অপবিত্রতা দুই প্রকার।
নাজাসাতে হাকিকি হচ্ছে ঐ সকল নাপাক বস্তু যাতে মানুষের মনে স্বভাবত ঘৃণা আসে। প্রত্যেকে এগুলো থেকে নিজের শরীর, জামাকাপড় ও অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসপত্র বাঁচিয়ে রাখতে চায়। ইসলাম এসব থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। যেমন- প্রস্রাব-পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি।
হাফসা বেগমের মন সবসময় প্রফুল্ল থাকে। কারণ তিনি সর্বদা শরীর পবিত্র রাখেন। পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়া ও কাজকর্মে মন বসে। আল্লাহ তায়ালাও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন : "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবসেন।" (সূরা আত্-তাওবা : ১০৮)
রাসুলুল্লাহ (স.) স্বয়ং পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি তাঁর উম্মতকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন এবং পবিত্র থাকার জন্য বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, “পবিত্রতা ইমানের অংশ।” (মুসলিম)
অসুস্থ অবস্থায় হাফসা বেগম তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবেন। পবিত্রতা অর্জনের উপায় হচ্ছে ওযু ও গোসল করা। আর ওযু ও গোসল পানি দিয়ে করতে হয়। কিন্তু কখনো পানি পাওয়া না গেলে বা পানি ব্যবহার করার কারণে ব্যক্তির সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে, তখন তায়াম্মুম করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। তায়াম্মুম হলো পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা আল-মায়িদা : ৬) সুতরাং যদি অবস্থা এমন 'হয় যে পানি পাওয়া যাচ্ছে না অথবা পানি পাওয়া গেলেও তা ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধি বা প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, এমনটি ডাক্তার বলেন, তখন তায়াম্মুম করেই পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। সেহেতু বলা যায়, হাফসা বেগম পবিত্রতা অর্জনের জন্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে তায়াম্মুম করেন।
Related Question
View Allইবাদত শব্দের অর্থ হলো- আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলা।
আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন” (সূরা আত-তাওবা : ১০৮)। সালাত ও তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। এছাড়া পবিত্রতা ইমানের অঙ্গস্বরূপ। তাই আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন।
শরীফ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ সকল প্রকার ইবাদত করার চেষ্টা. করে। সে তার বন্ধু আরিফকেও সালাতের জন্য আহ্বান করে। এসব কাজের দ্বারা বোঝা যায়, শরীফ একজন মুমিন মুসলমান।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, “আর আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয যারিআত : ৫৬)। এজন্য কোনো মানুষ ইমান আনার সাথে সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে।
এছাড়া সে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধান যথা: সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি পালন করে। ব্যক্তিজীবনে সততা অবলম্বন করে, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে। সবার কল্যাণে কাজ করে। এগুলোই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের শরীফের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বস্তুত সে নামায আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করার চেষ্টা করে বিধায় তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরিফ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামায পড়া হতে বিরত থাকে, সে আরও বলে- শুধু যে আমি একা ইবাদত করি না তাতো নয়। অনেকেই তো আছে যারা কোনো প্রকার ইবাদত করে না। তাদের যা হবে আমারও তাই হবে। আরিফের এরূপ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরি। রাসুল (স.) বলেছেন, "মুমিন ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো- সালাত পরিত্যাগ করা।” তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" আর কুফরির পরিণাম জাহান্নাম। আরিফ শুধু নামাযই পরিত্যাগ করেনি, সে তার কথায় আল্লাহর প্রতি চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশের জন্যও সে জাহান্নামে যাবে। কারণ ইবলিশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কারণে আল্লাহর অভিশাপে নিপতিত হয় এবং চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামি হয়। মানুষকে সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কেউ যদি ইবাদত না করে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি ইবাদত না করে এবং বলে অন্যদের যা হবে আমারও তা হবে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি হতে সে রেহাই পাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা কুফরি কর, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
সালাত আদায়ের অন্যতম কারণ হলো- এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এবং তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর' (সূরা আল বাকারা : ৪৩)। তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরতি রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত : ৩৫)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!