আসমানিকে দেখতে হলে রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়িতে যেতে হবে।
আসমানিদের দরিদ্রতার কথা ফুটে উঠেছে প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে।
'আসমানি' কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়, পাখির বাসা যেন। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ভিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটিও তেমনই বোঝাতে কবি একথা বলেছেন। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই সেদিক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে আর ঝড় হলে ঘর নড়বড় করে। কিন্তু এই বাড়িতেই আসমানিদের বছর ভরে থাকতে হয়। এ কারণে কবি আসমানিদের বাড়িকে পাখির বাসার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উদ্দীপকে 'আসমানি' কবিতার আসমানিদের ঘরের শোচনীয় অবস্থার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বাস করে। এদেশের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারে না। তাই তাদের বাসস্থানেও জীর্ণতার ছাপ পরিলক্ষিত হয়।
'আসমানি' কবিতায় কবি আসমানিদের হতদরিদ্র অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন। আসমানিদের ঘরের অবস্থা ও আয়তন এত ছোট যে, পাখির বাসা বলে মনে হয়। ঘরের নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতার ছাউনি দেওয়া। একটু বৃষ্টিতেই সেই পাতার ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে। সামান্য বাতাসে নড়বড় করে। উদ্দীপকের হরিহরের বাড়িটায়ও আসমানিদের মতো দারিদ্র্যের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। বাড়িটা অনেক দিন মেরামত না করায় সামনের দিকের রোয়াক ভাঙা। ঘরের দোর-জানালার কপাট সব ভাঙা, যা নারিকেলের দড়ি দিয়ে গরাদের সঙ্গে বাঁধা। এভাবে উদ্দীপকে 'আসমানি' কবিতার আসমানিদের বাসস্থানের দারিদ্র্যের ছাপের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'আসমানি' কবিতার একটি দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।" মন্তব্যটি যথার্থ।
দারিদ্র্য মানুষের জীবনে বড় অভিশাপ। দারিদ্র্যের কারণে মানুষ অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে হিমশিম খায়। অভাবের যন্ত্রণা তাদের সবসময় তাড়িত করে। আর এই দারিদ্র্যের ছাপ তাদের বাসস্থানেও দেখা যায়।
'আসমানি' কবিতায় কবি দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত আসমানিদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরেছেন। অভাবের তাড়নায় তারা খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না। অসুখের সময় ওষুধ-পথ্য জোটে না। শত চেষ্টা করেও তারা অভাবের হাত থেকে রেহাই পায় না। আসমানিদের বাসস্থানেও রয়েছে জীর্ণতার ছাপ। নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতায় ছাওয়া ঘরটি পাখির বাসার মতো। একটু বৃষ্টিতেই পানি পড়ে, সামান্য বাতাসেই নড়বড় করে। উদ্দীপকের হরিহরের বাড়িটাও আসমানিদের ঘরের মতো ভাঙাচোরা।
উদ্দীপকে 'আসমানি' কবিতার আসমানিদের বাসস্থানের জরাজীর্ণ অবস্থার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু 'আসমানি' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন আসমানি নামের এক দরিদ্র কিশোরীর জীবনধারার করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। আর উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি আলোচ্য কবিতার একটি দিকের প্রতিফলন ঘটালেও সামগ্রিকতা প্রকাশ করে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allআসমানিদের গ্রামের নাম রসুলপুর।
প্রশ্নোক্ত চরণ দুটি দ্বারা দারিদ্র্যের কশাখাতে জর্জরিত আসমানির বিপর্যস্ত রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।
আসমানি দরিদ্র পরিবারের একটি বালিকা। অভাবের তাড়নায় সে পেট ভরে কখনো খেতে পায় না। অনাহারে থাকতে থাকতে শীর্ণ শরীরের হাড় গুনে বের করা যায়। তার মুখের মিষ্টি হাসিটুকু নিভে গেছে অভাবের হিংস্র থাবায়। প্রশ্নোক্ত চরণ দুটিতে এ ভাবই বোঝানো হয়েছে।
আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরটির সাদৃশ্য রয়েছে।
দারিদ্র্য মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আভিশাপ। আমাদের বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যপীড়িত। অভাবের যন্ত্রণায় তারা দিশেহারা। অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে তারা হিমশিম খায়। বাসস্থান তাই তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।
কবিতার আসমানি এবং উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া অভাবের তাড়নায় দিশেহারা। আসমানিদের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। সেটা এত ছোট যে তাকে পাখির বাসা বলে মনে হয়। নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতার ছাউনি দেওয়া। একটুখানি বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। সামান্য হাওয়ায় নড়বড় করে। উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার ঘরও আসমানিদের ঘরের মতো জীর্ণ-শীর্ণ। তাদের একটি মাত্র ঘরের ছাউনি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে। এখানেই আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরের সাদৃশ্য দেখা যায়।
"লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষগুলোর অভাব যেন পিছু ছাড়ে না"- উক্তিটি 'আসমানি' কবিতার আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
অভাব মানুষের মনুষ্যত্ববোধ ধ্বংস করে। ।। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনের স্বপ্ন, আশা, শুভবুদ্ধি অভাবের তাড়নায় শেষ হয়ে যায়। এই অভিশাপের বরুিদ্ধে যুদ্ধ করতে করতেই তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। পরের জমি বর্গা করে কোনোরকমে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু দুবছরের বন্যা ও খরায় জমিতে ফসল ফলাতে পারে না। পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান সে করতে পারে না। লালচাঁন মিয়ার মতো অসংখ্য মানুষ এদেশে রাত-দিন অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে কিন্তু অভাব তাদের পিছু ছাড়ে 'না। এই দৃশ্য 'আসমানি' কবিতায় দারিদ্র্যপীড়িত আসমানিদের বর্ণনার মাধ্যমে কবি তুলে ধরেছেন।
'আসমানি' কবিতায় অসমানিরা দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। অভাবের তাড়নায় তারা তাদের খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না। খেতে না পেয়ে বুকের হাড় জেগে উঠেছে। পাখির বাসার মতো ঘরটি ভেঙে পড়ার উপক্রম। অসুখের সময় ওষুধ-পথ্য জোটে না। শত চেষ্টা করেও অভাবের হাত থেকে তারা রেহাই পায় না। যেমন পায় না উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষেরা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উদ্দীপক ও 'আসমানি' কবিতার আলোকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
আসমানির গলার সুর বাঁশির মতো।
শক্ত ও মজবুত না হওয়ায় আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।
'আসমানি' কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়,। যেন পাখির বাসা। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ভিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটি তেমনই। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, আর সামান্য ঝড় হলেই ঘর নড়বড় করে। এ কারণেই আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!