যে সকল প্রতিষ্ঠান দেশের আইন পরিষদের বিশেষ আইনের মাধ্যমে সরকারি নীতি ও আদর্শের আওতায় একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন পরিচালনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত হয়, তাকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে।
যে ব্যক্তি সাংগঠনিক কাজগুলো সম্পন্ন করেন তাকে বলে উদ্যোক্তা। উদ্যোন্তা বলতে সংগঠনকে বোঝায় না কারণ, সংগঠন হলো একটি দক্ষতা বা পুণ এবং উদ্যোক্তা হলেন সেই দক্ষতা বা গুণ ব্যবহারকারী ব্যক্তি। এ কারণে সংগঠক দৃশ্যমান। অন্যদিকে, সংগঠন হলো এক কর্মনৈপুণ্য। এটি বস্তুগত নয় বলে দেখা যায় না। উদ্যোক্তাকে এ কর্মনৈপুণ্য কাজে লাগাতে হলে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। তাকে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সংগ্রহ, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, উৎপাদনের ঝুঁকি নিতে হয়, উৎপাদনে নতুনত্ব প্রবর্তন করতে হয়, ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত এসব দেখা যায় না, তবে এর ফল ভোগ করা যায়। এ জন্যই বলা হয়, 'সংগঠক দৃশ্যমান হলেও সংগঠন অদৃশ্যমান'।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাবিবা বেগম বেসরকারি সংস্থা তথা এনজিও হতে ঋণ নিয়েছেন।
সাধারণত এনজিও বলতে এমন কতকগুলো বেসরকারি সংস্থাকে বোঝায় যারা ক্ষুদ্র ঋণ দানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন বা সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মুনাফাবিহীন এবং অ-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এছাড়া এনজিও দরিদ্র জনগণকে ক্ষুদ্র ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত হাবিবা বেগম একটি বেসরকারি সংস্থা হতে ঋণ নিয়ে নিজ বাড়িতে একটি জাল তৈরির মেশিন স্থাপন করেন। এতে তার জীবনে স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। আবার উত্ত বেসরকারি সংস্থাটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করে। যা এনজিও ধারণার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ এনজিওগুলো দেশের মধ্যে অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা না করতে পারলে বিদেশি দাতা সংস্থা বা উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। কাজেই বলা যায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটি একটি এনজিও।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থা ও এরূপ অন্যান্য সংস্থাগুলো তথা এনজিওগুলো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নানাভাবে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এনজিওগুলো দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান দান, বিভিন্ন পেশার জন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদান ইত্যাদি। এছাড়াও এনজিওগুলো গ্রামের বেকার যুবক-যুবতীদেরকে মাছ চাষ, ফল ও ফুলের বাগান তৈরি, হাঁস-মুরগি পালন ও তার প্রশিক্ষণ, স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে কুটিরশিল্প স্থাপন, পানের বরজ তৈরি, মৌমাছি চাষ ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাতে-কলমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।
আবার, এনজিওগুলো সমাজের সর্বস্তরে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারা নারীদের বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। তাছাড়া এনজিওগুলো নারীদের হাঁস-মুরগি পালন, ধান ভাঙা, নার্সারি, বেতের কাজ, গরু মোটাতাজাকরণ ইত্যাদি কাজের উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত ও সহায়তা করছে। এছাড়া তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য পেতে সহায়তা করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি এনজিও যেমন- ব্র্যাক, প্রশিকা,
আশা, শক্তি ফাউন্ডেশন, কেয়ার, সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, টিএমএসএসসহ ইত্যাদি এনজিওগুলো আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত, এ সকল এনজিওগুলো দরিদ্র জনগণকে ক্ষুদ্র ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে থাকে। উপরে উল্লিখিত উপায়ে বাংলাদেশে এনজিওগুলো আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Related Question
View Allউৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের কাজকে সংগঠন বলে।
উৎপাদনের উপকরণগুলোকে সংগঠনের মাধ্যমে সমন্বয় করে উৎপাদন কাজটি সঠিকভাবে পরিচালনা করেন একজন সফল উদ্যোক্তা।
সংগঠন হলো এক কর্মনৈপুণ্য; বস্তুগত নয়। উদ্যোক্তাকেই এ কর্মনৈপুণ্য কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। এছাড়া তিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সংগ্রহ, তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন, মূলধন সংগ্রহ ও উৎপাদনক্ষেত্রে শ্রমবিভাগের মাত্রা নির্ধারণ করেন। আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে বড় ও জটিল হয়ে পড়ায় সেখানে জনবল ও প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ সমস্যার সমাধান এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়ে ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উদ্যোক্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এজন্যই আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় উদ্যোক্তাকেই সংগঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ হওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে মূলধন স্বল্পতার কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি খাতের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও পরিলক্ষিত হয়। তবে বেসরকারি খাতের পরিসর খুবই সীমিত। বেসরকারি উদ্যোগে ভারী শিল্প স্থাপন এখনও এদেশে ব্যাপক প্রসার ঘটেনি। কিন্তু মূলধন নিবিড় শিল্প বা ভারী শিল্প স্থাপন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের শিল্প স্থাপনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আবার, বেসরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মুনাফা অর্জন। এজন্য দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য দেখা দেয়। এছাড়া তাদের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন হওয়ায় যে মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয় তা নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশে NGO-গুলোর কার্যক্রম খুবই সীমিত। এদের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম দ্বারা মুনাফা অর্জন করা। কিন্তু একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুধু ক্ষুদ্র পরিসরে চিন্তা করলে চলবে না। আবার, সমবায়সহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ও উচ্চ মুনাফা আকাঙ্ক্ষার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থ অর্জিত হলেও জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। তাই বাংলাদেশে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা প্রভৃতিসহ অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণে সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে কীভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ এগিয়ে যেতে পারে, তা নিচে উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো:
একটি দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি উদ্যোগ সীমিত হলেও দেশের (বিশেষত গ্রামীণ) অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এনজিওগুলো দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান দান, বিভিন্ন পেশার জন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ইত্যাদি। এছাড়াও এনজিওগুলো গ্রামের বেকার যুবক-যুবতীদেরকে মাছ চাষ, ফল ও ফুলের বাগান তৈরি, হাঁস-মুরগি পালন ও তার প্রশিক্ষণ, স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে কুটিরশিল্প স্থাপন, পানের বরজ তৈরি, মৌমাছি চাষ ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাতে-কলমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি স্বার্থের পরিবর্তে সমষ্টিগত স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বৃহদায়তনে উৎপাদন পরিচালনা করতে পারে। এতে দেশীয় সম্পদের সুষম বণ্টন হবে, মধ্যস্থ ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে এবং সর্বোপরি সামাজিক উন্নয়ন দ্বারা দেশ এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি। উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি হ্রাস করতে পারলে সরকারি খাতের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
এভাবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
NGO-এর পূর্ণরূপ হলো- Non Government Organization
একজন সংগঠক উৎপাদনের সকল উপাদানকে সংগ্রহ ও সমন্বিত করে উৎপাদনকে সফল করে।
উৎপাদন ক্ষেত্রে কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, সমন্বয়-সাধন, পরিকল্পনা প্রণয়ন, মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো একজন সংগঠককে পরিচালনা করতে হয়। আর এগুলো দক্ষতার সাথে না করতে পারলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই বলা হয়, সংগঠকের দক্ষতার ওপর একটি সংগঠনের সাফল্য নির্ভর করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!