'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।
বনে প্রায়ই বাঘ বের হতো বলে বেড়াতে যাওয়ার সময় বাবা সঙ্গে বন্দুক নিতেন।
লেখকের স্বপ্নময় কিছুদিন জগদলে কেটেছে। তখন তারা থাকতেন পুরনো এক রাজবাড়িতে। বাড়ির চারপাশ ছিল জঙ্গলে ভরা। সেখানকার গভীর বন থেকে নানা রকম শব্দ কানে আসত। বিচিত্র শব্দে মানুষ ভয়ে শিউরে উঠত। অনেক সময় লেখক বাবার সঙ্গে সন্ধ্যে পর্যন্ত বনে ঘুরে বেড়াতেন। তখন বাবা কাঁধে বন্দুক নিতেন বাঘের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য। কারণ তখন বনে প্রায়ই বাঘ বের হতো, বিশেষ করে চিতা বাঘ।
উদ্দীপকটি 'নিয়তি' গল্পের সঙ্গে কুকুরটির যন্ত্রণাকাতর হওয়ার দিক থেকে সম্পর্কিত।
মানুষ শখ করে নানা রকম পশুপাখি পোষে। পোষা প্রাণীদের মধ্যে কুকুর সবচেয়ে প্রাচীন। জানা যায় আদিমকালে গুহাবাসী মানুষ কুকুর পুষত। কুকুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত প্রাণী।
উদ্দীপকে কুকুর পোষার প্রতি মানুষের ঝোঁক এবং সংক্রামক জাতীয় মরণব্যাধিতে আক্রান্ত কুকুরের আচরণের কথা বলা হয়েছে। এখানে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে কুকুরটি মানুষের পরম বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। কুকুরটি যন্ত্রণায় পাগল হয়ে পড়েছে। উদ্দীপকের কুকুরের এই যন্ত্রণাকাতরতার দিকটি 'নিয়তি' গল্পে কেউটে সাপের ফণা ছিঁড়ে ফেলার ফলে বিষে আক্রান্ত কুকুরের যন্ত্রণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'নিয়তি' গল্পে বেঙ্গল টাইগার নামের কুকুরটি তার মনিবের ছেলেকে বাঁচাতে কেউটে সাপের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ফলে সাপের বিষে কুকুরটি জর্জরিত হয়েছে। আর উদ্দীপকের কুকুরটি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণাকাতর হয়েছে।
সম্পর্ক থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'নিয়তি' গল্পের মূলভাব এক নয়। মন্তব্যটি যথার্থ।
কুকুর সবচেয়ে বিশ্বস্ত পোষা প্রাণী। কুকুর তার মনিবের জন্য জীবন দিতে পারে। কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। শত্রুকে চেনা এবং চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এরা মানুষের সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে মানুষের পরম বন্ধু কুকুর রোগাক্রান্ত হলে কীভাবে চরম শত্রুতে পরিণত হয় তা বর্ণিত হয়েছে। সংক্রামক জাতীয় মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কুকুরটি যন্ত্রণাকাতর হয়ে পাগল হয়ে যায়। তখন মানুষকে কামড়ায়। উদ্দীপকের কুকুরের এই যন্ত্রণাকাতর অবস্থাটি 'নিয়তি' গল্পের কুকুরটির মৃত্যুর আগে সাপের বিষের প্রতিক্রিয়ায় কাতরানোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুস্থ অবস্থায় উদ্দীপকের কুকুরের গৃহকর্তার প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণের দিকটি 'নিয়তি' গল্পের বেঙ্গল টাইগারের সুস্থ অবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও 'নিয়তি' গল্পে লেখক আরও কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'নিয়তি' গল্পে লেখকের মা জগদলের রাজবাড়িতে থাকার সময় সেই বাড়ির কুকুরটির প্রতি আদর-যত্নের ক্ষেত্রে যে মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা উদ্দীপকে নেই। 'নিয়তি' গল্পে লেখক তাঁর শৈশবের স্মৃতিকথা স্মরণ করেছেন। উদ্দীপকের বিষয়টি তেমন স্মৃতিকথা নয়। গল্পে নিজের ছেলের জীবন রক্ষাকারীকে লেখকের বাবা গুলি করে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং নিজে যন্ত্রণাকাতর হয়েছেন। উদ্দীপকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!