শের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্রামবাসীর দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলে তবেই আব্বাস আলী চেয়ারম্যান হজরত উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।
'আমির-উল-মুমেনিন' শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।
"সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে" বলতে কবি খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বুঝিয়েছেন।
অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!