কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ হলো এক ধরনের প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উৎপাদকের কাছ থেকে কৃষি পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো হয়।
কৃষি সমবায় একটি নিবন্ধনকৃত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠনসমূহ কৃষি ঋণের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। ফলে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ঋণ দানে আগ্রহী হয়। এতে করে কৃষকেরা সহজে ও নিরাপদে কৃষিঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সূচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে। তাই কৃষিঋণ প্রাপ্তিতে কৃষি সমবায় সংগঠন প্রয়োজন।
উদ্দীপকের হাওড় অঞ্চলের চাষিরা কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করায় পিছিয়ে পড়ে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- অধিক উৎপাদনের জন্য কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন। আধুনিক কৃষিতে পাওয়ার টিলার থেকে শুরু করে বহু ধরনের যান্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষিকাজ তথা ফসল উৎপাদন, পশু-পাখি, শস্য পালন সহজতর হয়ে পড়েছে এবং ফলন ও উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্দীপকের হাওড় অঞ্চলের চাষিরা প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন। যার ফলে তাদের উৎপাদন খরচ বেশি হয় এবং সময় ও শ্রম বেশি লাগে। কিন্তু কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে সময়, শ্রম, খরচ এবং লোকবল সবই কম লাগে এবং উৎপাদনও অনেকাংশে বেড়ে যায়।
তাই বলা যায়, অধিক উৎপাদনের জন্য কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকের হাওড় অঞ্চলের চাষিদের 'সমন্বিত ফসল মাড়াই' যন্ত্রটি কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে ক্রয় করা সম্ভব হয়।
কৃষির আধুনিকায়নের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন। কৃষি সমবায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ সংগ্রহ করে থাকে এবং সেগুলোর ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের সক্ষম করে তুলতে পারে। পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিসমূহ যেমন- শস্য পর্যায় অবলম্বন, নিবিড় ও সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসলের নিরাপত্তা বিধান, যান্ত্রিক উপায়ে ফসল সংগ্রহ ও সংগ্র উত্তর পরিচর্যা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং বিপণন সকল ক্ষেত্রেই উচ্চমাত্রার সক্ষমতা এনে দিতে পারে। কিন্তু বর্তমানে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ব্যয়ভার বহন করা একজন কৃষকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য কয়েকজন কৃষক একজোট হয়ে যদি সমবায় গঠন করে তবে এই কাজ সহজেই করা সম্ভব। উদ্দীপকের চাষিরা 'সমন্বিত ফসল মাড়াই' যন্ত্রটি একজোট হয়ে সমবায় গঠনের মাধ্যমে ক্রয় করেন। কারণ সমবায়ের মাধ্যমে এসব যন্ত্রপাতি যত সহজে ক্রয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, ব্যক্তিমালিকানায় তা সম্ভব নয়।
অর্থাৎ উপরিউক্ত উপায়ে হাওড় অঞ্চলের চাষিদের মূল্যবান কৃষি যন্ত্র ক্রয় সম্ভব হয়। এতে তাদের সময়, শ্রম ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যায়।
Related Question
View Allকৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, সংগ্রহোত্তর 'পরিচর্যা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষকগণ যে সমবায় গড়ে তোলেন তাকে কৃষি সমবায় বলে।
একই উদ্দেশ্যে একজোট হয়ে কাজ করাকে সমবায় বলে।
কারো একার পক্ষে যে কাজ সম্ভব নয় তা সমবায়ের মাধ্যমে সকলে মিলে সহজেই করা সম্ভব। জমি ও পুঁজির আনুপাতিক হারে মুনাফার শরিকানা লাভ সমবায়ের মূল ভিত্তি। সমবায় পদ্ধতিতে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয়। তাই অংশীদারকে তার নির্দিষ্ট কাজ সঠিক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এভাবে সমবায় ব্যবস্থা অপরকে সক্রিয় হতে শেখায়।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে পরিমল বাবু মনিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহী কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিমল বাবু সমিতি গঠনের কার্যক্রম সূচনা করেন। এরপর কৃষি সমবায় সমিতির মূল শর্ত তথা বিধিগুলো আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় উপজেলা কৃষি, পশু পালন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেন। সমবায় অধিদপ্তর প্রণীত কৃষি সমবায় প্রণালি অনুসরণ করে তিনি কৃষি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং যথা নিয়মে রেজিস্ট্রি করেন। কেননা সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো তখনই ঋণ দিতে আগ্রহী হবে যখন ঋণ গ্রহীতার নিবন্ধনকৃত পরিচয়পত্র থাকবে, ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের ও পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকবে।
অর্থাৎ, পরিমল বাবু কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য উল্লিখিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে গ্রামের কৃষকগণ গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে সমবায়ের মাধ্যমে 'ফুল নার্সারি' স্থাপন করে।
যশোর জেলার মনিপুর গ্রামের কৃষকদের পক্ষে তাদের সামান্য আবাদি জমিতে এককভাবে অধিক উপার্জনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। মাঠ ফসল যেমন- ধান, পাট, গম, আলু ইত্যাদির আবাদও ঐ সামান্য জমিতে করে লাভবান হওয়া যায় না।
যশোর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সমবায়ের মাধ্যমে গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে নার্সারি গড়ে ওঠায় ঐ এলাকার কৃষকগণ ফুল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে করে তাদের সারা বছর কাজের সংস্থান হয়। কৃষকগণ যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করায় আশানুরুপ ফলন পায়। অর্থাৎ, সমবায়ের মাধ্যমে ঐ সামান্য জমিতে ফুল নার্সারি স্থাপন করে কৃষকগণ অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
তাই বলা যায়, যশোর অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গোমেজ বাবুর গৃহীত কার্যক্রম ও নেতৃত্ব যথার্থ ছিল।
কৃষিকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা হলো কৃষি ঋণ।
কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়।
কৃষক হঠাৎ বিপর্যয়ে যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হলে কৃষি সমবায় কৃষককে প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় কৃষককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বীজ, সার, ঔষধ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। কৃষি পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই কৃষি সমবায়। ফলে কৃষকেরা ঝুঁকি এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করতে পারে। এভাবেই কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!