একটি নগরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সেই নগরের নাগরিকে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বলে।
বসতি গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলবায়ুর ভূমিকা অপরিসীম।
শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে এক ধরনের বসতি আবার শীতল জলবায়ু অঞ্চলে অন্য ধরনের বসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। উত্তর কানাডা ও গ্রীনল্যান্ডে শীতকালে এস্কিমোরা 'ইগলু' নামক গম্বুজাকৃতির বরফের ঘরে বাস করে আবার, যখন গ্রীষ্মকাল আসে তখন তারা সীলমাছের চামড়া দিয়ে তাঁবু দ্বারা ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে। এভাবে জলবায়ু বসতি স্থাপনে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাবিবের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়, সেখানে কিছুটা পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে উঠেছে। যেসব অঞ্চলে কৃষিকাজের খুব একটা গুরুত্ব নেই সেখানে কিছুটা পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে।
নওগাঁ জেলায় পুঞ্জীভূত 'বসতির আওতার মধ্যে পড়ে। কারণ সেখানে বাড়িঘরগুলো কিছুটা পুঞ্জীভূত। এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট কম থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলতে এ অঞ্চলে সামান্য কৃষিকাজ হয়। ব্যবসায়-বাণিজ্যেও তেমন অগ্রসর নয়। কিছু কিছু গ্রামে মৎস্য চাষ হয়। এছাড়া গ্রামের গৃহকর্মীরা হস্তশিল্পজাত পণ্য তৈরি করে পরিবারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা অবদান রাখে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন উন্নত নয়।
উদ্দীপকে হাবিবের নিজ এলাকা নওগাঁ জেলা যেখানে কিছুটা পুঞ্জীভূত বসতি এবং তার পড়তে আসা অঞ্চলটি হলো রাঙামাটি জেলা যেখানে রৈখিক বসতি গড়ে উঠেছে। নিচে কিছুটা পুঞ্জীভূত বসতি এবং রৈখিক বসতির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
ছোট ধরনের বা কম পুঞ্জীভূত বসতিকে কিছুটা পুঞ্জীভূত ধরনের বসতি বলে। যেসব অঞ্চলে কৃষিকাজের তেমন গুরুত্ব নেই সেখানে কিছুটা পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের বরেন্দ্র ভূমির পূর্বাংশ, মৃতপ্রায় বদ্বীপ অঞ্চল, রাজশাহীর পশ্চিমাঞ্চল, সিলেটের পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের বসতি দেখা যায়। এসব অঞ্চলে রাস্তাঘাট কম থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। অন্যদিকে বিভিন্ন বসতি অন্যরকম। বাংলাদেশের পার্বত্য দুর্গম এলাকায় যেসব উপজাতীয় বসতি গড়ে উঠেছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন। মুরং, কুকি, ত্রিপুরা প্রভৃতি উপজাতীয় বসতিগুলো ঝরনার কাছাকাছি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে। রংপুর, দিনাজপুর সীমান্তবর্তী এলাকার কোচ উপজাতিদের বসতিগুলো বিচ্ছিন্ন প্রকৃতির। সিলেট ও চট্টগ্রামের চা বাগান এলাকা, বান্দরবান, রাঙামাটি প্রভৃতি এলাকায় অনেকাংশে বিভিন্ন বসতি গড়ে ওঠে।
এ ধরনের বসতি সাধারণত পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হয়। এ ধরনের বসতিটিতে একটি বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম থাকে। বাংলাদেশেও পার্বত্য এলাকায় বিচ্ছিন্ন বসতি গড়ে উঠেছে।
Related Question
View All৫০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট নগরকে মেগাসিটি বলে।
গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের উদ্বৃত্ত পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বীকৃত জনজমায়েতকে গ্রামীণ হাট বলে।
গ্রামীণ জীবনযাত্রায় হাটের ভূমিকা অসামান্য। বৃহত্তর অর্থে গ্রামীণ পরিসরে হাট হচ্ছে আর্থসামাজিক স্নায়ুকেন্দ্র। এ হাটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভোগ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মানুষের উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রয় এবং চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ক্রয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাটের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি হলো ঢাকা, যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি গড়ে উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরও ঢাকায় অবস্থিত। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ঢাকায় অবস্থিত।
এক কথায় বাংলাদেশের যাবতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই ঢাকাকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু বলে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো ঢাকা অঞ্চল এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো রাজশাহী অঞ্চল। এ উভয় অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যা ঘনত্বের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
ঢাকা হলো সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকায়। এর আয়তন ৩১,১২০ বর্গ কি.মি. এবং জনসংখ্যা ৪,৯৩,২১,৬৮৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব। ১,৫১২ জন। মোট নগর সংখ্যা ৪০টি। ঢাকায় প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপক আকারে থাকায় এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত সুবিধা সরকারি বেসরকারি অফিসের অবস্থান; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সদর দপ্তরের অবস্থান, বড় বড় হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি ব্যাপক আকারে থাকায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। তাই ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
অন্যদিকে রাজশাহী হলো বাংলাদেশের তৃতীয় জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের আয়তন ১৮,১৯০ বর্গ কি.মি.। মোট জনসংখ্যা ১,৯২,২৫,৯০৯ জন এবং ঘনত্ব ১,০১৮ জন। এ অঞ্চলে ৮টি নগর রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় বসবাসের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করলেও ঢাকার মতো এত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কিছু নিয়ামকের তারতম্যের জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য হয়।
যে বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে বহু দূরে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ হাটগুলো গড়ে ওঠার পেছনে কারণগুলো হলো স্থানীয় চাহিদার উদ্বৃত্ত চালান, দূরবর্তী পরিব্রাজক সেবা প্রদান, অনুকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদনদীর অবস্থান, চাহিদার তারতম্য প্রভৃতি l
যে অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উর্বর, রাস্তাঘাট কাঁচাপাকা বা আধাপাকা এবং কয়েকটি অঞ্চলের সাথে সড়ক ও নদীপথে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা থাকে সেসব অঞ্চলে হাটগুলো গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ হাট গড়ে উঠে বাজারসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মধ্যে তারতম্য হলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!